বিদ্যালয় মাঠে নির্মান সামগ্রী, শ্রেনী কক্ষে নির্মান শ্রমিক !

0
190

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: মাঠের পুরো অংশ জুড়ে রয়েছে নির্মান সামগ্রী আর শিশু শ্রেনীতে থাকছেন নির্মান শ্রমিকরা । মাঠেই টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন গরম করায় বিষাক্ত ধোঁয়ায় পড়াশুনা তো দুরের কথা বিদ্যালয়ে থাকাই দায় হয়ে পড়েছে শিক্ষার্থীদের। এটি কোমলমতি শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠিত লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা ইউনিয়নের কাজিরহাট বানীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিগত ১৫ দিনের চিত্র।

শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও অভিভাবকরা জানান,স্থানীয় কোমলমতি শিশুদের শিক্ষার আলোয় আলোকিত করতে কাজিরহাট বানীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। বিদ্যালয়টির একশত একজন শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য শিক্ষক শিক্ষিকা রয়েছেন ৫ জন।

শিক্ষার্থীদের কোলাহল ও হই হুল্লোরে মুখোর থাকত বিদ্যালয়টির খেলার মাঠ। গত ১৫ দিন ধরে বিদ্যালয়টির সেই ছোট্ট মাঠটি দখল করেছে রাস্তা সংস্কার কাজের নির্মান সামগ্রী। শুধু মাঠেই নয়,বিদ্যালয়ের প্রাক প্রাথমিকের জন্য সজ্জিত করন শিশু শ্রেনীসহ দুইটি কক্ষ দখল করে নির্মান শ্রমিকদের জন্য রাত্রি যাপনের ব্যবস্থা করেছেন নির্মান কাজের ঠিকাদার।

এতেই শেষ নয়, বিদ্যালয় মাঠেই টায়ার পুড়িয়ে বিষাক্ত বিটুমিন গরম করা হচ্ছে। বিটুমিন ও টাওয়ার পোড়ানোর বিষাক্ত সীসায় শ্বাসকষ্টসহ নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছে কোমলমতি শিশুরা। বিদ্যালয় মাঠের বালু ও পাথরের ধুলোয় পড়াশোনার পরিবেশ বিনষ্ট হচ্ছে। এমন পরিস্থিতির কারনে অভিভাবকরা প্রতিবাদ করেও কোন সুফল না পেয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে পাঠানো বন্ধ করেছেন অনেকেই।

বিদ্যালয়টির ৫ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী বিনা আক্তার, নুপুর, আছপুল খাতুন ও চন্দনা রানী জানান, মাঠে নির্মান সামগ্রী রাখায় খেলাধুলা ও শরীর চর্চা দীর্ঘ ১৫ দিন ধরে হচ্ছে না। বিটুমিন পুড়ানোর সময় দুর্গন্ধে ও কালো ধোঁয়ায় ক্লাশেও থাকা যায় না। শিক্ষকদের কাছে এটি বন্ধ করার দাবি করেও কোন সুফল হয়নি। এরই মধ্যে বেশ কয়েকজন সহপাঠি শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়ে বিদ্যালয়ে আসা বন্ধ করেছে বলেও জানায় তারা। এটি দ্রুত সড়াতে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করেন তারা।

নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন বৃদ্ধ জানান, পাশে পরিত্যাক্ত জমি থাকলেও ভাড়ার টাকা দেয়ার ভয়ে বিদ্যালয় মাঠে ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে নির্মান সামগ্রী রাখছেন ঠিকাদার। টায়ার পুড়িয়ে বিটুমিন গরম করার সময় দুর্গন্ধে বাড়িতে থাকা দায়। সেখানে কোমলমতি শিশুরা কি ভাবে থাকে। প্রতিবাদ করেও কোন কাজ হয়নি। ঠিকাদার সমাজ কল্যান মন্ত্রীর আত্মীয় হওয়ায় অভিযোগে কোন কাজ হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।

সড়ক নির্মান কাজের ঠিকাদার সাবু মিয়া বলেন, রাস্তা সংস্কার কাজটিও সরকারী তাই সরকারী বিদ্যালয় মাঠে নির্মান সামগ্রী রাখা কোন অন্যায় নয়। সব সময় তো থাকবে না। আর মাত্র কয়েক দিনেই কাজ শেষ হবে।

কাজিরহাট বানীনগর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম জানান, ঠিকাদার ক্ষমতার দাফট দেখিয়ে জোরপুর্বক মাঠ দখল করে নির্মান সামগ্রী রেখেছেন। বিষয়টি মৌখিক ভাবে অবগত করলে ৭দিন আগে সরেজমিনে দেখে যান উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার রনবীর রায়। তবুও এর কোন প্রতিকার পাননি বলে দাবি করেন তিনি।

সড়কের সংস্কার কাজের তদারকিতে আসা জেলা প্রকৌশল দফতরের ল্যাব সহকারী রাজ্জাক আলী জানান, বিদ্যালয় মাঠে নির্মান সামগ্রী রাখা ও পরিবেশ দুষনকারী টায়ার পুড়ানো ঠিক নয়। বিধিমত ঠিকাদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা নবেজ উদ্দিন জানান, শ্রেনী কক্ষ তো দুরের কথা বিদ্যালয় মাঠেও নির্মান সামগ্রী রাখার নিয়ম নেই। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়া হবে বলেও জানান তিনি।