গরমে সাবধান থাকুন ‘হিট স্ট্রোক’ থেকে

0
87

অতিরিক্ত গরমের কারণে মানুষের শরীরের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায়। এটি একটি বিশেষ ধরনের হাইপারথারমিয়া। মানবদেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রা ৯৮ ডিগ্রি ফারেনহাইট। এটি ১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের চেয়ে বেশি হলেই হিট স্ট্রোক হতে পারে। একে সান স্ট্রোক, থার্মিক ফিভার, সিরিয়াসিস নামেও অভিহিত করা যায়। মারাত্মক গরমের কারণে দেহের তাপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা পুরোপুরি নষ্ট হয়ে গেলে হিটস্ট্রোক দেখা যায়। হিটস্ট্রোক থেকে মানুষ পঙ্গু হয়ে যেতে পারে, এমনকি সময় মত সুচিকিৎসা না পেলে মৃত্যুও হতে পারে। এ সমস্যায় তাৎক্ষণিক চিকিৎসা না পেলে রোগীর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

‘হিট স্ট্রোক’ হওয়ার কারণ
হিট স্ট্রোকের প্রধান কারণ পানিশূন্যতা। প্রচণ্ড গরমে দেহে পানির পরিমাণ কমে যেতে পারে। এ ধরনের পানিশূন্যতা এড়াতে সতর্কতা প্রয়োজন। অতিরিক্ত গরমের সময় ভারী শারীরিক পরিশ্রমের কাজ না করাই উচিত।

‘হিট স্ট্রোক’ হওয়ার লক্ষণ 
শরীরের তাপমাত্রা অসহনীয় অবস্থায় চলে গেলে যেসব জটিলতা দেখা যায়, সেগুলোই হিট স্ট্রোকের লক্ষণ। যেমন মাথা ঝিম ঝিম করা, বমি করা, অবসাদ ও দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মাংসপেশির খিঁচুনি, চোখে ঝাপসা দেখা। এছাড়া সেসময় ঘামের অনুপস্থিতি, চামড়া খসখসে ও লাল হয়ে যাওয়া, হৃৎস্পন্দন বৃদ্ধি, শ্বাসকষ্ট, মাতালের মতো আচরণ, দৃষ্টিবিভ্রম বা হ্যালুসিনেশন, বিভ্রান্তি, অশান্তি, খিঁচুনি ইত্যাদি লক্ষণও দেখা যায়।

বেশি আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি যাদের
ছোট শিশু, বয়স্ক মানুষ, ব্যায়ামবিদ বা দিনমজুরদের হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি খুবই বেশি। শিশুদের ক্ষেত্রে এটি খুবই ভয়াবহ। কারণ, তাদের শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করার ব্যবস্থা পরিপক্ব নয়। 

‘হিট স্ট্রোক’ হলে প্রাথমিক চিকিৎসা 
হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হলে প্রথমে রোগীকে প্রাথমিক চিকিৎসা হিসেবে ছায়ায় নিতে হবে। শরীরের ভারী কাপড় খুলে নিয়ে ঠান্ডা পানি ঢালতে হবে। সম্ভব হলে রোগীকে ফ্যানের নিচে বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কক্ষে নিতে হবে। রোগীর বগল ও ঊরুর ভাঁজে বরফ দেয়া যেতে পারে। থার্মোমিটার দিয়ে রোগীর শরীরের তাপমাত্রা মেপে দেখতে হবে। ১০১ থেকে ১০২ ডিগ্রি ফারেনহাইটে নেমে না আসা পর্যন্ত তাকে ঠান্ডা দেওয়া অব্যাহত রাখতে হবে।

হিট স্ট্রোক’ প্রতিরোধে করণীয়- 
১. বেশি গরমের সময় ব্যায়াম বা ভারী কায়িক পরিশ্রম বর্জন করুন। ঘামের সঙ্গে শরীরের লবণ বেরিয়ে যেয়ে শরীর দুর্বল করে দেয়।

২. গরমের সময় শরীরকে পানিশূন্য হতে দেয়া যাবেনা। যেহেতু পানিশূন্যতা থেকেই হিট স্ট্রোক হয়, তাই গরমে দেহ থেকে বেরিয়ে যাওয়া পানির শূন্যতা পূরণে প্রচুর পরিমাণে পানি খেতে হবে। খাবার পানির পাশাপাশি ডাবের পানি, ওরাল স্যালাইন, কাঁচা আমের ঘরে তৈরি জুস, লেবু, বেল, তরমুজের শরবত ইত্যাদি খেতে যেমন ভালো লাগবে, তেমনি তা আপনার দেহের পানিশূন্যতা পূরণ করে হিট স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে আনবে। 

৩. গরমে বাইরে বের হলে ঢিলেঢালা ও সাদা বা হালকা রঙের সুতি পোশাক পরুন। গরমে আঁটসাঁট পোশাক পরা থেকে বিরত থাকুন। অবশ্যই নরম কাপড়ের অন্তর্বাস ব্যবহার করুন। কেননা এটি দ্রুত ঘাম শুষে নিয়ে আপনার শরীরকে ঠান্ডা রাখবে।

৪. গরমের এই দুই মাস ফাস্টফুড খাওয়া বন্ধ রাখুন। কেননা এতে থাকা অতিরিক্ত লবণ, তেল গরমে আপনার শরীরকে আরো বেশি ক্ষতিকর অবস্থার দিকে নিয়ে যায়। শরীর ঠান্ডা থাকে এমন জাতীয় খাবার ঘরেই তৈরি করে খান। 

৫. প্রচন্ড গরমে শরীরের তাপমাত্রা যাতে সীমা অতিক্রম না করে, এজন্যে যতবার সম্ভব গোসল করুন। তবে প্রতিবার গোসলের পরে চুল ভালোভাবে শুকিয়ে নিন। নইলে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।