প্রভাবশালীদের পেটে সরকারি রাস্তা ও খাল !

0
33



শেখ সাইফুল ইসলাম কবির,বাগেরহাট : বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জ উপজেলার বহরবুনিয়া ইউনিয়নের সকল খাল ও রাস্তা ঘের ব্যবসায়ীদের দখলে চলে গেছে। যে যার মত করে জনগুরুত্বপূর্ণ খালে বাঁধ দিয়ে ও রাস্তা কেটে ঘেরে পানি ওঠানামা করাচ্ছেন।

আওয়ামী লীগ দলীয় চেয়ারম্যান নিজেও খাল ও রাস্তা দখল করে চুটিয়ে ঘের ব্যবসা করছেন। ফলে উন্নয়নের কোনই ছোয়া লাগেনি এ ইউনিয়নে। এক ইঞ্চি পিচ ঢালাই রাস্তা নেই। নেই উপজেলা সদরের সাথে যোগাযোগের জন্য একটি ইটসোলিং রাস্তাও। ফলে চরম দুর্ভোগে রয়েছেন এ ইউনিয়নের ২২ হাজার মানুষ।

বহরবুনিয়া ইউনিয়নে জনসংখ্যা প্রায় ২২ হাজার। স্থানীয়দের প্রধান আয়ের উৎস্য মাছ চাষ। বাগদা, গলদা ও সাদা মাছের ঘের ব্যবসার সাথে জড়িত অধীকাংশ লোক। এ ইউনিয়নে ছোট বড় মিলিয়ে ৮শ’টি ঘের রয়েছে। খাল রয়েছে ৩১টি।

কাচা রাস্তা প্রায় ২০ কিলোমিটার। আংশিক পাকা বা ইটসোলিং রাস্তা প্রায় ১১ কিলোমিটার। ঘের ব্যবসায়ীরা রেকর্ডীয় ৩১টি খালের ৩০টিতেই বাঁধ দিয়ে ঘের হিসেবে ব্যবহার করছেন। খালের পানি প্রবাহ নির্ভর করে ঘের মালিক দের ইচ্ছার ওপর। অনেক খাল অস্তিত্বও হারিয়েছে।

পূর্ব বহরবুনিয়া হিন্দু পাড়ার নাদের আলী খাল, কলেজ বাজার এলাকার জুব্বার আলী খাল, সিরাজ মাটারের বাজার সংলগ্ন কাটা খাল, মিয়ার, হোগলাবুনিয়ার খালসহ উল্লেখযোগ্য সরকারি খাল গুলো ঘের ব্যবসায়ীদের দখলে। অসংখ্য বাঁধ ও গড়া দিয়ে প্রভাবশালীরা এসব খালে ঘের করছেন।

সূর্যমুখী খালের পশ্চিম পাড় থেকে শুরু করে সিরাজ মাস্টারের বাজার পর্যন্ত দুই কিলোমিটার কাচা রাস্তার ১০-১২ স্থানে কেটে কাঠের বক্স বসানো হয়েছে। কালিবাড়ি হয়ে পূর্ব বহরবুনিয়ায় যাওয়ার ইটসোলিং রাস্তা বিভিন্ন জায়গা থেকে কেটে বক্স ও পাইপ বসিয়েছেন ঘের ব্যবসায়ীরা।

জুব্বার আলী খালের দু’ পাড়ের পানিবন্দী ক্ষতিগ্রস্ত বসবাসকারী আব্দুল জলিল ফরাজী (৬৭), গোলাম নবী(৪৫), সালেহা বেগম (৫০), জাকির ফরাজী (৩৯), হালিমা বেগম (৬৫), নাসির ফরাজী (৪৫), চন্দ্রবানু বেগম (৬০), সগির ফরাজী (৩০) সহ একাধিক ক্ষতিগ্রস্তরা বাসিন্দারা জানান, দীর্ঘদিন ধরে এ রেকর্ডীও খালটি আটকিয়ে মৎস্য ঘের করে আসছে প্রভাবশালীরা। যে কারনে পানিবদ্ধ অবস্থায় আমাদের থাকতে হয় সবসময় অনেকের দিনের রান্নাও বন্ধ থাকে।

ইউনিয়ন চেয়ারম্যান মো. রিপন তালুকদার নিজেও কয়েকটি ঘেরের মালিক। খাল দখল ও রাস্তা কাটায় তার ভূমিকা চোখে পড়ার মত। মিয়ার খাল ও জুব্বার আলীর খাল দুটি চেয়ারম্যান ও তার সহযোগীদের দখলে। জুব্বার আলীর খালে ব্যাক্তিগত প্রয়োজনে বাঁধ দেওয়ায় ২৫-৩০টি পরিবার এখন পানিবন্দী অবস্থায় আছেন।

এসব বিষয়ে জানতে চাইলে চেয়ারম্যান রিপন তালুকদার বলেন, জনসাধারণের অসুবিধা হয় এমন কিছু করা হয়নি। ৩১টি খালের পানি নিয়ন্ত্রন করা হয়েছে। অন্যথায় এলাকাবাসি ক্ষতিগ্রস্ত হতো।

খাল বেদখলের বিষয়ে সহকারি কমিশনার(ভূমি)মো. মেজবাহ উদ্দীন বলেন, ইউনিয়ন সচিবের কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। প্রতিবেদন পেলেই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজ্জামান  মোবাইল ফোনে বলেন, ওই ইউনিয়নে খাল দখল ও রাস্তার কাটার বিষয়টি যুগযুগ ধরে চলে আসছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে একটি কাঠের বাক্স অপসারণ করা হয়েছে। খালের বাঁধ অপসারণ ও রাস্তা কাটার বিষয়ে শীঘ্রই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।