কাশ্মীরে সুদিন ফেরার আশ্বাস নরেন্দ্র মোদীর !

0
92
সংবিধানের ৩৭০ ধারায় জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ মর্যাদা বাতিল এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। এর ফলে সমগ্র উপত্যকার মানুষ দীর্ঘ বঞ্চনার হাত থেকে অবশেষে মুক্তি পাবেন। বৃহস্পতিবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে জানালেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। 

৩৭০ ধারা বাতিল নিয়ে নানান বিতর্কে জল ঢালতে জাতির উদ্দেশে ভাষণে সরকারি পদক্ষেপের বিস্তারিত ব্যাখ্যা করলেন প্রধানমন্ত্রী। তাঁর দাবি, জম্মু ও কাশ্মীরে আমাদের ভাই-বোন ও সন্তানদের এতদিন যে প্রভূত ক্ষতি হয়ে চলেছিল, এই পদক্ষেপের জেরে এবার তা দূর হবে। 

এদিন দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, ‘জম্মু-কাশ্মীর ও লাদাখে বাসিন্দাদের চিন্তা গোটা দেশের চিন্তা। জম্মু-কাশ্মীরে ঈদ পালনে মানুষদের কোনও অসুবিধা যাতে না হয়, তা সরকার নিশ্চিত করছে।’ 

তিনি বলেন, দেশের সকল নাগরিকের অধিকার সমান। লাদাখ ও জম্মু ও কাশ্মীরবাসীর অধিকারও সমান। কিন্তু এতদিন তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখবাসী। তাঁর দাবি, এতদিন সন্ত্রাসের আতুরঘর ছিল জম্মু ও কাশ্মীর। পরিসংখ্যান দিয়ে তিনি জানান, গত ৩০ বছরে ৪২,০০০ নির্দোষ মানুষ সন্ত্রাসের বলি হয়েছেন। নমোর মতে, একই সঙ্গে দু’টি ধারা জারি থাকায় উপত্যকায় সন্ত্রাস বেড়েছে।
 
প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের অন্যান্য প্রান্তের নাগরিকরা যে সমস্ত সরকারি প্রকল্পের দ্বারা উপকৃত হয়েছেন, তার কোনও কিছুরই অংশ জোটেনি জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের মানুষের বরাতে। উদাহরণ দিতে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, নারী কল্যাণ, কর্মসংস্থান, সরকারি কর্মীদের জন্য কেন্দ্রের একাধিক প্রকল্পের সুযোগ-সুবিধা থাকা সত্ত্বেও এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তের বাসিন্দারা তার সুবিধা পেলেও জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখবাসী তার থেকে বঞ্চিত ছিলেন বলে মনে করিয়ে দেন। তাঁর আশ্বাস, সে সবেরই আস্বাদ নিতে পারবেন এবার উপত্যকার মানুষ। 

তিনি বলেন, অন্য রাজ্যে দলিতদের কল্যাণে সরকারি প্রকল্প রয়েছে, কিন্তু উপত্যকার মানুষ তা থেকে বঞ্চিত। সংখ্যালঘুদের সুবিধাও তাঁরা পাননি। শ্রমিকদের জন্য কেন্দ্রের বিবিধ প্রকল্পের সুবিধাও তাঁরা পাননি। পাশাপাশি, কাশ্মীরের মহিলারা বঞ্চিত হয়েছেন দেশের অন্য প্রান্তের মহিলাদের তুলনায়। 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আইন দেশবাসীর ভালোর জন্য। কিন্তু জম্মু ও কাশ্মীরের মানুষ ও লাদাখবাসী তা থেকে এতদিন বঞ্চিত ছিলেন। তাঁর দাবি, একশো কোটির জন্য যে আইন কার্যকরী ছিল, তা এতদিন কাশ্মীরে কার্যকরী ছিল না। 

নরেন্দ্র মোদী এদিন অভিযোগ করেন, কিছু লোকের প্ররোচনায় এবং পাকিস্তানের উস্কানিতে কেন্দ্রের এই ঐতিহাসিক পদক্ষেপের অন্য রূপ দেওয়া হচ্ছে। তিনি বলেন, এতদিন বিশেষ মর্যাদার সুযোগ নিয়ে সন্ত্রাস ছড়াতে কাশ্মীরকে ব্যবহার করত পাকিস্তান। এবার তার অবসান ঘটবে বলে তিনি দাবি করেন। 

এদিনের ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের দেশের লোকতন্ত্র অত্যন্ত মজবুত। কিন্তু কয়েক দশক জুড়ে জম্মু ও কাশ্মীরে তা ব্রাত্যই ছিল। আজ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের স্বপ্ন পূর্ণ হয়েছে। সর্দার বল্লভভাই প্যাটেলের স্বপ্ন সফল হয়েছে। বি আর অম্বেডকরের স্বপ্ন এতদিনে সার্থক হল। দেশের সব নাগরিক আজ সমান। কাশ্মীর ও লাদাখের মানুষের জন্য নতুন যুগের উন্মেষ ঘটেছে।’ 

তিনি জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখের বাসিন্দাদের জন্য এবার কেন্দ্রীয় প্রকল্পের দরজা খুলে গিয়েছে। তাঁদের কল্যাণে এবার দ্রুত পদক্ষেপ করবে সরকার। অতি দ্রুত সরকারি কর্মী, পুলিশ ও সেনাবাহিনীতে উপত্যকার বাসিন্দাদের নিয়োগ শুরু হবে।
 
কাশ্মীরে পর্যটনক্ষেত্র তৈরি হবে। ভারতীয়র পাশাপাশি বিদেশি ছবির শ্যুটিং হবে জম্মু ও কাশ্মীর এবং লাদাখে। দশকের পর দশক ধরে স্থগিত সরকারি প্রকল্পগুলি এবার বাস্তবায়িত হবে। লাদাখকে সামনে রেখে ওষুধশিল্প গড়ে তোলা হবে। 

প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, জম্মু ও কাশ্মীর কিছু দিন কেন্দ্রের হাতে থাকবে। শীঘ্রই সেখানে নির্বাচনও অনুষ্ঠিত হবে। স্থানীয়রাই বেছে নেবেন জনপ্রতিনিধি। যাঁরা এলাকায সমস্যা তৈরি করতে চান, তাঁদের সামলাবেন স্থানীয়রাই। লাদাখ থাকবে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল হিসেবেই।