লালমনিরহাটে বিমানবন্দরে বিমান কারখানাসহ ফ্লাইট চালু’র সিদ্ধান্ত

0
30

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত,লালমনিরহাট প্রতিনিধি: অবশেষে পরিত্যক্ত দক্ষিন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম লালমনিরহাট বিমানবন্দরে বিমান কারখানাসহ যাত্রী পরিবহনের সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়েছে। এ জন্য জরুরী ভিত্তিতে বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচির তৈরীর কাজ কাজ শুরু হবে। বুধবার (১৩ মার্চ) দুপুরে বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাতের নেতৃত্বে বিমানবন্দরে সভা শেষে লালমনি প্রতিদিনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শফিউল আরিফ।

জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ লালমনি প্রতিদিনকে জানান, বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে পরিত্যক্ত দক্ষিন এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম লালমনিরহাট বিমানবন্দরে বিমান কারখানা করার ঘোষনা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তার ঘোষনাকে বাস্তবে রুপ দিতে দুই দিন ধরে বিমান বাহিনীর প্রকৌশলীরা বন্দরের বিভিন্ন বিষয় খুটে খুটে দেখেন এবং সম্ভব্যতা যাচাই করেন। এরই অংশ হিসেবে বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য একটি হেলিকপ্টারে লালমনিরহাট বিমানবন্দরে অবতরন করেন।

বিমান বাহিনীর প্রকৌশলীদের সাথে নিয়ে বিমান বাহিনীর প্রধান হেলিকপ্টারে পুরো বিমানবন্দর ঘুরে দেখেন এবং এর সম্ভব্যতা যাচাই করেন। এরপর সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী ও সিভিল প্রশাসনের ঊর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়ে বিমানবন্দরে সভা করেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত। এ অঞ্চলের ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে পরিত্যাক্ত বিমানবন্দরটি প্রথম দিকে বিমান কারখানা হিসেবে চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন করা হয়। কারখানা হলেই যাত্রী পরিবহনের সেবা দেয়া হবে বলেও জানান তিনি।

জেলা প্রশাসক শফিউল আরিফ সভার বরাত দিয়ে লালমনি প্রতিদিনকে আরো জানান, বিশাল এ বিমানবন্দরটি প্রথম দিকে বিমান কারখানা করা হবে। পরে এখানে চাহিদা অনুপাতে যাত্রী পরিবহনের সেবা চালু করা হবে। এ ক্ষেত্রে সর্বপ্রথম নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানবন্দর এলাকার সীমানা প্রাচির নির্মান করা হবে। ৪ কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিয়েসহ সকল অবকাঠানো একটি পুর্নাঙ্গ বিমানবন্দরের আদলেই রয়েছে। প্রাইভেট এয়ার লাইনস গুলো চাইলে এখনেই এটিতে উড়জাহাজ অবতরন ও উড্ডয়ন করতে পারে। প্রয়োজন শুধু সীমানা প্রাচির। এ জন্য জরুরী ভিত্তিতে বিমানবন্দরের সীমানা প্রাচির নির্মান কাজ শুরু করা হবে। আর্থ সামাজিক অবস্থা বিবেচনায় যাত্রী পরিবহনে সংকট হবে না বলেও সভায় জানানো হয়।

জেলা প্রশাসক আরো জানান, সীমানা প্রাচিরে বিমানবন্দরে জমি ব্যবহারকারী কৃষকদের যাতে কোন ক্ষতি না হয়। সে বিষয়ে কৃষকদের সাথে কথা বলে তাদের খুশি করে সীমানা প্রাচির তৈরী করার সিদ্ধান গ্রহন করা হয়েছে। কারখানা হলেই এখান থেকে যাত্রী সেবাও নিশ্চিত করা যাবে বলেও জানান তিনি।
এর আগে এ বিমানবন্দরটির সম্ভব্যতা যাচাই করতে মঙ্গলবার (১২ মার্চ) দিনভর যশোর বিমান বাহিনীর একটি প্রকৌশলী টিম দুই বিমান সফল ভাবে উড্ডয়ন ও অবতরন করেন।

তাদের সাফল্যের পর এ বৈঠক থেকে বিমান কারখানা ও যাত্রী সেবা দিতে এ বিমানবন্দর চালু করার সিদ্ধান্ত গ্রহন হয়। বুধবার (১৩ মার্চ) বেলা ১২টার দিকে একটি হেলিকপ্টরে লালমনিরহাট বিমানবন্দরে অবতরন করেন বিমান বাহিনীর প্রধান এয়ার চীফ মার্শাল মাসিহুজ্জামান সেরনিয়াবাত। এরপর বিমানবন্দর পরিদর্শন ও সভা শেষে একটি যাত্রীবাহি উড়জাহাজে দুপুর ২টায় ৪৫ মিনিটের উড্ডয়ন করে ঢাকার উদ্দেশ্যে লালমনিরহাট ত্যাগ করেন তিনি।

স্থানীয় বিভিন্ন সুত্রে জানা গেছে, লালমনিরহাট সদর উপজেলার মহেন্দ্রনগর ও হারাটি ইউনিয়নের এক হাজার ১৬৬ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৯৩১ সালে এ বিমান ঘাঁটি তৈরি করেন তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার। বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্রবাহিনী এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম এ বিমানবন্দরটি ব্যবহার করে। ১৯৪৫ সালে যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর এটি অব্যবহৃত হিসেবে জৌলুস হারাতে বসে। তবে ১৯৫৮ সালে স্বল্পপরিসরে বিমান সার্ভিস চালু হলেও তা বেশি দিন আলোর মুখ দেখেনি।

দেশ স্বাধীনের পর এ বিমানবন্দরে বিমান বাহিনীর হেডকোয়ার্টার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তা পরিত্যক্ত থেকে যায়। তবে ১৯৮৩ সালে ফ্লাইট চালু করা হলেও ৭ দিনের মধ্যে যাত্রীর অভাবে তা বন্ধ হয়ে পড়ে। ফলে ৪ কিলোমিটার রানওয়ে, বিশাল টারমাক, হ্যাঙ্গার, ট্যাক্সিয়ে- এগুলো সবই পরিত্যক্ত থেকে যায়। ১৯৮৩ সাল থেকে এখানে কৃষি প্রকল্প গড়ে তোলে বিমানবাহিনী কর্তৃপক্ষ।

কয়েক যুগ থেকে পরিত্যাক্ত লালমনিরহাট বিমানবন্দরে নতুন করে দুই দিন ধরে জেলার আকাশে উড়জাহাজ উড্ডয়ন ও অবতরনের খবরে জেলাবাসীর মাঝে উৎসবের আমেজ লক্ষ করা গেছে। গত দুই দিন ধরে জেলার টপ অপ দ্যা নিউজে ছিল বিমানবন্দর চালু। কারন বুড়িমারী স্থলবন্দরে ভারত, ভুটান ও নেপালের যাত্রী এবং জেলার ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসার ও আর্থ সামাজিক উন্নয়নে বিমানবন্দর চালু করনে জেলাবাসীর দীর্ঘ দিনের একটি দাবি ছিল। যা পুরন হতে যাচ্ছে। তাই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে স্ট্যাটাস দিয়েছেন।