লালমনিরহাটে পশুর হাটে জাল নোট ঠেকাতে বসছে বুথ

0
78
শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধিঃ আসন্ন ঈদ উল আযাহায় জমে উঠেছে লালমনিরহাটের কোরবানি পশুরহাট গুলো। পশুরহাটে জাল নোট সনাক্তে নেয়া হয়েছে বিশেষ কন্ট্রোল বুথ।
 
কন্ট্রোল বুথে পুলিশের পাশাপাশি রয়েছেন ব্যাংকের কর্মকর্তা ও প্রাণি সম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা। নিরাপদ কেনাকাটায় জেলার ছোট বড় প্রায় সকল হাটে নেয়া হয়েছে পর্যাপ্ত পুলিশী ব্যবস্থা। নিরাপত্তা জোরদার করায় জেলায় হাটগুলোতে ভিড়ছেন সারা দেশের পাইকাররা। তারা এসব হাটে পশু ক্রয় করে ট্রাকে ভড়ে নিয়ে যাচ্ছেন দেশের বড় বড় পশুরহাটে। তবে জেলার অধিকাংশ পশুর হাটে লাগামহীন ভাবে বেড়েছে ইজারা মুল্য। ফলে অনেক খামাড়ি তাদের পশু হাটে না নিয়ে পাইকারদের কাছে কম মুল্যে বিক্রি করছেন বলে অনেকের দাবি। 
 
জেলা প্রশাসন সুত্রে জানা গেছে, শুধু মাত্র ক্রেতার নিকট গরু মহিষ প্রতি ৩শত টাকা এবং ছাগল ভেড়া প্রতি ৬০ টাকা রশিদ মুলে ইজারা আদায় করবেন জেলার সকল হাটের ইজারাদাররা। কোন ভাবেই ইজারা ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের কাছে আদায় করা যাবে না। সরকারী এই বিধি কাগজ কলমেই সীমাবদ্ধ। ঈদকে পুজি করে জেলার সকল পশুর হাটে  ক্রেতা বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে গরু মহিষ প্রতি ৫/৬ শত টাকা এবং ছাগল প্রতি দুই থেকে আড়াইশত টাকা আদায় করা হচ্ছে বলে ক্রেতা বিক্রেতাদের অভিযোগ।
 
এ দিকে অতিরিক্ত ইজারা বন্ধে কিছু কিছু পশুর হাটে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে জরিমানা আদায় করছেন জেলা প্রশাসন। তবে সেটা লোক দেখানো বলেও মন্তব্য করেছেন অনেকে। তাদের দাবি ভ্রাম্যমান আদালত যতটুকু সময় থাকেন শুধু মাত্র সেই সময় নির্ধারীত মুল্যে ইজারা আদায় হয়। আবার ভ্রাম্যমান আদালত জরিমানা করে চলে গেলে ইজারা মুল্য আরো বেড়ে যায়। 
 
সাম্প্রতি সময় জেলার বড় পশুর হাট তিস্তা ও দুরাকুটি হাটে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করে অতিরিক্ত ইজারা আদায়ের অপরাধে দুই হাটের ইজারাদারের কাছে ২৭ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন ভ্রাম্যমান আদালতের বিচারক সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার(ভূমি) জি আর সরোয়ার। শুধু জরিমানা না করে অতিরিক্ত ইজারা আদায়কারীর ইজারা বাতিল করার দাবি জানান স্থানীয়রা।
 
লালমনিরহাট পুলিশ সুপার এসএম রশিদুল হক বলেন, ঈদে পশুর হাটে চুরি, ছিনতাই, অজ্ঞান পার্টির খপ্পার রোধে ও জাল নোট সনাক্তে জেলার প্রতিটি হাটে কন্ট্রোল বসানো হয়েছে। হাটে যতক্ষণ ক্রয় বিক্রয় চলবে ততক্ষনে চালু থাকে পুলিশ কন্ট্রোল। এ ছাড়াও ঈদে ঘরমুখো মানুষে যাত্রা নিরাপদ করতে সড়ক মহাসড়ক ও স্টেশনগুলো রয়েছে ট্রাফিক পুলিশের বিশেষ বুথ।