বর্ষবরণের উৎসবে মাতলো কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়

0
61


কুবি প্রতিনিধি: বর্ণিল ও জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) বাংলা পঞ্জিকার নতুন বৎসরকে বরণ করা হয়েছে। রবিবার (১৪ এপ্রিল) পহেলা বৈশাখ ১৪২৬ এর আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয় বর্ণাঢ্য মঙ্গল শোভাযাত্রার মাধ্যমে। আনন্দ-উল্লাসের সাথে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সর্বস্তরের লোকজন এতে অংশ নেন।

বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্যের সামনে থেকে শুরু হয় মঙ্গল শোভাযাত্রা। বিশ্ববিদ্যালয় অদূরে অবস্থিত শালবন বিহার অঞ্চল ঘুরে পুনরায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি। বিভিন্ন অনুষদের ডিন, শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কমকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এতে স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন। 

শোভাযাত্রার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে পান্তাভোজ ও ফলাহারের আয়োজন করা হয়। এতে বিভাগের নিমন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্যসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা অংশ নেন। এসময় বাংলা বিভাগের আয়োজনে প্রকাশিত বৈশাখের দেয়ালিকা ‘হালখাতা ১৪২৬’ উন্মোচন করেন উপাচার্য। 

এবার বর্ষবরণ উদযাপনে দুই দিনের নানা কর্মসূচি হাতে নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বৈশাখের প্রথমদিন  সকল বিভাগের অংশগ্রহণে আয়োজন করা হয়েছে এক মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘বৈশাখী চত্বর’ নামক প্রকৃতিঘেরা স্থানে এই পরিবেশনা উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের পরিবেশনায় ওঠে আসে বাঙালির সাংস্কৃতিক নিজস্বতা ও ঐতিহ্যের পরিচয়।

বৈশাখের দ্বিতীয় দিনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজনের কথা রয়েছে। এদিকে পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক মেলার আয়োজন করা হয়। মেলার স্টলগুলোতে প্রর্দশন করা হয় বাঙালি ঐতিহ্যের ধারক বিভিন্ন ধরনের পিঠা, ফিরনি, পান্তা-ইলিশ, পানীয়সহ নানা ধরনের খাদ্যদ্রব্য। এসবকিছুর বাইরেও পুরো বিশ্ববিদ্যালয়কে বর্ণিল সাজে সাজানো হয়েছে বর্ষবরণের আয়োজনে। 

‘এসো হে বৈশাখ, এসো এসো’-গানের তালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিটি বিভাগ, প্রতিটি সদস্য মেতে আছেন। তাদের প্রত্যাশা পুরনো সব গ্লানি-জরা ভুলে নতুন বছরে আলোর পথে নতুন যাত্রা হবে আমাদের।