যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধার ভাতা থেকে শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র বিতরণ

0
181

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ঃ একজন যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা তার প্রাপ্ত ভাতা থেকে গরীব অসহায় ও শীতার্ত মানুষের মাঝে শীতবস্ত্র (কম্বল) বিতরণ করেছেন। ২৫ জানুয়ারী শুক্রবার সকাল ৯টায় তার নিজ বাড়িতে শতাধিক গরীব অসহায় শীতার্ত মানুষের মাঝে উৎসব করে এই কম্বল বিতরণ করেন। এ সময় ওয়ার্ড যুবলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন খান, আওয়ামীলীগ নেতা মতলেব ফকির ও আলী আহাম্মদ নক্তি উপস্থিত ছিলেন।

বিগত কয়েক বছর যাবৎ সমাজের গরীব অসহায় মানুষের মাঝে নগদ অর্থ ও শীতবস্ত্র বিতরণ করে এক বিড়ল নজির সৃষ্ঠি করেছেন শরীয়তপুর পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ড স্বার্ণঘোষ গ্রামের বাসিন্দা যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার। গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে পারলে তিনি আনন্দবোধ করেন। আগামী বছর বেঁচে থাকলে তার জন্মদিনে আবারও এ উাৎসব করবেন বলে আশা ব্যাক্ত করেছেন তিনি।

তিনি একজন আদর্শবান স্কুলশিক্ষক ছিলেন। শিক্ষকতা থেকে অবসর গ্রহন করে সমাজসেবা, তৃণমূলে আওয়ামীলীগ রাজনীতি ও সাংবাদিকতা পেশায় নিযুক্ত হন। তিনি মাদার তেরেসা গোল্ড মেডেল, শেরে বাংলা শান্তি পদক, সীমান্ত কালচারাল ফাউন্ডেশন পদক-২০১৫, সীমান্ত কালচা রাল ফাউন্ডেশন পদক-২০১৬, ২১ শে সম্মাননা স্মারক পদক, গুনিজন সংবর্ধনা সম্মাননা

স্মারক-নিউজ বিডি ডটকম পদক, সম্মাননা পদক এসএসসি ক্লাব’৯৮-২০১৮ পদকে ভূষিত হয়েছেন। তিনি যুদ্ধাপরাধ মামলার একজন বাদী ও সাক্ষি বটে। বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের একজন তৃণমূল কর্মী হিসেবে নিজেকে পরিচিত করতে গর্ববোধ করেন তিনি। তিনি বর্তমানে শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সধারণ সম্পাদক, সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম মুক্তিযুদ্ধ’৭১ এর জেলা শাখার সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। মুক্তিযুদ্ধ চলাকলিন গেরিলা পদ্ধতিতে যুদ্ধ করেছেন তিনি।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সৈনিক ও তৃণমূলে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ এবং শেখ হাসিনার কর্মী। আমার দায়িত্ববোধ ও মানসিকতা থেকে সমাজে গরীব অসহায় মানুষের মাঝে এ কম্বল বিতরণ করলাম। আগামী বছর বেঁচে থাকলে আমার জন্মদিনে কম্বল বিতরণ করব।

আমি কীভাবে আছি সেটা বিষয় না। আমি প্রয়োজনে তিন বেলার পরিবর্তে ২ বেলা খেয়ে অর্থ যুগিয়ে সমাজের গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াব। শীতবস্ত্র ক্রয়ে অর্থের উৎস কি ভাবে হলো জানতে চাইলে তিনি বলেন, যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে বর্তমান সরকার আমাকে প্রতি মাসে ২৫ হাজার টাকা ভাতা প্রদান করেন। সেই টাকা থেকেই আমি গরীব অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে চেষ্টা করি। সমাজের গরীব অসহায় মানুষের পাশে আগামীতে যেন আরো বেশী দাঁড়াতে পারি সেই বিষয়েও নজর রাখব।

তিনি আরও বলেন, আমার জীবনটাই একটা সংগ্রাম। স্কুল জীবন থেকেই জাতীকে মুক্ত করার সংগ্রাম শুরু করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু যেমন ভূ-খন্ড, দেশ ও পতাকা দিয়ে গেছেন আর বঙ্গবন্ধু কণ্যা শেখ হাসিনা বিশ্ব দরবারে আমাদেরকে পরিচিত করছেন। আমি মনে করি আমি যুুদ্ধের মধ্যেই আছি। যতদিন জীবিত আছি ততদিন মুক্তিযুদ্ধের সংগ্রাম করতে করতেই পরজগতে চলে যাব।