ভেদরগঞ্জে চুল কেটে শিক্ষার্থীদের শাসন করলেন প্রধান শিক্ষক

0
64


খোরশেদ আলম বাবুল, শরীয়তপুর ॥ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের চুল কেটে দিয়ে শাসন করার অভিযোগ উঠেছে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও দপ্তরীর বিরুদ্ধে। জোর করে চুল কেটে দেয়া হয়েছে বলে ১১ শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকগণ অভিযোগ করেছেন। ঘটনা পরবর্তী বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠেছে এলাকাবাসী। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন অভিভাবক ও স্বজনরা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসারের নির্দেশে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়েছে। অভিযো গের বিষয়টি তদন্তের জন্য ভেদরগঞ্জ উপজেলা সহকারী প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মশিউল আজম হিরক সোমবার বিদ্যালয়ে গেছেন। অভিযোগের বিষয়টি তদন্তে প্রমানিত হলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার।

সরেজমিন ঘুরে জানাযায়, জেলার পশ্চাদপদ ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরা লে অবস্থিত ২৯ নং ডিএমখালী বোর্ড সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। গত বৃহস্পতি বার ওই বিদ্যালয়ের প ম শ্রেণীর সাথী, মারিয়া, তাজরিন, ফাহমিদা, সুমাইয়া, শ্রাবন্তি, ইতি, ফারহানা, নাহিদা ও ফাতেমাসহ ১১ ছাত্রীর চুল প্রধান শিক্ষক কাবেরী গোপের নির্দেশে এলোমেলোভাবে কেটে দেয় বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশ প্রহরী জুম্মাান।

দপ্তরী চুল কাটতে এলে ছাত্রীরা বারবার নিষেধ করে। শিক্ষার্থীদের বাঁধা উপেক্ষাকরে প্রধান শিক্ষক দাড়িয়ে থেকে দপ্তরীকে চুল কাটতে হুকুম করে। জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কেটে দেয় দপ্তরী। তখন লজ্জায় ছাত্রীরা কান্নাকাটি করে। আশপাশ থেকে অভিভাবকরা এগিয়ে এলে প্রধান শিক্ষক কাউকে বিদ্যালয়ে ঢুকতে দেয়নি।

ছেলে দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী মেয়েদের চুল কেটে দিয়েছে, এ খবর জানাজানি হওয়ায় লজ্জায় ভেঙে পড়েছে ছাত্রীরা। কেউ কেউ বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। এলাকাবাসীর মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় প্রধান শিক্ষকের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।

চুল কেটেফেলা ছাত্রী নাহিদা জানায়, তার চুল অনেক বড় ছিলো। সে চুল কাটতে বারবার নিষেধ করেছি। ম্যাডাম হুকুমে দপ্তরি জোর করে তার চুল কেটে দিয়েছে। সে অনেক কান্নাকাটি করেছিল। যেভাবে এলোপাথারি চুল কেটেছে, এখন পুরো চুল ফেলে দেয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই। তাই লজ্জায় স্কুলে যায়নি সে।

সাথী নামের আরও এক ছাত্রী জানায়, তারা কান্না করেছি। ম্যাডাম বলে, মাথায় চুল থাকলে ব্রেণ খারাপ হয়ে যায়। ঊঁকুনে রক্ত খেয়ে ফেলে। তাই চুল কেটে দিয়েছে। দপ্তরী পুরুষ মানুষ হয়েও বিদ্যালয়ের অন্যান্য শিক্ষার্থীর সামলে এলোমেলে করে চুল কাটায় অনেক লজ্জা পেয়েছি। তাই তার সব চুল কেটে টাক হয়ে গেছে।

নাহিদার বাবা দেলোয়ার বেপারী বলেন, আমার মেয়ে বড় হয়ে গেছে। কিছু দিন পড়ে হাইস্কুলে যাবে। একজন পুরুষ দপ্তরী দিয়ে আমার মেয়ের চুল কাটার সাহস প্রধান শিক্ষক পেলো কোথায়? চুল হলো মেয়েদের অলঙ্কার। এখন মেয়ে স্কুলে যায় না। লজ্জায় ঘর থেকে বের হয় না। আমি ঘটনার সাথে জড়িতদের বিচার চাই।

স্থানীয় আব্দুর রহমান বলেন, একজন নারী প্রধান শিক্ষক কিভাবে ছেলে দপ্তরী দিয়ে এত বড় মেয়েদের চুল কাটায়। মেয়েদের চুলগুলো যেভাবে কেটেছে দেখলে যে কারো কষ্ট লাগবে। চুলের জন্য মেয়েরা যেভাবে কান্না করেছে তাতেও শিক্ষিকার মন গলেনি। এই প্রধান শিক্ষক ও তার দপ্তরীর বিচার হওয়া দরকার।

ওই বিদ্যালয়ের দপ্তরি কাম নৈশপ্রহরী জুম্মান বলেন, প্রধান শিক্ষিকার নির্দেশে ছাত্রীদের চুল কেটেছি। বিদ্যালয়ে কাচি ছিল। তা দিয়ে চুল কেটেছি। আমার কোনো দোষ নেই।

অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষিকা কাবেরী গোপ বলেন, আমি মাসখানেক আগে মা-সমাবেশে মেয়েদের চুল সেটিংস করে আসতে বলেছিলাম। কিন্তু ওরা আমার কথা বুঝেনি। শিক্ষার পরিবেশ সুন্দর করতে আমি উপস্থিত থেকে দপ্তরিকে দিয়ে মেয়েদের চুল কেটেছি। এ নিয়ে কিছু লোক যড়যন্ত চালাচ্ছে।

ভেদরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (অতিরিক্ত দায়িত্ব) মো. মাহাবুর রহমান শেখ বলেন, আমি বিষয়টি জানার সাথে সাথে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নিয়ে অবহিত করতে বলেছি।

শরীয়তপুর জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার মো. আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমি সাংবাদিকদের মাধ্যমে বিষয়টি জেনেছি। বিষয়টি দুঃখজনক। প্রধান শিক্ষক জোরপূর্বক ছাত্রীদের চুল কাটতে পারেন না।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তাকে সরেজমিন গিয়ে তদন্ত করে প্রতিবেদন দাখিল করতে নির্দেশ দিয়েছে। প্রতিবেদন হাতে পেলে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।