ঢাবিতে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের মারামারি, আহত ৫

0
74

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের ঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিকে ‘অবৈধ’ অ্যাখা দিয়ে বিক্ষোভ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের একাংশ। এরই মধ্যে ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন নারী নেতা আহত হয়েছেন।

তাদের মধ্যে রোকেয়া হল শাখার সর্বশেষ কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশা গুরুতর আহত হয়েছেন। শ্রাবণীসহ বাকিদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।

সোমবার সন্ধা ৬টার দিকে বিক্ষোভ শুরু করেন ছাত্রলীগের পদঞ্চিতরা। তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মধুর ক্যান্টিনের সামনে গেলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নতুন কমিটিতে পদ পাওয়া নেতারা হামলা করেছেন। সর্বশেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত মধুর ক্যান্টিন এলাকায় এখনো দুই পক্ষ অবস্থান করছে। 

প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, সন্ধ্যা ৬টার দিকে ছাত্রলীগের নবঘোষিত ৩০১ সদস্যের কমিটির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের একটি অংশ বিক্ষোভ মিছিল বের করে।

এ মিছিলে উপস্থিত ছিলেন ছাত্রলীগের বিগত কমিটির কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক দেলোয়ার শাহজাদা, প্রচার সম্পাদক সাইফ বাবু, কর্মসূচি ও পরিকল্পনা বিষয়ক উপসম্পাদক রাকিব হোসেন, জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহেদন খান, রোকেয়া হলের সভাপতি বি এম লিপি আক্তার, বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হলের সভাপতি ফরিদা পারভীন, সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী শায়লা, শামসুন নাহার হল ছাত্রলীগের সভাপতি নিপু তন্বী, সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তাসহ অন্যরা।

ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের এই অংশটি বিশ্ববিদ্যালয়ের হাকিম চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে মধুর ক্যান্টিনের সামনে যায়। এ সময় নতুন কমিটিতে পদপ্রাপ্তরা তাদের ওপর হামলা করে বলে তাদের অভিযোগ।

বিক্ষোভকারীরা জানান, এরই মধ্যে বিক্ষোভে অংশ নেয়া বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে রোকেয়া হল শাখা ছাত্রলীগের গত কমিটির সাধারণ সম্পাদক শ্রাবণী দিশাকে গ্লাস ছুঁড়ে মারা হয়েছে। তার মাথা ফেটে গেছে। এছাড়া, রোকেয়া হল শাখার সভাপতি ও ডাকসুর ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক বি এম লিপি আখতার, সুফিয়া কামাল হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ও ডাকসুর কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য তিলোত্তমা শিকদারও আহত হয়েছেন।

বিক্ষোভকারীরা বলেন, ছাত্রলীগের গঠিত ৩০১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে ত্যাগী নেতারা বঞ্চিত হয়েছে। যারা ছাত্রলীগের কোনো কর্মসূচিতে কোনোদিন থাকেননি, তাদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেয়া হয়েছে। এ সময় নবঘোষিত পূর্ণাঙ্গ কমিটিতে উপসম্পাদকের পদ পাওয়া কয়েকজন পদত্যাগেরও ঘোষণা দেন।

শামসুন নাহার হল শাখা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জিয়াসমিন শান্তা জানান, আমরা দীর্ঘদিন ছাত্রলীগ করেছি। কিন্তু আমাদের কোনো পদ দেয়া হয়নি। আমরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে বিক্ষোভ করছিলাম। কিন্তু আমাদের গায়ে হাত দেয়া হয়েছে।

ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটিতে উপসম্পাদক পদ পাওয়া তিলোত্তমা শিকদার জানান, ছাত্রলীগের এমন কোনো কর্মসূচি ছিল না যেখানে আমি উপস্থিত হইনি। অথচ আমাকে উপসম্পাদক করা হয়েছে। এটি আমাদের মতো ত্যাগীদের জন্য অপমানের।’ শিগগিরই পদত্যাগের ঘোষণা দেবেন বলে জানান তিনি।

জসিম উদ্দিন হল শাখা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক শাহেদ খান জানান, যে কমিটি ঘোষণা করা হয়েছে, এতে অনেক অযোগ্য নেতৃত্ব স্থান পেয়েছে। আমরা এই কমিটি বাতিল চাই। আর সেই দাবিতে যখন বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলাম এবং সংবাদ সম্মেলন করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম, তখন মধুর ক্যান্টিনে আমাদের ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। আমরা আমাদের প্রতিবাদ অব্যাহত রাখব এবং ভবিষ্যতে সংবাদকর্মী ভাইদের মাধ্যমে আমাদের কর্মসূচিও জানিয়ে দেবো।