খালি পেটে বেশি সময় থাকলে কী হয়?

0
123

সকাল বেলা আমরা এতটাই ব্যস্ত থাকি যে, আর সকালের খাবার ঠিক মতো খাওয়া হয় না। স্বামী বা বাচ্চাকে খাবার তৈরি করে দেয়া, বাড়ির সকলের খাবার বানাতে গিয়ে বিশেষ করে মহিলাদের আর খাওয়া হয়ে ওঠে না। এটা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। খালি পেটে থাকার ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে জেনে নিন-

খালি পেটে বেশি সময় থাকলে গ্যাস হতে পারে। সেই কারণে বুক ব্যথা বা মাথা ব্যাথা ও পিঠ ব্যথা হতে পারে। এছাড়াও খালি পেটে বেশি সময় থাকলে পিত্তথলী থেকে পিত্ত রস বের হয়। যেটা পাকস্থলীতে গ্যাস্ট্রিক আলসার সৃষ্টি করতে পারে। অনেক সময় খালি পেটে থাকলে গলব্লাডারে পাথর হতে পারে। এর কারণে রক্তে গ্লুকোজ সরবরাহ ঠিক মতো হয় না। যার জন্য লিভার খারাপ হয়ে যায়। এসব রোগে বেশিরভাগ সময় নারীরাই আক্রান্ত হয়ে থাকেন। তাই খালি পেটে বেশি সময় না থেকে কিছু না কিছু খেতেই হবে।

ডায়বেটিসের রোগীরা বেশি সময় খালি পেটে থাকলে তা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। এ জন্য রক্তে গ্লুকোজের মাত্রা কমে যাওয়ার কারণে আপনি অজ্ঞানও হয়ে যেতে পারেন। এছাড়াও সুগার লেভেল কমে গেলে নানা রকম সমস্যা হতে পারে। মুখ দিয়ে গ্যাসও বের হয়ে যেতে পারে। তাই সুগারের রোগীদের কোনোভাবেই খালি পেটে থাকা ঠিক নয়। এছাড়াও কিডনি, হার্ট বা সিরোসিস অফ লিভারের সমস্যা থাকলে খাবার ঠিক সময় মতো খেতে হবে। এসব রোগীরা খাবারে অনিয়ম করলে নানা রকম সমস্যা হতে পারে।

খাবারের নিয়ম: একজন প্রাপ্ত বয়স্ক মানুষের প্রতিদিন চারবার খেতেই হবে। সকালের নাস্তা, দুপুরের খাবার, সন্ধ্যে বেলার খাবার ও রাতের খাবার। প্রতিবেলা খাবারের মধ্যে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় বিরতি রাখতে হবে। এভাবে নিয়ম করে খেলে করলে শরীর ঠিক থাকবে। নাহলে নানা রকম সমস্যা দেখা দিতে পারে। আপনার প্রতিদিনের খাবারের পরিমাণ কতটুকু হওয়া উচিত তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করে নিন। ওজন, শারীরিক গঠন, উচ্চতা এসবের উপর খাওয়ার পরিমাণ নির্ভর করে থাকে। তবে স্বাভাবিকভাবে সকালে ও দুপুরের খাবার একটু বেশি পরিমাণে খেতে হবে। সন্ধ্যা থেকে ক্রমশ খাবারের পরিমাণ কমাতে হবে। এ চার বারের মধ্যেও যদি ক্ষুধা লাগে তবে ফল জাতীয় খাবার খেতে পারেন।

প্রত্যেকেরই চিকিৎসকের পরামর্শ মতো ডায়েট চার্ট ঠিক করে নেয়া উচিত। ঘড়ি ধরে প্রতিদিন নিয়ম মেনে খাবার খাওয়ার সুফল অনেক। যেমন: আপনি সকালের নাস্তা ৭ টা থেকে ৮ টার মধ্যে করতে পারেন। কারণ সকালের নাস্তা না করে সরাসরি দুপুরের খাবার খেলে এসিডিটি হতে পারে। এর ফলে শক্তি উৎপাদন হবে না। সেই সঙ্গে কাজ করার ক্ষমতাও অনেক কমে যাবে। তাই সকালের নাস্তা অবশ্যই করতে হবে। আর দুপুরের খাবার ১২ টা থেকে ১ টার মধ্যে করাই ভালো। সন্ধ্যের খাবার ৫ টা থেকে ৬ টার মধ্যে খেতে পারেন। রাতের খাবার অবশ্যই ৯ টা থেকে ১০ টার মধ্যে করার চেষ্টা করতে হবে। সবচেয়ে ভালো হলো রাতের খাবার ৮ টার মধ্যে খাওয়া। কারণ প্রাচীনকাল থেকে দেশের সাহেবরা তাদের ডায়েট চার্ট অনুযায়ী রাত ৮ টার মধ্যে খাবার খেতেন।

সতর্কতা: সকালের খাবার বাদ দিয়ে দুপুরের খাবার খাওয়া যাবে না। সকালে কিছু না খেতে পারলেও কমপক্ষে এক গ্লাস দুধ খেতে হবে। আর এরপরও যদি কখনো কাজের চাপে সকালের নাস্তা বাদ পড়ে যায় তবে দুপুরের খাবারে কখনো তৈলাক্ত খাবার খাবেন না। তা শরীরের জন্য খুবই ক্ষতিকারক। যারা চাকরি করেন তারা ব্যাগে অবশ্যই বিস্কুট বা কুকিজ জাতীয় খাবার রাখবেন। এছাড়াও প্রতিদিন একটি করে ফল খাওয়ার চেষ্টা করবেন। আর যারা বিভিন্ন রোগের কারণে নিয়মিত ওষুধ খান তাদের এসব বিষয় সম্পর্কে ভীষণভাবে সতর্ক হতে হবে। রাতের খাবার খুবই হালকা হতে হবে। রাতে কোনো ভারী খাবার খাওয়া যাবে না।