টিকটক একটি মানসিক ব্যাধি!

0
99

২০১৭ সালে যখন বেইজিংভিত্তিক প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্স কিশোরদের অন্যতম জনপ্রিয় অ্যাপ মিউজিক্যালি কিনে নেয় তখন কেউ কল্পনাও করেনি, আসলে কী হতে যাচ্ছে!তবে চলতি বছর সেই অধিগ্রহণ সম্পন্ন হলে হুট করেই যেন বিশ্বজুড়ে একটা হইহই রব তোলে মিউজিক্যালি বদলে বাইটড্যান্সের দেয়া নাম ‘টিকটক’ অ্যাপ। সেই রবেই এখন বেড়ে গেছে অ্যাপটির ডাউনলোডের পরিমাণ। কিন্তু জানেন কি এটি এখন মানসিক ব্যাধি হয়ে দাঁড়িয়েছে?

এখন কাউকে কোনো প্রশ্ন করা হলেই তিনি উত্তর দেন ‘এই মনে করেন ভাল্লাগে… খুশিতে… ঠ্যালায়… ঘোরতে…’। এই সংলাপটির জন্ম আরো অনেক আগে হলেও, টিকটক ভিডিওর মাধ্যমেই সম্প্রতি এটি আবার আলোচনায় উঠে আসে।

সচরাচর দর্শকদের বিনোদন দেয়ার জন্যই টিকটকের সাহায্যে ভিডিও আপলোড করা হয়। কিন্তু এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলোর জন্য সেই আপলোডকারীকে জীবনের ইতি টানতে হয়েছে! আবার কিছু ক্ষেত্রে আপলোডকারীকে বহু হয়রানির মধ্য দিয়েও যেতে হয়েছে। এমনই কিছু ঘটনা সম্পর্কে জানুন-

ভারতীয় এক যুবক মেয়েদের কাপড় পরে মেয়েদের রূপে অভিনয় করে সেই ভিডিও টিকটকের মাধ্যমে সোশ্যাল মিডিয়ায় আপলোড করে। সাধারণ মানুষ যখন ছেলেটিকে ভিডিওতে মেয়েদের রূপে এভাবে অভিনয় করতে দেখে, তখন তাকে নিয়ে মজা করতে শুরু করে। এবং লোকজনের এসব মজা অপমানের এমন পর্যায়ে চলে গিয়েছিল যে সেই ছেলেটি আর সেটা মেনে নিতে পারেনি। একপর্যায়ে ছেলেটি আত্মহত্যার পথ বেছে নিতে বাধ্য হয়।

ইয়েঙ্ক নামে চায়নার লাইভ স্ট্রিমিং গার্ল তার সুরেলা কন্ঠে লাইভ গান গেয়ে টিকটকে ভিডিও বানিয়েছিল এবং লাখো মানুষের মন জয় করে নিয়েছিল। এক বছরের মধ্যে একটি ভিডিও সাইটের পক্ষ থেকে ৭ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রজেক্টও মিলেছিল ইয়েঙ্কের। সমস্যা তৈরি হয় তখন, যখন ইয়েঙ্কে চায়নার জাতীয় সঙ্গীতটি একটু ভিন্নভাবে গেয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করে। যেটি চায়নার মানুষ খুবই অপছন্দ করে।

চায়না পুলিশের জানায়, এটি ছিল তাদের জাতীয় সঙ্গীতের বিরাট অপমান। এই কারণে পাঁচ দিন জেলখানায় কাটাতে হয়েছিল ইয়েঙ্ককে এবং মুক্তির পর সোশ্যাল মিডিয়াতে সাধারণ মানুষের কাছে ক্ষমাও চাইতে হয়েছিল তাকে। একজন টিকটক ইউজার ভারতীয় প্রদেশ পাঞ্জাবের চিফ মিনিস্টার নরেন্দ্র সিংয়ের এর ভিডিও প্রকাশ করেছিল। যে ভিডিওতে চিফ মিনিস্টারকে খুব ধীরগতিতে কিছু বলতে দেখা যাচ্ছিলো। এই ভিডিও দেখে মনে হয়, হয়তো তিনি মদ্যপ কিংবা নেশাগ্রস্ত অবস্থায় ছিলেন। কিন্তু সত্যিকার অর্থে এসবের কিছুই ছিল না। সে এই ভিডিওটিকে এডিটিং করে টিকটকে ছড়িয়ে দিয়েছিল। কিন্তু সেই আপলোডকারী ধারণা করতে পারেনি এই ছোট্ট একটি ভিডিও তার জীবনে বিপদ ডেকে আনতে যাচ্ছে। এই ভিডিওটি চিফ মিনিস্টারের ভাবমূর্তি নষ্টকারী একটি ভিডিও হিসেবে গণ্য করে বিভিন্ন ধারায় সেই ছেলেটিকে শাস্তির বিধান দেয়া হয়।

চায়নাতে মার্সিডিজ বেঞ্জ গাড়ির লোগো খুলে ফেলার ভিডিও টিকটকে ভাইরাল করা হয়েছিল। অনেকেই নিজের মার্সিডিজের লোগো খুলে ভিডিও প্রকাশ করেছিল। এসব ভিডিও থেকে উৎসাহিত হয়ে আবার কেউ কেউ অন্যদের গাড়ির লোগো চুরি করে সংগ্রহ করছিল। এরই পরিপ্রেক্ষিতে হুয়োং নামের একজনকে গ্রেফতার করা হয়, যার ঘরে ১২টি মার্সিডিজের লোগো পাওয়া গিয়েছিল! এরমধ্যে একটি ছিল তার নিজের বাকিগুলো সে অন্য পন্থায় অর্থাৎ চুরি করে সংগ্রহ করেছিল।

এই উদাহরণগুলো থেকে একটি বিষয় পরিষ্কার, মজা করার জন্য কিছু করার আগে অবশ্যই ভেবে নিতে হবে যে এর পরিণাম কি হতে পারে, বিশেষ করে সোশ্যাল মিডিয়ায়। সীমা ছাড়িয়ে গিয়ে কোনো কিছু করাই ঠিক নয়। মনে রাখবেন সোশ্যাল মিডিয়ায় আপনি যা-ই প্রকাশ করছেন, আপনি পরবর্তীতে তা ডিলিট করে দিলেও, কোথাও না কোথাও সেটা থেকে যাচ্ছে, পৃথিবীর কোনো না কোনো প্রান্তে কেউ না কেউ সেটা ডাউনলোড করে রাখতে পারেন, এমনকি আবার ব্যবহারও করতে পারেন। তাই এই মানসিক ব্যাধি থেকে দূরে থাকাটাই শ্রেয়।

উল্লেখ্য, বর্তমানে অ্যাপটির ডাউনলোডের পরিমাণ ১০ কোটির বেশি। টিকটক জনপ্রিয়তা পাওয়ায় এখন বিশ্বের সবচেয়ে দামি স্টার্টআপের তকমা পেয়েছে। বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির বাজারমূল্য সাত হাজার ৫০০ কোটি ডলার।