চাঁপাইনবাবগঞ্জে জাতীয় আম গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হব- জেলা প্রশাসক

0
67


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ জাতীয় বৃক্ষ আম গাছ। চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রধান অর্থকরী সফল আম ফল রক্ষার্থে জেলা অবৈধভাবে স্থাপন হওয়া ইটভাটার বিরুদ্ধে আমরা যুদ্ধ ঘোষণা করেছি। এই জেলার মূল্যবান সম্পদ আম সংরক্ষণ ও উৎপাদন বৃদ্ধির জন্য চাঁপইনবাবগঞ্জে জাতীয় আম গবেষণা কেন্দ্র গড়ে তোলা হবে। যেনো এই জেলার প্রধান অর্থকরী ফল আম চাষী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ লাভবান হয়। বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলা মিলনায়তনে কৃষক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক এসব কথা বলেন।

সদর উপজেলা কৃষি সম্প্রারণ অধিদপ্তরের আয়োজনে ও সদর উপজেলা পরিষদের অর্থায়নে কৃষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. আলমগীর হোসেনের সভাপতিত্বে তিনি আরো বলেন, নিরাপদ আম উৎপাদনের জন্য জেলা আম চাষীদের জেলা-উপজেলাসহ বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষকদের প্রশিক্ষণ দেয়া হচ্ছে।

আমরা বিষ ও কেমিকেলমুক্ত আম উৎপাদনের মধ্যদিয়ে আম ফলকে আরো সম্প্রসারিত করতে চাই। এই জেলার আম খিরসাপাত জি.আই পণ্য হিসেবে সনদ লাভ করেছে। আমরা এই আমকে হিমসাগর হিসেবে নয়, খিরসাপাত হিসেবে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিতি করে তুলবো। জেলা প্রশাসক বলেন, আগামীতে জেলার আম গাছের সংখ্যা নির্ধারণ করে গাছের গায়ে ক্রমিক নম্বর ব্যবহার করার পরিকল্পনা রয়েছে। যা এটি প্রতিটি ইউনিয়নের জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে করা সম্ভব হবে। আমরা আশা করি, এটা করতে পারবো।

তিনি বলেন, শুধু বিষ ও কেমিকেল মুক্ত আম নয়, নিরাপদ আম উৎপাদনের পর আম কে ব্র্যান্ডিং করে বাজারজাত করতে হবে। এজন্য সকলকে এক সাথে কাজ করতে হবে। নিরাপদ আম ব্র্যান্ডিংয়ের জন্য উপজেলা পর্যায়ে নিরাপদ আম হিসেবে সনদ দেয়া হবে। প্রয়োজনে ই-বাজারের মাধ্যমে আম বাজার গড়ে তুলতে হবে। যা বিভিন্ন কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে ভোক্তার কাছে পৌছে দেয়া হবে। এজন্য আমাদেরকে উপজেলা পর্যায়ে একটি করে ই-বাজার তৈরি করতে হবে। এছাড়া সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও আম বাজারজাত করতে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

জেলা প্রশাসক এ জেড এম নূরুল হক বলেন, আমি শুনেছি, কয়েক বছর ধরে এই জেলার অর্থকরী ফসল আমের বাজারে ধ্বস। আমের মূল্য বৃদ্ধি করতে আমাদেরকে আম গবেষকদের পরামর্শ নিতে হবে। এছাড়া আম ক্যালেন্ডার বিষয়ে নতুন ভাবে চিন্তা-ভাবনা রয়েছে। যেনো, আম চাষীরা আম উচ্চ মূল্য পায়, সময়ের মধ্যে আম বাজারজাত করতে পারে, সে বিষয়ে পরিকল্পনা রয়েছে।

কৃষক প্রশিক্ষণ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চাঁপাই নবাবগঞ্জের উপ-পরিচালক আলহাজ্ব মো. মুঞ্জুরুল হুদা, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান মো. মোখলেশুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ মো. সাইফুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ আঞ্চলিক উদ্যানতত্ত্ব গবেষণা কেন্দ্রের মূখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সফিকুল আলম, সদর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাওলানা মোহাম্মদ সোহরাব আলী।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ হর্টিকালচার সেন্টারের জার্ম প্লাজম অফিসার মোঃ জহুরুল ইসলাম, সদর উপজেলা কৃষি অফিসার ড. জাহাঙ্গীর ফিরোজসহ কৃষি সম্প্রসারণ ও সদর উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের কৃষক-কৃষাণীগণ। প্রশিক্ষণে নিরাপদ আম উৎপাদন কলাকৌশল ও সংগ্রহোত্তর বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা হয়। প্রশিক্ষণে পর্যায়ক্রমে সদর উপ জেলার ১৫টি ইউনিয়নের ৩’শ ৭৫ জন আম চাষী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নিচ্ছে।

উল্লেখ্য, চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় ৩১ হাজার ৮’শ ২০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে এবং এসব বাগানে আম গাছ রয়েছে প্রায় ২৬ হাজার ৩’শ টি। এসব আম গাছে এবছর ৮৫% মুকুল এসেছে এবং এবছর আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ২৭৫ লক্ষ মেট্রিক টন।