শত বছরের পুরনো শালবনটি হতে পারে দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র

0
88

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার নওদাবাস ইউনিয়নের কয়েক শত বছরের পুরনো শালবনটি হতে পারে সম্ভাবনাময় দর্শনীয় পর্যটন কেন্দ্র। প্রতিদিন শালবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের টানে দূরদূরানত্ম থেকে ছুটে আসছে শত শত ভ্রমণবিলাসী পর্যটক। সেখানে গিয়ে পড়তে হচ্ছে নানা দুর্ভোগের মুখে।

লালমনিরহাট জেলা শহর থেকে প্রায় ৪৩ কিলোমিটার দূরে শালবনটির অবস্থান। সড়কপথে খুব সহজে সেখানে পৌঁছে যাওয়া যায়। পাকা রাসত্মার ধারে কয়েক শ’ বছরের পুরনো শালবনটির অবস্থান। কাগজেকলমে শালবনের জমির পরিমাণ ৮২ একর। এ বনের পাশে ব্যক্তিমালিকানাধীন দু’টি জোত রয়েছে। নামেমাত্র বন বিভাগের বিট কর্মকর্তার তত্ত্বাবধানে শালবনটি রয়েছে। সেখানে সর্বৰণিক কাউকে পাওয়া যায় না।
প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা শালবনটির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হয়ে সেখানে নানা বয়সের মানুষ পরিবার-পরিজন নিয়ে বেড়াতে যায়। শীত মৌসুমে এ সংখ্যা বেশি। শহরের কোলাহলে হাঁপিয়ে ওঠা মানুষ গ্রামীণ পরিবেশে একটু প্রাকৃতিক সানি্নধ্য পেতে সেখানে ছুটে যায়। গিয়ে তাদের পড়তে হয় নানা হয়রানির মুখে। এলাকার একটি চিহ্নিত গ্রুরূপ সেখানে আসা দর্শনার্থী, তরম্নণ- তরম্নণীদের নগদ অর্থ, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিচ্ছে হরহামেশা। প্রতিবাদ করলে তাদের নামে মিথ্যা অজুহাত দিয়ে নাজেহাল করা হয়।

শালবনটিতে পুরনো শালগাছ, সৃজন করা বেতবনে বনটিয়া ও নানা জাতের পাখির কিচিরমিচির শব্দ মানুষকে মুগ্ধ করে। এছাড়াও বনে রয়েছে নানা প্রজাতির পাখি। বন্যপ্রাণীর মধ্যে রয়েছে শিয়াল, বনবিড়াল, বেজি, গুইসাপ ও সাপ। শীত মৌসুমে বনে নানা প্রজাতির অতিথি পাখির সমাগম ঘটে। শালবনটিতে সারাবছর বেত, ফুটকিসহ নানা জাতের বনফুল ফোটে। এ বনফুলগুলো বনটির সৌন্দর্যকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। বনটি সম্পর্কে তেমন প্রচার নেই। তাই স্থানীয়রা ও দূরের কয়েক গ্রামের লোকজন সেখানে পিকনিক করতে আসে। পিকনিক পার্টির জন্য সেখানে কোন স্থাপনা বা কোন সুযোগ সুবিধা নেই।

দর্শনার্থীদের পানি পানের একটি নকলকূপ পর্যনত্ম নেই। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তা ও সামান্য সুযোগ সুবিধা গড়ে তুললে হাতীবান্ধার শালবনটি হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র ও পিকনিক স্পট। এ শালবন ঘিরে সৃষ্টি হতে পারে কয়েক শ’ বেকার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ। তাই এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, শালবনটিকে ঘিরে এখানে একটি পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠবে। এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠলে এলাকার বেকার ছেলেমেয়েদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে।

সারাদেশে এমনকি বিদেশেও শালবনটির মাধ্যমে লালমনিরহাটের পরিচিতি লাভ করবে। বনটির চারপাশে প্রাচীর নির্মাণ, রেস্ট হাউজ নির্মাণ ও বনে নানা প্রজাতির প্রাণী ছেড়ে দিয়ে সেখানে গড়ে তোলা সম্ভব প্রাণীর অভয় অরণ্য। তাহলে সেখানে গ্রামীণ প্রাকৃতিক পরিবেশে পর্যটন শিল্প গড়ে উঠবে।

হাতীবান্ধা এলাকার লেখক ও সাংবাদিক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, এসব পর্যটন কেন্দ্রের সম্ভাবনা বিকাশে বিশাল অট্টালিকা বানানোর প্রয়োজন নেই। পর্যটন মৌসুমে ছোট ছোট ঘর বানিয়ে পর্যটকদের থাকার ব্যবস্থা করে দিলে আর কিছু অবকাঠামোগত উন্নয়ন করলেই এখানে পর্যটন কেন্দ্র গড়ে উঠতে পারে।’পর্যটন বিকাশের মধ্য দিয়ে এ এলাকার উন্নয়ন ঘটবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

স্থানীয় চেয়ারম্যান অশনি কুমার বসুনিয়া জানান, এই শালবনটি জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করলে আমদের সীমান্তবর্তী এই এলাকায় অনেক কর্মসংস্থান বেড়ে যাবে। বেকারত্ব দূর হবে।

স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে ও হাতীবান্ধা উপজেলার রাস্তাঘাট ব্যবসা বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উন্নতির লক্ষে শালবনকে দ্রুত পর্যটন হিসেবে ঘোষণা দিবে সরকার। এই প্রত্যাশা করেন স্থানীয়সহ লালমনিরহাট বাসী।