কুবিতে আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন অনুষ্ঠিত

0
99

কুবি প্রতিনিধি: স্বনামধন্য সাহিত্যিকদের অংশগ্রহণে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) কলা ও মানবিক অনুষদের আয়োজনে প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আন্তর্জাতিক সাহিত্য সম্মেলন ২০১৯’ । মঙ্গলবার (২৩ এপ্রিল) অনুষদ ভবনের হলরুমে এ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের উদ্যোগ এবং বাংলা ও ইংরেজি বিভাগের যৌথ ব্যবস্থাপনায় অনুষ্ঠিত হয় সম্মেলনটি।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলা বিভাগের প্রভাষক সাদিয়া আফরোজ সিফাতের সঞ্চালনা, সম্মেলনের আহবায়ক এবং কলা মানবিক অনুষদের ডিন ড. জি. এম. মনিরুজ্জামানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এমরান কবির চৌধুরী।

সম্মানিত অতিথি ছিলেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগীয় প্রধান ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন সম্মেলনে।

সকাল ৯:৩০ টায় সম্মেলনের উদ্বোধন করেন খ্যাতিমান রবীন্দ্র গবেষক রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ এর উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।

উদ্বোধনের পর প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য বলেন, ‘সাহিত্য মননের বিষয়। আমাদের বস্তুগত চাহিদার চেয়ে মননের খোরাক দেওয়া বেশি জরুরি। সাহিত্য সম্মেলনের এই আয়োজন আমাদের সেদিক থেকে ঋদ্ধ করবে।’

দিনব্যাপী আয়োজিত তিনটি সেমিনারের প্রথম অধিবেশনে ‘অন্য রবীন্দ্রনাথ’ প্রসঙ্গে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন রবীন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য প্রফেসর ড. বিশ্বজিৎ ঘোষ।

তিনি বলেন, ‘জমিদারবাড়ির অকর্মণ্য ছেলে থেকে বিশ্বকবি হয়েছিলেন কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জমিদার দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বিশাল পরিবারে রবীন্দ্রনাথই ছিলেন বিদ্যাপীঠবিমুখ। তবে পরবর্তীতে তিনি বিশ্বকে দেখিয়েছেন নিজের আসল পরিচয়। জমিদারি দেখভাল করতে এসে এই বাংলার সাধারণ কৃষকের পাশে দাঁড়িয়েছেন নিজের সবকিছু দিয়ে।’

তিনি আরও বলেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ছিলেন বাংলার কৃষকের বন্ধু। সমবায় ও ক্ষুদ্রঋণের প্রবর্তক ছিলেন তিনি। নোবেল পুরস্কারের টাকা দিয়ে তিনি এশিয়ার প্রথম কৃষি ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। কৃষকের স্বাস্থ্য রক্ষায় তিনি নিজে পুকুরে নেমে কচুরিপানা পরিষ্কার করেছেন। বিনা সংকোচে হতদরিদ্র মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন তিনি।’

‘উইলিয়াম শেক্সপিয়র’ বিষয়ক পরবর্তী অধিবেশনে প্রবন্ধালোচনায় জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক ড. শফি আহমেদ বলেন, ‘মানুষের ব্যক্তিগত চিন্তা ও আবেগ নিয়ে শেক্সপিয়রের মতো করে কেউ ভাবেননি। তিনি মানুষের ভেতরের স্বত্তাকে নিজের রচনায় তুলে এনেছেন। স্বজন-বিয়োগের ব্যথা-বেদনাগুলোকে তিনি নাটকের চরিত্রে দৃশ্যায়ন করেছেন পরম মমতায় ও সিদ্ধহস্তে।’

সর্বশেষ অধিবেশনে ভারতের আসাম কেন্দ্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য প্রফেসর ড. তপোধীর ভট্টাচার্য লিখিত ‘সাহিত্যতত্ত্ব’ শীর্ষক প্রবন্ধ পাঠ করা হয়।

তিনটি অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন যথাক্রমে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা ও মানবিক অনুষদের ডিন ড. জি. এম. মনিরুজ্জামান, ইংরেজি বিভাগের প্রধান মোহাম্মদ আলী রেজওয়ান তালুকদার এবং বাংলা বিভাগের প্রধান মুহাম্মদ শামসুজ্জামান মিলকী।

প্রসঙ্গত, সম্মেলনের সেমিনার পর্ব শেষে বাংলা বিভাগ ও ইংরেজি বিভাগের যৌথ প্রযোজনায় এক মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা অনুষ্ঠিত হয়। এতে আবৃত্তি, নাচ, গান, অভিনয়, নাটিকা প্রদর্শন করেন বিভাগদ্বয়ের শিক্ষার্থীরা।