চাঁপাইনবাবগঞ্জ সফরে ভারতীয় হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব

0
154

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জের ব্যবসায়ীদের সাথে মত বিনিময় করেছেন ভারতীয় রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব মি. অজয় কুমার মিশ্রা। শনিবার দুপুরে শহরের পুরাতন বাজারস্থ চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বার মিলনায়তনে মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সিনিয়র সহ-সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল হান্নান হান্নু।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের আয়োজনে মতবিনিময়কালে উপস্থিত ছিলেন মি. অজয় কুমার মিশ্রা’র সহধর্মীনি মিসেস অঞ্জণা মিশ্রা, মেয়ে অনকিতা মিশ্রা ও অনামিকা মিশ্রা। পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও গীতা পাঠের মধ্য দিয়ে শুরু হওয়া মতবিনিময় সভা পরিচালনা করেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সহ-সভাপতি আব্দুল হান্নান মাস্টার।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের সভাপতি মো. এরফান আলী জরুরী কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় মি. অজয় কুমার মিশ্রাকে সভাপতির পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানান অনুষ্ঠানের সভাপতি ও অন্যান্য পরিচালকগণ ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন পণ্য তুলে দেন মি. অজয় কুমার মিশ্রা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের হাতে।

সোনামসজিদ স্থলবন্দর দিয়ে আমদানী পণ্য পরিবহনে মহদীপুরে বিভিন্ন সমস্যা, আমদানী কারক দের পণ্য আমদাণীতে খরচ বৃদ্ধি, ব্যবসায়ীদের ভিসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা, ভিসা পদ্ধতি সহজিকরণ, উভয় দেশের কাষ্টমস এর সময় সমন্বয়সহ বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে বক্তব্য রাখেন চেম্বারের সহ-সভাপতি মনোয়ারুল ইসলাম ডালিম, পরিচালক আলহাজ্ব এ্যাড. লুৎফর রহমান ফিরোজ, সোনামসজিদ আমদানী-রপ্তানী কারক গ্রুপের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম সেন্টু, সোনামসজিদ সিএন্ডএফ এ্যাসোসিয়েশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট আলহাজ্ব বাবুল হাসনাত দুরুল, রাবেয়া জুট মিলের মালিক আলহাজ্ব মো. রেজাউল ইসলামসহ অন্যরা।

মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় আন্তরিকভাবে সহযোগিতা করায় ভারতীয় সরকারের কাছে কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বক্তারা বলেন, ভারত বাংলাদেশের বন্ধু দেশ, তারপরও ব্যবসায়ীদের মাল্টিপুল ও মেডিকেল ভিসা নিয়ে ভারতে যাওয়া আসার বিষয়ে একটি জিটলতা চলছে। মাল্টিপুল ভিসা থাকলেও মেডিকেল ভিসা নিতে গেলে মাল্টিুপুল ভিসা বাতিল করায় আবারও ব্যবসায়ীদের নতুন করে মাল্টিপুল ভিসা করতে হচ্ছে।

এছাড়া সাধারণ ভিসা প্রাপ্তির ক্ষেত্রে কোন কারণে ভিসা না দেয়া হলে, সে কারণ কখনো উল্লেখ করা হয় না। ফলে সাধারণ ভিসা আবেদনকারীরা বিষয়টি পরিস্কার হতে পারেন না। ভিসা পদ্ধতি আরও সহজ করার অনুরোধ জানান বক্তারা। পণ্য আমদানী রপ্তানী বিষয়ে বিভিন্ন জিটলতার কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, সোনামসজিদ স্থলবন্দরে অবোকাঠামো উন্নয়ন হলেও ভারতের মোহদীপুরে তেমন কোন অবোকাঠামোগত উন্নয়ন না হওয়ায় পূর্বে দিনে প্রায় ৬ শতাধিক ট্রাক প্রবেশ করলেও এখন ট্রাক প্রবেশ করে আড়াইশ।

ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ রহনপুর রেলবন্দরকে স্থলবন্দরে রুপান্তর করলে আমদানী সমস্যাগুলো অনেক টায় কমে আসার কথা উল্লেখ করেন। মোহদীপুর কাস্টমসে নানা বিড়ম্বনার কথা তুলে ধরে বক্তারা বলেন, নানা অযুহাত দেখিয়ে কালক্ষেপন করায় আমদানীকারকদের পণ্যে খরচ বেশী হয় এবং সেই খরচ পণ্যের উপর বর্তায়। ফলে পণ্যের মূল্য বেশী পড়ে। মহোদীপুরের স্ক্যানার মেশিনও সংস্কারের অনুরোধ জানানো হয়।

রাস্তা প্রসস্তকরণের মাধ্যমে খুব সহজেই এই সমস্যা সমাধান করার কথা বলেন ব্যবসায়ী নেতৃ বৃন্দ। নতুন আমদানীকারকদের প্রাথমিক ভিসা দেয়ার আহবান জানান বক্তারা। ব্যবসা বা ভ্রমনে যাওয়ার জন্য চেম্বারের পরিচালকদের বিশেষ সুবিধা দেয়ার বিষয়ে অনুরোধ জানানো হয় মত বিনিময় সভায়।

সভায় উত্তরাঞ্চলের মধ্যে শীর্ষ জুট মিল রাবেয়া জুট মিলের মালিক আলহাজ্ব রেজাউল ইসলাম বলেন, গত ৩১ অক্টোবর এক অগ্নিকান্ডে মিলের অনেক ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মিলের অনেক যন্ত্রাংশ ক্রয় করতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীক দিক থেকে ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মালামাল সরবরাহের ক্ষেত্রে প্রতি নিধির মাধ্যমে না হয়ে সরাসরি আদান প্রদানে বিষয়ে ভারতীয় রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব মি. অজয় কুমার মিশ্রার সু-দৃষ্টি কামনা করেন।

মতবিনিময় সভায় ভারতীয় রাজশাহী বিভাগীয় সহকারী হাই কমিশনের দ্বিতীয় সচিব অজয় কুমার মিশ্রা বলেন, স্থলবন্দর দিয়ে পণ্য আমদানী বা ভিসা সংক্রান্ত জটিলতাগুলো দুই দেশের মন্ত্রী পর্যায়ে এসব সমস্যা নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা হবে। তিনি বলেন, ভিসার জন্য ভারত সরকারকে কোন চার্জ দিতে হয় না, চাজ দিতে হয় বাংলাদেশে। নিরাপত্তাজনিত কারণে অনেক সময় ভিসা দেয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা অবলম্বন করা হয়।

বাংলাদেশের ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সকল ক্ষেত্রে উন্নয়নের আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, ব্যবসায়ীদের ভিসা সংক্রান্ত বিষয়ে তাঁর দেশের সরকারের প্রতিনিধিদের সাথে কথা বলে সমাধানের আশ্বাস দেন। এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ চেম্বারের পরিচালক মো. মাইনুল ইসলাম, এম কোরাইশী মিলু, শেখ আহসান হাবিব মিন্টু, মো. শাজাহান আলী (সাজা), মো. বাহরাম আলী, মো. গোলাব হোসেন, মো. মহসীন আলী-২, রুহুল হোদা পলাশ, উজায়ের রহমান তপন, হায়দার আলী, আনোয়ার হোসেন বাবু, জেলা পুলিশের ডিএসবি বিভাগের ওসি মো. মনিরুল ইসলাম, চেম্বারের সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান মুকুল, জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব আব্দুল মালেক, চেম্বারের সচিব বঙ্কিম চন্দ্র দাসসহ পরিচালকগণ ও অন্যান্য ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

পরে তিনি চেম্বার ভবনের পার্শ্ববর্তী সীতারাম মন্দির পরিদর্শণ করেন। এসময় সদর উপজেলা পুজা উদযাপন কমিটির সভাপতি অধ্যাপক কনক রঞ্জন দাস, গৌরি চন্দ সিতুসহ রামসীতা মন্দির কমিটির সদস্যরা ও হিন্দু সম্প্রদায়ের স্থানীয় গণ্যমান্য লোকজন উপস্থিত ছিলেন।