যুগোপযোগী হয়ে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ

0
28

পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী মুসলিম লীগ থেকে পূর্ব পাকিস্তান আওয়ামী লীগ; সেখান থেকে আওয়ামী লীগ। একাদশ শতাব্দীতে এসে আরেকবার যুগোপযোগী হয়ে বদলে যাচ্ছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামে নেতৃত্বে দেওয়া এই দলটি।

দলের ২১তম কাউন্সিলকে সামনে রেখে রাজনীতিতে তরুণ প্রজন্মের ভাবনা কে প্রাধান্য দিয়ে দল সাজাতে কাজ করছে আওয়ামী লীগ। দলটির প্রাথমিক সদস্য সংগ্রহ কার্যক্রমে তো বটেই, আগামী কাউন্সিলে তরুণদের জয়জয়কার দেখা যাবে বলে দলটির বেশ কয়েকটি সূত্রের খবর রয়েছে।

তরুণ প্রজন্ম ডিজিটাল বাংলাদেশে আওয়ামী লীগকে কীভাবে দেখতে চায়, তা নিয়ে কাজ করছে দলটির গবেষণা সেল।  আওয়ামী লীগ চাচ্ছে পুরনো ধ্যান-ধারণা ভেঙে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী রাজনীতির সঙ্গে তাল মেলাতে।

এর অংশ হিসেবে আগামী ২১ জুলাই থেকে সারা দেশে নতুন ভোটারদের দলের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্তির যে কার্যক্রম শুরু করছে, তাতে তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছে আওয়ামী লীগ।

দলটির নেতারা বলছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শভিত্তিক আগামী প্রজন্ম গঠন এবং সমৃদ্ধ-বাংলা দেশ বিনির্মাণের হাতিয়ার হিসেবে তরুণ সমাজকে উন্নয়নমুখী কল্যাণকর রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করতে চায় আওয়ামী লীগ। তরুণ প্রজন্মের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা বৃদ্ধি ও তরুণ দেশকর্মী গড়ে তুলতে সাংগঠনিক এই কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক আবদুস সোবহান গোলাপ জানান, সারা দেশে আওয়ামী লীগের সদস্য সংগ্রহ ও নবায়ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। তারই ধারাবাহিকতায় সংগঠনের প্রতিটি শাখায় নতুন ভোটারদের আওয়ামী লীগের প্রাথমিক সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার জন্য কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে।

আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য লে. কর্নেল (অব.) মুহাম্মদ ফারুক খান  বলেন, বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সবসময় তারুণ্যনির্ভর একটি দল। তরুণরাই সবসময় এই দলকে নেতৃত্ব দিয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যখন এই দলের সাধারণ সম্পাদক হন তখন তিনি ছিলেন বয়সে তরুণ। সুতরাং তারুণ্যের জয়গান সবসময়ই গেয়েছে আওয়ামী লীগ।’

‘সরকারের মন্ত্রী পরিষদ, দলের ওয়ার্কিং কমিটি থেকে শুরু করে সর্বত্র তরুণ নেতৃত্ব। আওয়ামী লীগ সবসময় এই চর্চা করে এসেছে। আওয়ামী লীগ বরাবরই যুগের চাহিদাকে প্রধান্য দিয়ে দলীয় কার্যক্রম চালিয়েছে, ভবিষ্যতেও এই ধারা অব্যাহত রাখবে’, বলেন তিনি।

দলীয় সূত্র বলছে, প্রতিষ্ঠার ৭০ বছরে পদার্পণ  উপলক্ষে যুগোপযোগী আওয়ামী লীগ গড়তে দলটির গবেষণা সেল দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছে।  এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে দলে তরুণ নেতৃত্বকে সামনে আনা এবং তরুণদের ব্যাপকভাবে আওয়ামী লীগের পক্ষে সমর্থন পাওয়ার বিষয়টি।

বিশেষ করে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তরুণদের ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত হওয়ার কারণে  বিশাল জয় পাওয়া গেছে বলে মনে করছে আওয়ামী লীগ। দলটির নির্বাচনী থিম সং ‘জয় বাংলা, জিতবে এবার নৌকা; নৌকা, নৌকা নৌকা আবার চাই’ একটি তরুণ-কর্মীদের পরিবেশনা।

থিম সংটি আওয়ামী লীগকে জনগণের কাছাকাছি নিয়ে গেছে। তরুণদের এমন অনেক পদক্ষেপ ছিল দলটির নির্বাচনী প্রচারে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও চান দলের তরুণদের সম্পৃক্ত ব্যাপকহারে বাড়ুক। এজন্য তিনি তার বর্তমান সরকারের মন্ত্রিসভায় তরুণদের প্রাধান্য দিয়েছেন। চলতি বাজেটেও তিনি তরুণদের জন্য একশ কোটি টাকা বরাদ্দ রেখেছেন।

এদিকে এরই মধ্যে ইন্টারনেটে ‘৭০ এ আওয়ামী লীগ, কি ভাবছে তারুণ্য?’-শীর্ষক মতামত জরিপ শুরু করেছে দলটি।

আওয়ামী লীগ সূত্র জানায়, মন্ত্রিসভায় তরুণদের দিয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যে চমক দিয়েছেন, আগামী কাউন্সিলেও বড় ধরনের চমক দেখা যেতে পারে। প্রতিশ্রুতিশীল অনেক তরুণ  নেতা যেমন টাইমলাইনে আসতে পারেন তেমনি ডাকসাইটে চলে যেতে পারেন প্রভাবশালী অনেক নেতা।

আগামী বছর স্বাধীনতার রজতজয়ন্তীর  আগে নতুন যুগোপযোগী এক আওয়ামী লীগ গড়তে প্রতিটি সেক্টরে তরুণদের অগ্রাধিকার দিচ্ছেন দলটির শীর্ষ নেতৃত্ব।