বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের জন্ম বার্ষিকীতে সভা

0
48


চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানের সহধর্মিনী বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের ৮৯তম জন্ম বার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভা হয়েছে চাঁপাইনবাবগঞ্জে।

জাতীয় মহিলা সংস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা শাখার আয়োজনে বৃহস্পতিবার সকালে ফুড অফিস মোড়স্থ সংস্থার কার্যালয়ে এ আলোচনা সভা হয়। সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জের সংরক্ষিত মহিলা আসনের সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী।

সভাপতিত্ব করেন সংস্থার চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের চেয়্যারমান আলহাজ্ব অ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা।  সংস্থার জেলা ভিক্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সহকারী প্রোগ্রামার তাসরিন সুলতানার স ালনায় অনুষ্ঠানের বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মিজানুর রহমান, যুবলীগ নেতা মেসবাহুল সাকের জ্যোতি।

আলোচনা সভায় উপস্থিত ছিলেন, সংস্থার ভারপ্রাপ্ত জেলা কর্মকর্তা সুফিয়া খাতুন, মহিলা সংস্থার মাঠ সমন্বয়কারী মো. কবির হোসেন, কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের প্রশিক্ষক মোসা. রাহনাজ বন্যা, নকশী কাঁথা ও কাটিং প্রশিক্ষণ কোর্ষের ট্রেড প্রশিক্ষক সিনুরা বেগম, সহকারী ট্রেড প্রশিক্ষক মুনিরা ইসলাম, দর্জি বিজ্ঞান কোর্সের ট্রেড প্রশিক্ষক রেহেনা ইয়াসমিন সংস্থার বিভিন্ন কোর্সের প্রশিক্ষনার্থীরা। সভায় বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের বর্ণাঢ্য জীবনী নিয়ে আলোজনা করেন বক্তারা। বক্তারা নারীদের বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা মুজিবের আদর্শে জীবন গড়ার আহবান জানান।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ফেরদৌসী ইসলাম জেসী বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দুরন্ত গতিতে এগিয়ে চলছে বাংলাদেশ। এতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার। কারন প্রধানমন্ত্রীর দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের কল্যাণে কাজ করার দূঢ়তা, সবসময় দেশের মানুষের কথা ভাবা, এসব তিনি শিখেছেন তাঁর মায়ের কাছ থেকেই।

বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছার জীবনী নিয়ে আলোচনায় তিনি আরো বলেন, দেশের আর দশটি নারীর মতোই তিনি ছিলেন, অত্যন্ত এক সাধারণ নারী। তিনি কোন সাজ-স্বজ্জা পছন্দ করতেন না। তিনি সবসময় কিভাবে দেশের কল্যাণ ও দেশের স্বাধীনতা অর্জন সম্ভব সেসব পরামর্শ দিতেন বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমানকে। এমনকি মৃত্যুর পরেও তিনি তাঁর দুটি চোখ দান করে গেছেন।

তাঁর আদর্শে নিজেদের গড়ে তোলার আহব্বান জানিয়ে উপস্থিত প্রশিক্ষনার্থীদের উদ্দেশ্যে এমপি জেসী বলেন, তাঁর মতো মানুষকে ভালোবাসতে শিখতে হবে। তাহলেই সমাজে অন্যায়, অত্যাচার দূর হয়ে ভালোবাসায় ভরে উঠবে। তাঁর আদর্শকে ধারন করে নারীরা এগিয়ে আসলে উন্নত দেশ গঠন করা খুবই সহজ। তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা নিয়ে নিজেদেরকে প্রতিষ্ঠিত করতে ও দেশের কল্যানে সকলকে কাজ করার আহব্বান জানান তিনি।

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. মিজানুর রহমান বলেন, আমাদের দেশে একসময় নারীরা নিজেদেরকে অসহায় ভাবতো, কিন্তু প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে ও সময়ের পরিবর্তনের সাথে এখন তা ভাবার কোন সুযোগ নেয়। কারন নারীরা আজ স্বপ্ন দেখতে শিখেছে, তারা বাড়ি থেকে বাইরে বের হয়েছে। সকল নারীদের জন্য বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা একজন আদর্শ নারী।

তিনি আরো বলেন, দেশের জন্য বঙ্গবন্ধু তাঁর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় জেলে কাটিয়েছেন। সেই সময়গুলোতে বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে দলকে শক্ত হাতে পরি চালনা করেছেন। এমনকি নিজের গহণা, অর্থ-সম্পত্তি বিক্রি করে দলকে চালিয়েছেন। তাঁর জীবনী থেকে শিক্ষা নিলে সমাজে কোন নারী পিছিয়ে থাকবে না এবং ২০৪১ সালের অনেক আগেই বাংলাদেশ উন্নত দেশের কাতারে পৌছাবে।

সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে জাতীয় মহিলা সংস্থা চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কার্যালয়ের চেয়্যারমান ও জেলা যুব মহিলালীগের সভাপতি আলহাজ্ব অ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা বলেন, বঙ্গবন্ধু জেলে থাকা অবস্থায় দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আ.লীগের সেই সময় নেয়া গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তগুলো তাঁকে জানাতেন বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা।

এমনকি অনেক সময় বঙ্গবন্ধুর সাথে তিনি জেলে দেখা করতে গেলে কোন কথা বলতে দেয়া হতো না। তাই বঙ্গমাতা ফজিলাতুন নেছা দলের বিভিন্ন সমস্যা ও সিদ্ধান্তসমূহ খাবারের মধ্যে চিঠির মাধ্যমে বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বর্তমানে দেশের জন্য যা করছেন, তার সব কিছুই তাঁর বাবা-মা’র শিক্ষা উল্লেখ করে প্রশিক্ষণার্থীদের উদ্দেশ্যে তিনি আরো বলেন, নিজেদেরকে নারী না ভেবে, সমাজের একজন মানুষ ভেবে নিজেদের উন্নয়নে কাজ করতে হবে। তাঁর আদর্শে উপনীত হয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নারী সংস্থার মাধ্যমে দেশের নারীদের জন্য ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছেন। পরে তিনি সমাজের নারীদের উন্নয়নে মহিলা সংস্থার বিভিন্ন কার্যক্রমের তথ্য তুলে ধরেন।