বাগেরহাটে হঠাৎ ঝড়ে ২ শতাধিক কাঁচাঘর বিধ্বস্ত অর্ধকোটি টাকার শুঁটকি মাছ নষ্ট

0
86

শেখ সাইফুল ইসলাম কবির.সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, বাগেরহাট: বাগেরহাটে আকষ্মিক হঠাৎ ঝড়ে বাগেরহাটের  সদরসহ ৯টি উপজেলায় ২ শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হয়েছে। মঙ্গলবার সকালে এই ঝড়ের কবলে পড়ে বাগেরহাট সদরের খানপুরে আহত হয়েছে ৮ জন। আহতদের উদ্ধার করে বাগেরহাট সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি পল্লীর প্রায় অর্ধকোটি টাকা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

ঝড়ে আহতরা হলেন, বাগেরহাট সদর উপজেলার খানপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ খানপুর গ্রামের শেখ জাকির হোসেন (৫২), মাদরাসা ছাত্র ফরিদ হোসেন (১৩), মা সাফিয়া বেগম (২৪) মেয়ে রাফমিন (৪), ময়না (১৫), লাকি বেগম (৩২), হাবিব (৪৮) ও আফরিনা (৩৫)।সব থেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলো হচ্ছে, বাগেরহাট পৌরসভার হাড়িখালি, সদর উপজেলার খানপুর, ষাটগম্বুজ, কাড়াপাড়া, ডেমা, বেমরতা ও রাখালগাছি ইউনিয়ন।

এছাড়া বঙ্গোপসাগরের সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলারসহ মোংলার পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়াঘাট এলাকায় ডুবে গেছে একটি ড্রেজার। বাগেরহাট সদর, কচুয়া, ফকিরহাট, রামপাল ও মোংলা শত-শত গাছ পালা ভেঙ্গে গেছে। বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুতের খুটি উপড়ে ও তার ছিঁড়ে পড়ায় চারটি উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।  ঝড় ও দিন ভর বৃষ্টিতে সুন্দরবনের দুবলার শুঁটকি পল্লীর প্রায় অর্ধকোটি টাকা মাছ নষ্ট হয়ে গেছে।

ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা তৈরি করতে স্ব স্ব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন জেলা প্রশাসন।শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিংকন বিশ্বাস জানান, ঝড়ের ক্ষয়ক্ষতির ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া হয়েছে। বজ্রপাতের সময় কেউ যাতে বাইরে না থাকে সেব্যাপারে সবাইকে শতর্ক থাকতে হবে। ক্ষতিগ্রস্তরা আবেদন করলে সরকারের তরফ থেকে সহায়তা প্রদান করা হবে।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক তপন কুমার বিশ্বাস বলেন, মঙ্গলবার সকালে কালবৈশাখী ঝড়ে জেলার বিভিন্ন বিভিন্ন উপজেলায় দুই শতাধিক কাঁচা ঘরবাড়িসহ শত-শত গাছপালা পড়ে গেছে। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্থদের তালিকা করতে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

দুবলা ফিশারমেন গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক মো. কামাল আহমেদ মোবাইল ফোনে জানান, ঝড়-বৃষ্টিতে দুবলার চরের আলোরকোল, মেহেরআলীর চর, নারকেলবাড়িয়া,অফিস কিল্লা ও মাঝের কিল্লা শুঁটকি পল্লীর প্রায় ৫০ লাখ টাকার শুঁটকি মাছ নষ্ট হয়ে গেছে। ঝড়ে শতাধিক জেলেদের থাকার ঘর এবং শুঁটকির গুদাম বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে প্রস্তুতকৃত অনেক শুঁটকিও ভিজে নষ্ট হয়ে গেছে। এ অবস্থায় বহদ্দার-জেলেরা মারাত্মক লোকসানে পড়বে।

কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের আলোরকোল কন্টিনজেন্ট কমান্ডার মো. রাফিক জানান, মোংলার পশুর নদীর বিদ্যারবাহন খেয়াঘাট এলাকায় ড্রেজারটি প্রচন্ড ঝড়ে পড়ে কাত হয়ে ডুবে গেছে। বঙ্গোপসাগরে মাছ আহরণের সময় সুন্দরবন উপকূলে ঝড়ের কবলে পড়ে দুটি ট্রলার ডুবির খবর পাওয়া গেছে।

ঝড়ে শুঁটকি পল্লীর অনেক মাছ নষ্টসহ জেলেদের বহু ঘর উড়িয়ে নিয়ে গেছে। ডুবে যাওয়া ট্রলার দুটি উদ্ধার করা হয়েছে।মোরেলগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জিএম জানান, ঝড়ে উপজেলার রাজৈর এলাকায় ট্রান্সফর্মারের ওপর গাছ পড়ে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে। এছাড়া, আরো ৩০/৪০ টি স্পটে বিদ্যুতের তার ছিড়ে গেছে। বেশ কয়েকটি খুঁটি হেলে পড়েছে। উপজেলা সদরের বিদ্যুৎ সংযোগ দেওয়ার চেষ্টা চলছে। গ্রামাঞ্চলে দিতে একটু সময় লাগবে।

বাগেরহাট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির সহকারি ব্যবস্থাপক (প্রশাসন) মো. নাজমুল হাসান বলেন,ঝড়ে বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুতের খুঁটি অসংখ্য ভেঙ্গে পড়েছে। বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙ্গে পড়ায় বাগেরহাট সদর,কচুয়া, ফকিরহাট ও রুপসা উপজেলায় সকাল থেকে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে।আমাদের একাধিক দল বিদ্যুৎ সংযোগের মেরামত কাজে মাঠে নেমেছে।

বাগেরহাট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপপরিচালক (ডিডি) মো. আফতাব উদ্দীন বলেন,গত ২৪ ঘন্টায় জেলায় প্রায় ৪০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এই বৃষ্টিতে কৃষির তেমন কোন ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।