সাটুরিয়ায় প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণে ছয় মাস! ধর্ষকের বিরুদ্ধে থানায় মামলা !

0
117

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার।। মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার ফুকুরহাটি ইউনিয়নের রাইল্ল্যা গ্রামের মোঃ উজির আলীর শারীরিক ও মানষিক প্রতিবন্ধী মেয়ে রোপা আকতার (১৭) কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগে ভিকটিমের বাবা বাদী হয়ে সাটুরিয়া থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছেন।

গত বুধবার দিবাগত রাত ১২টা ১৫ মিনিটে অর্থাৎ ১৮ জুলাই/১৯ ইং তারিখে ধর্ষিতা রোপার পিতা মোঃ উজির আলী বাদী হয়ে একই এলাকা রাইল্ল্যা গ্রামের লাল মিয়ার পুত্র মোঃ মোহন আলী(৬০) এর বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ০৯/সাটু/১৯ নং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণের মামলা দায়ের করেন।

ধর্ষণের অভিযোগের ভিওিতে গত ১৭ জুলাই ডর্জন খানেক সাংবাদিক ধর্ষিতার বাড়িতে অনুসন্ধানে গেলে ধর্ষিতার পিতা উজির মিয়া বলেন যে, আমি গরিব তাই বিভিন্ন জায়গায় শ্রমিকের কাজ করতে যেতে হয়। এ ছাড়া রোপার মাও মারা গিয়েছে।

এ সময়ে বাড়ি ফাকা থাকায় আমার প্রতিবন্ধী মেয়ে রোপাকে একা পেয়ে এলাকার লাল মিয়ার ছেলে মোঃ মোহন আলী (৬০) চলতি বছরের গত জানুয়ারী মাসে আমার ঘরে ও বাড়ির পাশ্বে থাকা তার ভূট্টা ক্ষেতে নিয়ে একাধিক বার ধর্ষণ করে। ফলে আমার মেয়ে রোপা মোহন আলীর ধারা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পরে।

এ বিষয় নিয়ে মোহনের বিরুদ্ধে এলাকায় গ্রাম্য নালিশ সালিশ চাহিলেও সে বিচারে রাজি হয়নি। ফলে আমি গতকাল ১৬ জুলাই মানিকগঞ্জ শহরের মেডিকেয়ার ক্লিনিকে রোপাকে নিয়ে আল্ট্রাস্নোগ্রামের মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করলে ডাক্তার জানান যে, রোপা গর্ভবর্তী, সুতরাং তার পেটে ২৬ সপ্তাহ বয়সের সন্তান আছে। সার্বিক বিষয়ে প্রতিবন্ধী রোপাও সব স্বীকার করেছে।

তবে রোপার কথার মধ্যে কিছু গরমিল পাওয়া যায়। সে এক বার বলে যে কাজ হয়েছে রাতে ঘরের মধ্যে আবার বলে যে ঘরে না ক্ষেতে। এ সময়ে মোঃ ছকেল মাদবর, মোঃ আঃ হালিম মাদবর ও মোঃ ভোলন মাদবরসহ আরো অনেক গণ্যমান্য বক্তিবর্গ ও নারী-পুরুষ উপস্হিত ছিলেন।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত আসামী মোহন মিয়ার বাড়িতে তথ্য উপাত্ত্ব সংগ্রহ করতে গেলে তাকে বাড়িতে পাওয়া যায়নি। তবে মোহনের স্ত্রী কুলসুম বলেন যে, আমার স্বামী মোহন খুবই নম্র, ভদ্র ও ভাল মানুষ। আমার স্বামী মোহন কখনো এ খারাপ কাজ করতে পারেনা। অন্য কেউ এ কাজ করেছে । টাকা পয়সার লোভে শক্রুতা করে আমার স্বামীকে ফাসিয়ে দিয়েছে। এলাকার কোন মানুষই তাকে খারাপ বলতে পারবে না, -জেনে দেখুন।

মোহনের মুঠো ফোনে তার নিকট এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি প্রতিবন্ধী রোপার সাথে কোন দিনই এ কাজ করেনি। সব মিথ্যা কথা। একদিন ঠিকই সব সত্য বেরিয়ে আসবে। কেউ না কেউ আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে ও কুবুদ্ধি দিয়ে আমার সহায় সম্পদের লোভে ও মান সম্মান হানি করার চেষ্টায় করছে। আমি সবার কাছে এ অন্যায়ের ন্যায় ও সুবিচার চাই।

কেউ কেউ বলেন যে, ক্ষেতে যাওয়ার সুযোগে এ প্রতিবন্ধী মেয়েকে হয়তো সে এ কাজ করেও থাকতে পারে। আবার কেউ কেউ বলেন যে, এ বয়সে এ পর্যন্ত মোহনের বিরুদ্ধে এলাকায় কোন বিচার সালিশ হয়েনি।

মামলার বিষয়ে সাটুরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোঃ মতিয়ার রহমান মিয়ার নিকট জানতে চাইলে এ প্রতিনিধিকে জানান, যে ধর্ষণের শিকার প্রতিবন্ধী তরুণীর বাবা উজির বাদী হয়ে গতকাল মোহনকে আসামি করে থানায় ধর্ষণের মামলা দায়ের করেছে। আসামীকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান অব্যাহত আছে।