একই সাথে মধু ও প্রোলেন সংগ্রহ করছে মৌমাছি

0
32

শরীয়তপুর প্রতিনিধ ঃ মধুর চাইতে প্রোলেনে ঔধধিগুন হাজাগুন বেশী তাই মধুর পাশাপাশি ডিজিটাল পদ্ধতিতে প্রোলেন সংগ্রহন করা হচ্ছে মৌমাছি দিয়ে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ উৎপাদন, সংরক্ষন ও বিতরণ (তৃতীয় পর্যায়) পকল্পের একটা অংশ হিসেবে মৌ-চাষ হাতে হাতে নিয়েছে।

১৮১ প্রকার পুষ্টিগুন সম্পন্ন মধু সংগ্রহের পাশাপশি মৌমাছি পরাগায়ণের মাধ্যমে ফসলের উৎপাদন বৃদ্ধি করতে সক্ষম। সেই সাথে মৌমাছি পিছনের পায়ের সাথে প্রোলেন সংগ্রহ করছে। প্রোলেন ও মধু পুষ্টির চাহিদা পূরনের পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা রাখছে।

প্রতি রবিসশ্যের মৌসুমে শরীয়তপুর জেলার নড়িয়া-জাজিরা উপজেলা সহ অন্যান্য উপজেলায় পাঁচ শতাধিক মৌ-চাষী হাজার হাজর মৌ-বাক্স বসিয়ে মধু সংগ্রহ করে। এছাড়াও প্রায় ১০টি স্থায়ী মৌ-চাষ প্রকল্প রয়েছে এ জেলায়।

এ বছর সিরাজগঞ্জ জেলার মো. আব্দুর রশিদ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরীক্ষামূলক মৌ-চাষ প্রকল্পে আশার আলো মৌ-খামার প্রকল্প নিয়ে নড়িয়া উপজেরার মোক্তারের চর এলাকায় এসেছেন। শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীট তথ্য বিভাগের প্রফেসর ড. শাখাওয়াত হোসেন একজন মৌ গবেষক ও বিজ্ঞানী। ড. শাখাওয়াত হোসেন এর সহযোগীতায় শের-ই বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেজিএফ এর মাধ্যমে আধুনিক মৌ-বাক্স সরবরাহ করা হয়েছে খামারী আব্দুর রশিদকে।

নড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রোকনুজ্জামান ও কৃষি সম্প্রসারণ কর্মকর্তা মো. নাজমুল হুদা মৌ-চাষে খামারী আব্দুর রশিদকে সহায়তা করছেন। খামারী আব্দুর রশিদ তার খামার থেকে শুধু মধুই না মৌ-বীষ, পোপলিজ, প্রোলেনও উৎপাদন করছেন। এই মধু সংগ্রহের পাশাপাশি পরাগায়ণের মাধ্যমে ১৫ থেকে ২০ ভাগ ফসল বৃদ্ধির সহায়তা পাচ্ছে কৃষক।

নড়িয়া উপজেলা কৃষি অফিসার কৃষিবিদ রোকনুজ্জামান বলেন, মধু, প্রোলিন/পরাগরেণু, মৌ-বিষ, পোপলিস, রিওয়াকর্স সহ ৬টি উপাদান পাওয়া যায় এ মৌ-চাষ থেকে। মৌমাছি ফসলে পরাগায়ণ করে ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ফসল বৃদ্ধি করে। যার ফলে কৃষক কীটনাশক মুক্ত ফসল উৎপাদন করতে পারে।

যেহেতু মৌ-চাষ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর কৃষক পর্যায়ে উন্নতমানের ডাল, তেল ও মসলা বীজ
উৎপাদন, সংরক্ষন ও বিতরণ (তৃতীয় পর্যায়) পকল্পের একটা অংশ মৌ-চাষ। তাই আমরা মৌ-চাষীদের পাশে থেকে মৌ-চাষে উদ্বুদ্ধ করছি। নড়িয়া উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার মো. নাজমুল হুদা বলেন, আমি মৌ চাষের উপর ৩ মাসের প্রশিক্ষণ করেছি। মৌ-খামারীদের পাশে থেকে ডিজিটাল পদ্ধতিতে মৌ-চাষে পরামর্শ দেই। খামার বিস্তার ঘটাতে ও পোকামাকড়ের আক্রমন থেকে রক্ষা করতে মৌ-চাষীদের সহায়তা করে থাকি।

তিনি আরও বলেন, একটা মৌ-রাণী প্রতিদিন গড়ে আড়াই হাজার ডিম দিয়ে থাকে। সেই ডিম থেকে লাভরা হয়। একটা মৌ-মাছির ৩ জোড়া পা থাকে। পিছনের এক জোড়া পা’কে বােেস্কটটাইপ পা বলা হয়। সেই পায়ের সাথে প্রোলেন আসে। তা ডিজিটাল পদ্ধতিকে সংগ্রহ করা হয়। প্রতি কেজি পেলেনের মূল ১০ হাজার টাকারও বেশী। আদ্রতা নিয়ন্ত্রণ না করে মধু সংরক্ষণ করা হলে সেই মধুতে পুষ্টিগুণ কম থাকে। তাই সঠিক সময়ে মধু সংরক্ষনে খামারীকে সহায়তা করে থাকি।

জমির মালিক আব্দুল বারেক চোকদার বলেন, এই খামার থেকে ১০০ ভাগ খাটি মধু উৎপাদন হয়। আমি খামারির কার্যক্রম ও মধু সংরক্ষণ পদ্ধতিতে আকৃষ্ট হয়ে আমার জমিতে মৌ-চাষের অনুমতি দিয়েছি। এখান থেকে খাঁটি মধু পাওয়া যায় বলে দূরদূরান্ত থেকে লোকজন মধু নিতে আসে। খাঁটি মধু ক্রয় করতে এসে নড়িয়া উন্নয়ন সমিতির (নুসা) প্রধান হিসাব রক্ষক মো.

ইউনুছ আলী বলেন, শতভাগ খাঁটি মধুর পাওয়ার আশায় এখানে এসেছি। আমি ৩ কেজি মধু কিনব। বিগত বছরেও এ সকল খামার থেকে মধু সংগ্রহ করেছি। মৌ-খামার থেকে মধু কিনে এ পর্যন্ত আমি প্রত্যারিত হইনি।

মৌ-খামারী আব্দুর রশিদ বলেন, এ বছর সরিসা ফুল থেকে ৪ টন মধু সংগ্রহ করেছি। ধনিয়া, লিচু ও কালোজিরা ফুল থেকে আরো ৩ টন মধু সংরক্ষণ করতে পারব বলে আমি আশাবাদী। আমার সংরক্ষিত মধু প্রাণ কোম্পানীকে সরবরাহ করি। তিনি আরও বলেন, যে এলাকায় ফুল ফোটে সেখানেই মৌ-বাক্স নিয়ে চলে যাই।

প্রায় ৩০ বছর ধরে আমি মৌ-খামারের সাথে সংযুক্ত। এ বছর থেকে আমি কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরীক্ষামূলক ডিজিটাল পদ্ধতির মৌ-চাষ করছি। রাজশাহী, দিনাজপুর ও সুন্দরবনসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় মধু সংগ্রহ করি।

এবার শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মোক্তারের চর এলাকায় মধুর বাক্স বসিয়ে মধু সংরক্ষন
করছি। এ এলাকায় প্রচুর মধু পাওয়া যায়।