নাটকের শেষ নেই জাতীয় পার্টিতে

0
111

নাটকের শেষ নেই এরশাদের জাতীয় পার্টিতে। কখনো রাজনৈতিক দর্শন মেনে, কখনো মন চায় তো ‘বানাও নেতা’ নীতিতে চলছে সংসদের বিরোধী দল জাপা। যেন খুশিতে বানাচ্ছেন নেতা, বানাচ্ছেন প্রেসিডিয়াম। দিচ্ছেন পদোন্নতি। এবার একসঙ্গে ৮ জনকে করা হলো প্রেসিডিয়াম। 

তাদের দু’জন ছাড়া বাকিরা সবাই হাল ফ্যাশনের নেতা। দু’জনের একজন হলেন এরশাদের তথ্য প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত। অন্যজন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ভিপি, তৎকালীন স্বনামধন্য ছাত্রনেতা, বর্তমানে যুবনেতা ও ভাইস চেয়ারম্যান আলমগীর সিকদার লোটন। বাদবাকির মধ্যে একজন ২০০৮ সালের এমপি, আর দু’জন এবারের। অন্যদের মধ্যে দু’জন পাঁচ-সাত বছর আগে দলে আসা। আরেকজন দীর্ঘদিন জাপা করলেও এলাকায় তার নেই তেমন কোনো জনপ্রিয়তা। দিদার বখত ও লোটন ছাড়া সবাই হাল সময়ের অর্থ-সম্পদের মালিক।

হঠাৎ সম্পদের মালিক বনে অনেকে এরশাদের জাপায় প্রেসিডিয়াম পদ পেতে মরিয়া। প্রেসিডিয়াম করতে দলে নেই কোনো মানদণ্ড। পদোন্নতিপত্রে বলা হয়েছে, সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে প্রেসিডিয়াম করা হয়েছে তাদের। কিন্তু প্রশ্ন হলো, দিদার বখত ও লোটন ছাড়া বাকি কারো ব্যক্তিগত বা দলগত তেমন কোনো ভোটব্যাংক আছে বলে বিশ্বাস করে না এলাকাবাসী।

শুধু তাই নয়, অতীতে বেশ কয়েকটি ঘটনায় তেমনটা প্রমাণও হয়েছে। চেয়ারম্যানের প্রেস অ্যান্ড পলিটিক্যাল সেক্রেটারি ও খুলনায় দলের প্রেসিডিয়াম সদস্য সুনীল শুভরায়ের নিজস্ব বা দলগত ভোটব্যাংক নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে। এছাড়া তার লবিংয়ে গেল সিটি নির্বাচনে মেয়র প্রার্থী করা হয় মুশফিক নামে বির্তকিত একজনকে। যিনি ভোটে দু’হাজারের কোটা ছুতে পারেননি। এমন অজস্র উদাহরণ আছে এরশাদের জাতীয় পার্টিতে।

বৃহস্পতিবার সংবাদমাধ্যমে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- সাংগঠনিক কার্যক্রমের স্বীকৃতি হিসেবে সৈয়দ দিদার বখত (সাবেক মন্ত্রী), জাফর ইকবাল সিদ্দিকী (সাবেক এমপি), সংরক্ষিত এমপি নাজমা আকতার, আব্দুস সাত্তার মিয়া, আলমগীর সিকদার লোটন (সাবেক ছাত্রনেতা), এমরান হোসেন মিয়া, কাজী মামুনুর রশিদ (ব্যবসায়ী) এবং বর্তমান এমপি মেজর (অব.) রানা মোহাম্মদ সোহেলকে পদোন্নতি দিয়ে প্রেসিডিয়াম করা হয়েছে।

এরশাদ স্বাক্ষরিত ওই বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, পার্টির গঠনতন্ত্রে ২০/১/ক ধারা মোতাবেক এ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে, যা অবিলম্বে কার্যকর হবে। তবে আগের নিয়োগ অনুযায়ী ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পরামর্শ অনুযায়ী আট জনের পদোন্নতি হয়েছে কিনা তা উল্লেখ করা হয়নি। এমনকি এ পদোন্নতিতে ভারপ্রাপ্ত চেয়ার‌ম্যানের সম্মতি আছে কিনা তাও জানা যায়নি।

ওই বিজ্ঞপ্তির পর এরশাদের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি দেলোয়ার জালালী আরেকটি পদোন্নতিপত্র পাঠান সংবাদমাধ্যমে। যেখানে মাহমুদুর রহমান মাহমুদ নামে একজনকে করা হয়েছে আন্তর্জাতিক বিষয়ক উপদেষ্টা। নেতাকর্মীদের ধারণা এক সময় দলে ছিল নোয়াখালীর মাহমুদ, যিনি পরবর্তী সময় বিএনপিতে চলে যান।

পদোন্নতির বিষয়ে জানতে পার্টির নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে মুখ খুলতে চাননি কেউই। এমনকি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান জি এম কাদেরের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও পাওয়া যায়নি তাকে।

এদিকে দলের এক যুগ্ম মহাসচিব ও এমপি লিয়াকত হোসেন খোকা পদত্যাগ করেছেন বলে খবর রটেছে।