নৌকার বিপক্ষে এমপি-মন্ত্রীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে

0
37

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের বিপক্ষে গিয়ে ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ তকমা পাওয়া নেতাকর্মীদের বিষয়ে কঠোর সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। এরইমধ্যে সারা দেশ থেকে পাঠানো দুই শতাধিক নাম । তাদের মধ্যে বিদ্রোহী প্রার্থী ও মদদদাতাদের নাম আছে। অনেক সাবেক মন্ত্রী-সংসদ সদস্যও রয়েছেন অভিযুক্তদের তালিকায়।

দলীয় সূত্র বলছে, অভিযুক্তদের মধ্যে সরাসরি বহিষ্কার হবেন কেউ কেউ। অন্যদিকে, অপরাধ বিবেচনায় কারণ দর্শানোর নোটিশ পাবে একটি অংশ। জবাব সন্তোষজনক না হলে তারাও বহিষ্কার হবেন।

শনিবার দলের সম্পাদকমণ্ডলী ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। সেখানে অভিযোগ যাচাইয়ের জন্য স্ব স্ব বিভাগের দায়িত্বশীল নেতাদের দায়িত্ব দেয়া হয়। আগামী সপ্তাহ থেকেই এ বিষয়ে চিঠি পাবেন অভিযুক্তরা। 

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ‘উপজেলা নির্বাচনে যারা বিদ্রোহ করেছে, যারা মদদ দিয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেয়ার বিষয়টি সভায় আলোচনা হয়েছে। এ পর্যন্ত প্রায় দুইশ’ অভিযোগ পেয়েছি। এগুলো স্ব স্ব বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতাদের আমরা দিয়েছি। কারণ, কোনো কোনো অভিযোগ ব্যক্তিগত শত্রুতা থেকেও হতে পারে। ২৭ তারিখ পর্যন্ত তারা তা যাচাই-বাছাই করবে।

২৮ তারিখ থেকে আমরা কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পদক্ষেপে নেব। এক্ষেত্রে অপরাধ বিবেচনায় নিয়ে কাউকে বহিষ্কার এবং কাউকে শোকজ লেটার দেয়া হবে। অনেককে কারণ দর্শাতে বলা হয়েছে।’

গত ১২ জুলাই দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে উপদেষ্টা পরিষদ ও কার্যনির্বাহী কমিটির বৈঠকে বিদ্রোহী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়, নৌকার প্রার্থীর বিপক্ষে দল ও সহযোগী সংগঠনের যারা কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অভিযুক্ত মন্ত্রী-এমপি বা যতই প্রভাবশালী নেতাই হোক তারা বহিষ্কার ও শোকজের আওতায় আসবেন।

জানা গেছে, পাঁচ ধাপের উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে ১৪৩ জন দলীয় প্রার্থীর পরাজয় হয়েছে। বিএনপি অংশ না নেয়ায় অনেকটা একতরফা নির্বাচনেও বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কাছে পরাজিত হয়েছেন আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। এতে স্থানীয় রাজনীতিতে ক্ষমতার দাপট দেখানো মুখ্য ভূমিকা রেখেছে। যেখানে সংসদ সদস্য থেকে শুরু করে সাবেক মন্ত্রীও জড়িয়ে গেছেন। এলাকায় প্রভাব ধরে রাখার রাজনীতিতে জড়িয়ে পড়েছেন কেন্দ্রীয় অনেক নেতাও।

দলীয় সূত্র বলছে, বিদ্রোহী প্রার্থীদের অভিযোগের যে তালিকা কেন্দ্রে এসেছে সেখানে অন্তত অর্ধশত সাবেক এমপি-মন্ত্রী রয়েছেন। এছাড়া, বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল নেতারাও রয়েছেন। 

তবে শনিবার আওয়ামী লীগের ধানমন্ডি কার্যালয়ের বৈঠক সূত্রে জানা গেছে, বিদ্রোহী বা তাতে সমর্থন জানানো নেতারা দলীয় সহানুভূতি পাচ্ছেন না। এ বিষয়ে দলের শীর্ষ পর্যায়ে কঠোর মনোভব রয়েছে। ভবিষ্যতে দলীয় মনোনয়নের বাইরে গিয়ে যাতে কেউ নির্বাচন না করে সেজন্য এবার দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে চাইছে আওয়ামী লীগ।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবদুর রহমান রাইজিংবিডিকে বলেন, উপজেলা নির্বাচনে বিদ্রোহী প্রার্থী সে যেই হোক না কেন তার বিরুদ্ধে কঠোর সিদ্ধান্ত নেবে দল। যদিও সেই বিদ্রোহী প্রার্থী সভাপতি বা সাধারণ সম্পাদকও হয়, তার পদ নাও থাকতে পারে।