ভয়াবহ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়য়িছেে আমরা বাঁচবো কি বাঁচবো না- মির্জা ফখরুল

0
33
 
স্টাফ রিপোর্টার: রাজধানীসহ দেশজুড়ে ডেঙ্গু রোগের বিস্তার নিয়ে ‘আতঙ্কে’র মধ্যে রয়েছেন, বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সোম বার (৫ আগস্ট ২০১৯) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে শরীয়তপুরের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওর-ঙ্গজেবের ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলে তিনি এ আতঙ্কের কথা জানান। কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব স্মৃতি সংসদ এ স্মরণসভা ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করে।

 

বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব স্মৃতি সংসদের আহবায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের সভাপতিত্বে স্মরণসভায় বক্তব্য রাখেন, বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির ও আওরঙ্গজেবের স্ত্রী এ্যাড. তাহমিনা আওরঙ্গ, সদস্য মুক্তিযোদ্ধা শাহ্ মোহাম্মদ আবু জাফর, সদস্য এ্যাড. জামাল শরীফ হিরু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক শহিদুল ইসলাম বাবুল, মহিলা দলের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক হেলেন জেরিন খান, যুবদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক আ. জব্বার খান, যুবদল ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি এস.এম জাহাঙ্গীর হোসেন, শরীয়তপুর জেলা বিএনপি’র সহ-সভাপতি আ. মান্নান মাদবর, ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক জামাল উদ্দিন বিদ্যুৎ, ছাত্রদলের সাধারন সম্পাদক এইচএম জাকির হোসেন, শ্রমিক দলের সভাপতি এম.এ কাইয়ুম চুন্নু মুন্সী প্রমূখ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এখন সবচেয়ে ভয়াবহ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে আমরা বাঁচবো কি বাঁচবো না। ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হবো কি হবো না। আমাদের সাহেবরা যারা আমাদের মাথার ওপর ছুরি দিয়ে দেশ চালাচ্ছেন, তারা তো বলেন, সব কিছু ঠিক আছে, নিয়ন্ত্রণে আছে।

তিনি বলেন, জুন মাসে প্রথম যখন অর্থমন্ত্রী আক্রান্ত হলেন, তখন ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ৩৬ জন। আজকে পত্রিকায় আসছে সরকারি হিসেব অনুযায়ী ১৫ হাজার ৭’শ ৬০ জন। এ জুন, জুলাই, আগস্ট তিনমাস নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন আমাদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাহেব। তিনি কিছু জানেন না। কয়জন মারা গেছে তাও বলতে পারেন না।

‘আমাদের মেয়র যারাৃ নির্বাচিত হয়েছেন। আমরা জানি তারা কীভাবে নির্বাচিত হয়েছেন। ভোট দিতে কেউ যায়নি। তারা বললেন, এটা গুজব। অনেকে বলেছেন এটা গুজব। এখনো তারা যেসমস্ত কথাবার্তা বলছেন, তাতে একটা বিষয় পরিষ্কার হয়ে যায় যে, এদের কোনো দায়িত্বশীলতা নেই।’

মির্জা ফখরুল আরও বলেন, আওয়ামী লীগ ভাবছে তারা চিরদিন ক্ষমতায় থেকে যাবে। পারবে না, কারণ খালেদা জিয়ার শক্তি অন্য জায়গায়। দেশনেত্রীর শক্তি, এ দেশের সাধারণ মানুষ তাকে ভালোবাসে। উনি বের হবেন এবং এ দেশের মানুষ তাকে বের করবে। সংগ্রামের মধ্য দিয়েই বের করবে। সুতরাং হতাশ হবেন না। আমরা বারবার সংকটে পড়েছি, বিপদে পড়েছি। আবার ফিনিক্স পাখির মতোই জেগে উঠেছি।

এছাড়াও বক্তারা সাবেক এমপি কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব’কে রাজনীতির ক্ষনজন্মা নক্ষত্র হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তিনি ছিলেন একজন অসম সাহসী নেতৃত্ব, দেশ প্রেমিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা। তারা মরুহুমের রুহের মাগফেরাত কামনা সহ পরিবারে সদস্যদের মঙ্গল কামনা করেন।

উল্লেখ্য, শরীয়তপুরের সাবেক এমপি ও বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা কে.এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব ২০১৩ সালের এই দিনে ঢাকা-মাওয়া সড়কের মেদেনীমন্ডল ইউনিয়নের খানবাড়ি এলাকায় এক মর্মান্তিক সড়ক দূর্ঘটনায় তিনি মারা যান। ১৯৫৫ সালে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলার দক্ষিণ ডামুড্যা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন তিনি।

স্কুলজীবন থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে পা রাখেন বঙ্গবন্ধুর সৈনিক আওরঙ্গজেব। তিনি ১৯৯১ সালে আওয়ামীলীগের মনোনয়নে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ২০০১ সালের নির্বাচনে শরীয়তপুর-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন তিনি। পরে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন।

তিনি বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য ছিলেন। এছাড়াও পরে তিনি বিএনপি’র মনোনীত প্রার্থী হিসেবে শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা-গোসাইরহাট-ভেদরগঞ্জ) আসনে নির্বাচনও করেছেন। আর বর্তমানে তাঁর স্ত্রী এ্যাডভোকেট তাহমিনা আওরঙ্গ বিএনপি জাতীয় নির্বাহী কমিটির অন্যতম সদস্য হিসেবে কাজ করছেন।