শরীয়তপুরে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষা বঞ্চিত হলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান

0
27


খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর ॥ শরীয়তপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের এসইআইপি প্রকল্পের অধীন মোটর ড্রাইভিং উইথ বেসিক ম্যান্টেনেন্স প্রোগ্রামের ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়া থেকে বঞ্চিত হলেন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শফিকুর রহমান।

প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের কাছে মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় দেয়ায় ইচ্ছাকৃত ভাবে তাকে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআরটিএ)’র পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেননি বলে প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে লাইসেন্স প্যত্যাশী ওই মুক্তিযোদ্ধার সন্তান। একই সাথে প্রশিক্ষণ পরবর্তী ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার স্বপ্ন ভেঙ্গেছে তার।

ড্রাইভিং লাইসেন্স প্রত্যাশী শফিকুর রহমান শরীয়তপুর সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আব্দুল আজিজ সিকদারের ছেলে।

শরীয়তপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজ সূত্র জানায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারী থেকে দুই শিফটে এই প্রশিক্ষণ শুরু হয়। প্রতি শিফটে ২০ জন করে ৪০ জন প্রশিক্ষণার্থী ভর্তি হয়। চলতি বছরের জানুয়ারীর ১ তারিখ থেকে ৩০ এপ্রিলের মধ্যে প্রথম ব্যাচের প্রশিক্ষণ সমাপ্ত হয়েছে। ১ মে থেকে দ্বিতীয় ব্যাচে প্রশিক্ষণ শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট শেষ হয়।

দ্বিতীয় ব্যাচের প্রশিক্ষণার্থীদের বিআরটিএ ৩ সেপ্টেম্বর চুড়ান্ত পরীক্ষা গ্রহন করে। সেই পরীক্ষায় শরীয়তপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুর ও কলেজ থেকে ৩৯ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহন করে ৩৭ জন কৃতকার্য হয়েছে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান শফিকুর রহমান নামে এক প্রশিক্ষণার্থীর হাজিরা প্রতিবেদনে উপস্থিতি কম থাকায় তাকে পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে দেয় হয়নি। বিআরটিএ’র পরীক্ষায় যারা অংশগ্রহন করতে পারেনি বা পরীক্ষায় অংশগ্রহন করে ফেল করেছে তাদের জন্য বিকল্প কোন সুযোগ রাখা হয়নি। সেই কারনে মুক্তিযোদ্ধার সন্তানকে সুযোগ দেয়া সম্ভব হয়নি।

সুবিধা বঞ্চিত শিক্ষার্থী শফিকুর রহমান জানায়, সে শরীয়তপুর সরকারি কলেজের সম্মান তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। এছাড়াও সে জেলা ফুটবল দলের একজন খেলোয়ার। কলেজের নির্ধারিত কাজ, বিভিন্ন পরীক্ষা, ক্লাস ও খেলাধুলা ঠিক রেখে শরীয়তপুর টেকনিক্যাল স্কুলে গিয়ে মোটর ড্রাইভিং লাইসেন্স পাওয়ার জন্য প্রশিক্ষণ করেছে।

প্রতিদিন সকাল সারে ৮টায় টেকনিক্যাল স্কুলে প্রশিক্ষণ শুরু হয়। সে সময়মতো ক্লাশে উপস্থিত হতো। অনেক সময় ৫/১০ মিনিট দেরিতে ক্লাসে গেলে তাকে পরিকল্পিত ভাবে অনুপস্থিত দেখিয়ে প্রতিবেদন দাখিল করা হতো। সেই অবস্থায় তার উপস্থিতি ৮০ শতাংশের চেয়ে কিছু কম হয়ে যায়। তাই তাকে বিআরটিএ’র পরীক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়। সেই ক্ষেত্রে হাজিরা প্রতিবেদন প্রস্তুতকারী নান্নু অধ্যক্ষকের কান ভারী করেছে।

কারণ হিসেবে শফিকুর রহমান জানায়. নান্নু তার একজন আত্মীয়কে এই কোর্সে ভর্তির পায়তারা করে। সফিকুরকে বাছাই কমিটি কোন প্রকার পরীক্ষা নিরিক্ষা না করে সরাসরি ভর্তির সুযোগ জরে দেয়। সেইজন্য নান্নু তার প্রভাব বিস্তার করে নিকট আত্মীয়কে ভর্তি করতে পারেনি। তাই অধ্যক্ষকে ফুসলিয়ে কৌশলে শফিকুরকে পরিক্ষা থেকে বঞ্চিত করা হয়।

শফিকুর আরও জানায়, বিষয়টি নিয়ে সে অধ্যক্ষের নিকট যায়। সে অধ্যক্ষকে বিষয়টি বুঝিয়ে বলতে চেষ্টা করে এবং সে একজন মুক্তিযোদ্ধার সন্তান পরিচয় প্রদান করে। তখন অধ্যক্ষ তেল-বেগুলে জ্বলে উঠে।

অধ্যক্ষ শফিকুরের উপস্থিতিতে বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের জন্যই দেশের এই অবস্থা। তারা সকল বিষয়ে বারাবারি করে। চাকরিতে কোটা, এই সুযোগ ওই সুবিধা সহ সকল কিছুই মুক্তিযোদ্ধা দের দরকার। এই ক্ষেত্রে মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য বিশেষ কোন সুবিধার কথা বলা নাই। হাজিরা প্রতিবেদনে তোমার উপস্থিতি কম তাই তুমি পরীক্ষায় অংশগ্রহন করতে পারবে না।

পরবর্তীতে শফিকুরের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আজিজ সিকদারকে মোবাইর ফোনের মাধ্যমে অধ্যক্ষ বলেছেন, “প্রশিক্ষণ ক্লাসে শফিকুরের উপস্থিতি কম ও আপনি স্বচ্ছল ব্যক্তি এ ছাড়া আপনার ছেলের কোন অপরাধ নাই।” অথচ ৮০ শতাংশের চাইতে অনেক কম উপস্থিতি ছিল শান্তা, শোভন, মুজাম ও মারুফের। অধ্যক্ষ তাদের পরীক্ষায় অংশগ্রহনের সুযোগ প্রদান করেছেন এবং তার কৃতকার্য হয়েছেন।

এই বিষয়ে শফিকুরের পিতা মুক্তিযোদ্ধা আ. আজিজ সিকদার বলেন, অধ্যক্ষ এটা খুব অমানবিক কাজ করেছে। সে আমাকে ফোনে অনেক উল্টাপাল্টা কথাও বলেছে। আমার ছেলে কষ্ঠ পাবে তাই ছেলেকে কিছু বলিনি। আমি এই বিষয়ে উর্ধ্বতণ কর্তৃপক্ষকে অবগত করব।

শরীয়তপুর সরকারি টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ সানোয়ার হোসেন কে বুধবার সকাল সারে ১০টায় তার কার্যালয়ে গিয়ে পাওয়া যায়নি। পরবর্তীতে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হয়। অপর পাশ থেকে মোবাইলে রিংটোন বাজলেও সে কল রিসিভ করেনি। তাই তার বক্তব্য প্রদান করা গেল না।