১৫ আগস্ট হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন: আলহাজ্ব আওলাদ হোসাইন মিম

0
48

স্টাফ রিপোর্টার:  শোকাবহ ১৫ আগস্ট, জাতীয় শোক দিবস। ১৫ আগস্ট বাংলাদেশ ও বাঙালির সবচেয়ে হৃদয়বিদারক ও মর্মস্পর্শী শোকের দিন। এই দিন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী।

১৯৭৫ সালের এই দিনের কালরাত্রিতে ঘটেছিল ইতিহাসের সেই কলঙ্কজনক ঘটনা। কিছু উচ্ছৃঙ্খল ও বিপথগামী সৈনিকের হাতে স্ব-পরিবারে প্রাণ দিয়ে ছিলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি, স্বাধীনতার মহান স্থপতি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান।

রাষ্ট্রীয়ভাবে যথাযোগ্য মর্যাদায় ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে পালিত হচ্ছে জাতির জনকের শাহাদাৎ বার্ষিকী। এই দিনে বাঙালি জাতি গভীর শোক ও শ্রদ্ধায় স্মরণ করে তাঁর শ্রেষ্ঠ সন্তানকে। 

ঢাকার নবাবপুর দোকান মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক, এফবিসিসিআই’র জেনারেল বডি মেম্বার, মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়া উপজেলা আওয়ামী যুব লীগের সফল সাধারণ সম্পাদক, আওয়ামীলীগের নিবেদিত প্রাণ, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী, সমাজ সেবক, শিক্ষানুরাগী, দানবীর, জনতার নয়নের মনি, কর্মী বান্ধব, দুঃখি মানুষের আশ্রয় স্থল ও জনপ্রিয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আলহাজ্ব আওলাদ হোসাইন মিম সম্প্রতি এক আলোচনায় এসব কথা বলেন।

তিনি আর বলেন, ১৫ আগস্ট ২০১৯ ইং জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর ৪৪ তম শাহাদাৎ বার্ষিকী। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি ও বাঙালির মুক্তির সংগ্রামের অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। আমি বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর শাহাদাৎ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি।

এছাড়া বঙ্গবন্ধুর সুযোগ্য কন্যা হলেন, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সফল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আমি বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র দীর্ঘায়ু ও সুস্বাস্থ্য কামনা করছি।

উল্লেখ্য, নৃশংস ওই ঘটনায় বাংলার অবিসংবাদিত নেতা বঙ্গবন্ধুর সঙ্গে সেদিন আরো যারা প্রাণ হারিয়েছিলেন তারা হলেন: বঙ্গবন্ধুর সহধর্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, পুত্র শেখ কামাল, শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল, রোজী জামাল, ভাই শেখ নাসের ও কর্ণেল জামিল।

খুনিদের বুলেটে সেদিন আরো প্রাণ হারান, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মনি, তার অন্তঃসত্ত¡া স্ত্রী আরজু মনি, ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাত, শহীদ সেরনিয়াবাত, শিশু বাবু, আরিফ রিন্টু খান সহ অনেকে। প্রতিবছর ১৫ আগস্ট আসে বাঙালির হদয়ে শোক আর কষ্টের দীর্ঘশ্বাস হয়ে। আর আগস্ট মাস বাংলাদেশের মানুষের কাছে শোকের মাসে পরিণত হয়েছে আজকের এই দিনটির জন্যই।

ধানমন্ডির ঐতিহাসিক ৩২ নম্বর বাসভবনে স্ব-পরিবারে বঙ্গবন্ধু নিহত হলেও সেদিন আল্লাহ’র অসীম কৃপায় দেশে না থাকায় প্রাণে বেঁচে যান বঙ্গবন্ধুর জ্যেষ্ঠ কন্যা, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামীলীগের সভাপতি শেখ হাসিনা এবং কনিষ্ঠ কন্যা শেখ রেহানা। সে সময় স্বামী ড. ওয়াজেদ মিয়ার সঙ্গে জার্মানিতে সন্তান সহ অবস্থান করছিলেন শেখ হাসিনা। আর শেখ রেহানাও ছিলেন বড় বোনের সঙ্গে। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টেও সে রাতে কি ঘটেছিল তা স্মৃতিতে আনলে আঁতকে উঠতে হয়।

কাপুরুষোচিত আক্রমণ চালিয়ে পৈশাচিক পন্থায় ঘাতক দল রাতের অন্ধকারে হামলা চালায় স্বাধীনতার স্থপতির বাসভবনে। প্রথম তলার সিঁড়ির মাঝখানে নিথর পড়ে ছিলেন, ঘাতকের বুলেটে ঝাঁঝরা হওয়া চেক লুঙ্গি ও সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত স্বাধীনতার মহানায়ক জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অভ্যর্থনা কক্ষে শেখ কামাল, মূল বেডরুমের সামনে বেগম মুজিব, বেডরুমে সুলতানা কামাল, শেখ জামাল, রোজী জামাল, নিচতলার সিঁড়ি সংলগ্ন বাথরুমে শেখ নাসের এবং মূল বেডরুমে দুই ভাবীর ঠিক মাঝখানে বুলেটে ক্ষত-বিক্ষত রক্তাক্ত অবস্থায় পড়েছিল ছোট্ট শিশু শেখ রাসেলের লাশ।

রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতার শোক: শোক দিবস উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা পৃথক বাণী দেন। কর্মসূচি: এই দিনে সরকারি ছুটির দিন। সরকারি, আধা সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ভবন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি ভবনসমূহে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত থাকে। বিদেশস্থ বাংলাদেশ মিশনসমূহেও জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আওয়ামীলীগের কর্মসূচি: এই দিনে আওয়ামীলীগ সূর্য উদয় ক্ষণে বঙ্গবন্ধু ভবন এবং আওয়ামীলীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় সহ সংগঠনের সকল স্তরের কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিতকরণ এবং কালো পতাকা উত্তোলন করে। এছাড়াও বাংলাদেশ বেতার এবং বাংলাদেশ টেলিভিশন শোক দিবসের অনুষ্ঠানসমূহ সরাসরি সম্প্রচারসহ বিশেষ অনুষ্ঠানমালা প্রচার এবং সংবাদপত্রসমূহ বিশেষ ক্রোড়পত্র প্রকাশ করে।

এছাড়াও তিনি (আলহাজ্ব আওলাদ হোসাইন মিম) আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর একজন খাঁটি সৈনিক হলেন, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের এমপি এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস। তিনি বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনা’র নেতৃত্বে আওয়ামীলীগের জন্য ও মুন্সীগঞ্জ তথা দেশের জন্য কাজ করে চলছেন।

এমপি এ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাস এর প্রচেষ্টায় মুন্সীগঞ্জের রাজনৈতিক সকল প্রতিহিংসা ও সহিংসার অবসান হয়েছে। এলাকায় ব্যাপক উন্নয়ন হচ্ছে। তিনি মুন্সীগঞ্জের উন্নয়নে এক মডেল তৈরী করেছেন। তিনি কর্মী বান্ধব ও সকল ধর্মের মানুষের আশ্রয় স্থল। মৃনাল কান্তি দাস আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাবেক উপ-দফতর সম্পাদক।

বর্তমানে তিনি আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি (মৃণাল কান্তি দাস) ৫ জানুয়ারি ২০১৪ তারিখে অনুষ্ঠিত ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

এছাড়াও তিনি ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিতত্ব একাশদ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও মুন্সিগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।