বিজয় ৭১ সংগঠন থেকে ডা. আয়াজ সিকদার বহিস্কৃত !

0
15

মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের সংগঠন বিজয় ৭১ এর কার্যকরী কমিটির জরুরী সভা গত ১লা ফেব্রুয়ারি বিকেল তিনটায় কদম মোবারক স্কুল প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযোদ্ধা শ্যামল মিত্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় প্রথম পর্বে সংগঠনের নবনির্বাচিত কমিটির পরিচিতি ও সম্মতি পত্র গ্রহণ করা হয়। এ সময় সর্বসম্মতিক্রমে সংগঠনবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত থাকায় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পদে মোহাম্মদ ডা.আয়াজ শিকদারকে বিজয় ৭১ সংগঠনের সকল কার্যক্রম হতে বহিষ্কার ঘোষণা করা হয়।

জরুরী সভায় কার্যকরী কমিটির সদস্যরা অভিযোগ করেন, অভিযুক্ত ডা.মোহাম্মদ আয়াজ সিকদার সংগঠনের সংবিধান বিভিন্ন সময়ে সাংবিধানিক নিয়ম বহির্ভূত কার্যক্রমে লিপ্ত থাকেন। সংগঠনের সদস্যদের সাথে দুর্ব্যবহার ঝগড়া-বিবাদ সংগঠনের নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন জনকে বিভ্রান্ত অপপ্রচার স্বাধীনতা বিরোধীদের সাথে আঁতাত ও মুক্তিযুদ্ধ বিরোধী সাম্প্রদায়িক কথাবার্তায় সকলে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে।

বক্তারা মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের সকল সদস্যকে বিজয় ৭১ এর নাম ব্যবহার করে চাঁদাবাজি দল গঠন ও আর্থিক কোনো কার্যক্রমে জড়িত না হওয়ার এবং সকলকে এব্যাপারে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।

তাই জরুরি সভার মাধ্যমে উপস্থিত সকলে একযোগে স্বাক্ষর প্রদান করে সংগঠন হতে বহিষ্কার এর আবেদন জানালে নবনির্বাচিত কমিটি হতে তার সদস্যপদ খারিজ করে বহিষ্কার করা হয় এবং বহিষ্কার পত্র প্রদান করা হয়।

জরুরী সভায় সংগঠনের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নিলু কান্তি দাশ নীলমণি বলেন, অসাম্প্র দায়িক বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার অঙ্গীকার বিজয়৭১ বিগত ছয় বছর যাবৎ বিভিন্ন জাতীয় সামাজিক ও কল্যাণ মূলক কর্মকান্ড পরিচালনা করে আসছে।

বিগত নির্বাচন পূর্ব মুহূর্ত হতে যখন বিজয় ৭১এর কর্মীরা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন বাস্তবায়নের লক্ষ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, বিজয় দিবস পালন করেছে, ঠিক সেই মুহুর্তে কিছু সংখ্যক স্বাধীনতাবিরোধী কুচক্রী মহলের প্ররোচনায় ডা. মোহাম্মদ আয়াজ সিকদার বিভিন্ন ধরনের সংগঠন বিরোধী অপপ্রচার না চালানোর জন্য বারবার চেষ্টা করা হলেও আমরা ব্যর্থ হয়েছি।

এই মুহূর্তে সংগঠনের স্বার্থে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার স্বার্থে তাকে বহিষ্কার করা ছাড়া আর কোনো বিকল্প নাই। সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক ডা. মোহাম্মদ জামাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, সংগঠনের সভাপতি সজল চৌধুরী,কার্যকরী সভাপতি জসিম উদ্দিনচৌধুরী, সাবেক সাধারন সম্পাদক লায়ন ডা. আর কে রুবেল, প্রকৌশলী টি কে সিকদার, সহ সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা অমর কান্তি দত্ত, ডা. সুভাষ চন্দ্র সেন, সাংগঠনিক সম্পাদক রাজীব চক্রবর্তী, শিক্ষীকা নীলা বোস, অধ্যক্ষ রতন দাশ গুপ্ত, লায়ন শিবু প্রসাদ ভদ্র, অধ্যক্ষ এম. সোলাইমান কাসেমী।

আরো উপস্থিত ছিলেন, ফটিকছড়ি থানার সভাপতি আহমেদ গানিউল আজম তালুকদার, হাট হাজারী থানার সভাপতি ডা. মোঃ কামাল উদ্দিন, ডা. আলী আকবর, সাংবাদিক এস.ডি জীবন, সাংবাদিক ওসমান সরওয়ার, এ কে এম রেজাউল হক সিকদার, মিলন কান্তি দাস, দিদারুল ইসলাম, ডা, এস এম কামরুজ্জামান, সুরেষ দাশ, সৈয়দা শাহানা আরা বেগম, ডা. প্রণব কান্তি মজুমদার, ডা.এস কে পাল সুজন, প্রচার সম্পাদক জনি বড়–য়া, মোহাম্মদ জাহিদ আলম শেখ, ইমরান সোহেল, রিংকু ভট্টাচার্য, সুমন চক্রবর্তী, প্রকৌশলী সৌমেন বড়–য়া, এডভোকেট জুলিয়েট টেলসানো, সুমন চৌধুরী, একরামুল হক বাবুল চৌধুরী, মোঃ ফারুক হোসেন, ডা. বেলাল হোসেন উদয়ন এবং সংগঠনের সকল কর্মকর্তা ও সদস্য বৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার দ্বিতীয় পর্বে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস পালনের লক্ষ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করা হয় এবং পরবর্তী সভায় এ বিষয়ে ব্যাপক ভাবে আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।