নেপালে বিমান দূর্ঘটনা এক বছরেও নিহত সাংবাদিক ফয়সালের স্মৃতি ভুলতে পারছেনা পরিবার

0
52


খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুরঃ গত বছরের এই দিনে নেপালের কাঠমুন্ডতে বিমান দূর্ঘটনায় নিহত হয় বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার আহমেদ ফয়সাল। ডিএনএ পরীক্ষা শেষে মরদেহ চিহ্নিত করে বাংলাদেশে আনা হয়।

পরবর্তীতে ফয়সালের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হলে দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামের সরদার গার্ডেনের পারিবারিক কবরস্থানে ফয়সালের দাফন করা হয়। আজ নিহত ফয়সা লের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকি। নিহত ফয়সালের শোকাহত পরিবার প্রতিদিনই ফয়সালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে মহান আল্লাহর দরবারে মুনাজাত করে।

নিহত ফয়সালের প্রথম মৃত্যু বার্ষিকি উপলক্ষে আজ ডামুড্যার একটি এতিমখানা ও লিল্লাহ বডিং এ বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত হবে। এতিমখানা ও লিল্লাহ বডিংএ বিশেষ খাবারের আয়োজন করবেন ফয়সালের পরিবার।

গতকাল দক্ষিণ ডামুড্যার সরদার গার্ডেনে গিয়ে দেখা গেছে শোক ও নিরবতা। প্রাচিরে আবদ্ধ সরদার গার্ডেনের প্রধান ফটক দিয়ে প্রবেশ করতেই প্রথমে পারিবারিক কবরস্থান চোখে পড়ে। কবর স্থানের পশ্চিম পাশের দেয়াল ঘেষে রয়েছে ফয়সালের কবর।

ফয়সালের কবর প্রিয়জনদের চোখের সামনে অবস্থান করছে তাই প্রতিনিয়ত প্রিয়জনদের মনে ফয়সালের স্মৃতি দাগ কাাঁটে। ফয়সালের স্মৃতি মনে রেখে ভেঙ্গে পড়েছে পরিবার, আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু মহল ও পাড়া প্রতিবেশীরা। তবে ক্ষণিকের জন্যও ফয়সালের স্মৃতি ভুলতে পারেনি মা সামসুন্নাহার বেগম ও বাবা সামসুদ্দিন সরদার।

ফয়সালের মা সামসুন্নাহার বেগম ছেলের শোকে অকালে বৃদ্ধা হয়ে গেছেন। ছেলের আত্মার শান্তি কামনায় সকল সময় আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করে। চোখের নীচে কালচে আবরণ দেখা দিয়েছে ফয়সালের মায়ের। চোখের দৃষ্টিও কমে গেছে। ঘরের বাহির হওয়ার ইচ্ছা হয়না তার। ছেলের স্মৃতি এখন সামসুন্নাহার বেগমের বেঁচে থাকার অবলম্বন।

বাবা সামসুদ্দিন বেপারী ডামুড্যা বাজারে সার ও কীট নাশকের ব্যবসায়ী। বাজারে ব্যবসা করে তার সময় কাটলেও ছেলের স্মৃতি তাকে কাঁদায়। ছেলের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনায় মসজিদ, মাদরাসা, এতিমখানা ও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দান করেন সামসুদ্দিন সরদার।
ফয়সালের ভবিষ্যত পরিবল্পনা ছিল চাকুরি ছেড়ে ব্যবসা করবে।

তাই রাজধানীর মোহাম্মদপুর গার্ডেন সিটিতে দুইটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তৈরী করেছিল। দুটিতেই বেবী ওয়্যার ও গার্মেন্টস ব্যবসা শুরু করে কর্মচারীর মাধ্যমে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করত। তবে ফয়সাল চাকরি থেকে ছুটি নিয়ে পরপারে চলে যাবে এমনটা কেউ ভাবতে পারেনি।

বড় বোন শিউলির সাথে ফয়সালের তুই তুকার সম্পর্ক ছিল। বড় বোনের সাথে ধানমন্ডির ১৫ নম্বরের একটি বাসায় থাকত ফয়সাল। অফিস থেকে ৫ দিনের ছুটি নিয়ে ঢাকার বাইরে যাওয়ার কথা বলে দেশের বাহিরে যাওয়ার বিষয় বড় বোন শিউলি ও পরিবারের কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। ঢাকার বাহিরে যাওয়ার কথা বলে ফয়সার দেশের বাইরে গেল কেন? সেই রহস্য আজও অজানা।

ফয়সালের বাবা সামসুদ্দিন সরদার এখনও ছেলের স্মৃতি ধারণ করে সময় কাটায়। তিনি বলেন, ফয়সালকে মানুষ কত পছন্দ করতো, কত ভালোবাসতো তা আমি আগে বুঝতে পারিনি। ছোট থেকেই মানুষের সাথে ফয়সালের ভালো সম্পর্ক ছিল। ফয়সাল বুদ্ধিমানও ছিল।

ফয়সালের ছোট ভাই রাকিব হোসেন বলেন, ফয়সাল আমাদের পরিবারের জন্য একটা ছাতার মতো ছিল। পরিবার ও সংসার নিয়ে খুব ভাবতো। ফয়সালের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত সাথে বন্ধু মহল ও পাড়া প্রতিবেশীরাও। আমি ফয়সালের বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

ফয়সালের মামা বিল্লাল বেপারী বলেন, ফয়সাল খুব বুদ্ধিমান ও সুচতুর ছিল। মানুষের সাথে সহজেই মিশে যেতো। আমরা ফয়সালের বিয়ের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। অনেক জায়গায় মেয়েও দেখাদেখি চলছিল। ফয়সালের মৃত্যুতে আমরা সকলেই শোকাহত তবে আমার বোন (ফয়সালের মা) ছেলের শোকে দিনদিন নিস্তেজ হয়ে যাচ্ছে।

ফয়সালের বন্ধু সাইফুল ইসলাম বলেন, ফয়সালের বন্ধুসুলভ আচরণ ভোলার মতো না। ফয়সাল আজ আমাদের মঝে নাই। ফয়সালের স্মৃতি আমাদের মাঝে অম্লান থাকবে। আমরা ফয়সালের আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

উল্লেখ্য, ডামুড্যা পৌরসভার দক্ষিন ডামুড্যা গ্রামের সামসুদ্দিন সরদার ও মোসাম্মৎ সামসুন্নাহার বেগমের বড় ছেলে ফয়সাল আহমেদ (২৮)। পাঁচ ভাই বোনের মধ্য সে দ্বিতীয়। ২০০৪ সালে ডামুড্যা মুসলিম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে মাধ্যমিক পাশের পর রাজধানীর মিরপুর কমার্স কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক, তিতুমির কলেজে স্নাতক এবং স্টামফোর্ড ইউনিভার্সিটি থেকে তোকত্তর সম্পন্ন করে ফয়সাল।

ব্যক্তিজীবনে সে অবিবাহিত। ফয়সাল বৈশাখী টেলিভিশনের স্টাফ রিপোর্টার হিসেবে ২০১২ সালে যোগদান করেন। ঢাকার ধানমন্ডি ১৫ নম্বরে বড় বোন শিউলী আক্তারের বাসায় থাকতো সে।