মুশফিকদের দিল্লি জয় !

0
32

বেঙ্গালুরুর দায়মোচন করে কোহলির সতীর্থদের মাটিতে নামিয়ে দিল্লি জয় করল বাংলাদেশ। বিজয়ের ঝান্ডা উড়াল সাকিব-তামিমবিহীন বাংলাদেশ।

৩ বলে এক চার মেরে লক্ষ্যের পথে ছুটলেন লিটন। তাকে চতুর্থ বলে থামিয়ে দেন দীপক চাহার। ভালো শুরুর পর উইকেট উপহার দেওয়ার অভ্যাস গেল না লিটনের!

দ্বিতীয় উইকেটে সৌম্য ও অভিষিক্ত নাঈম শেখের ৪৬ রানের জুটি। জয়ের ভিত পেয়ে যায় বাংলাদেশ। নাঈম ২ চার ও ১ ছক্কায় ২৬ রান তুলে আত্মবিশ্বাসে জ্বালানি দিয়ে আউট হন যুজবেন্দ্র চাহালের বলে।

এরপর সৌম্য ও মুশফিকের ব্যাটে জয়ের পথে এগিয়ে চলা। দুজনের ৫৫ বলে ৬০ রানের দায়িত্বশীল জুটিতে সব পাওয়া হয়ে যায় বাংলাদেশের। শেষটায় আক্রমণ চালানোর পরিকল্পনা ছিল বাংলাদেশের। মুশফিক শেষ পর্যন্ত টিকে থাকার পণ করেছিলেন। জানতেন ক্রিজে থাকলে জয় বের করে আনতে পারবেন।

পরিকল্পনা মাফিক কাজও হলো। তখন ১০ বলে ২০ রান লাগত বাংলাদেশের। বাঁহাতি পেসার খলিলকে পরপর চারটি চার মুশফিকের। ওই ওভারে ১৮ রান তুলে শেষ ওভারে জয়ের জন্য বাংলাদেশ ব্যবধান নামিয়ে আনে ৪-এ।

শেষ ওভারের দ্বিতীয় বলে মাহমুদউল্লাহর দুই রানে ব্যবধান নামে ২-এ। ম্যাচ টাই হয় ওয়াইডে। জয়ের জন্য দরকার ছিল স্মরণীয় কোনো মুহূর্ত। মাহমুদউল্লাহ ওভারের তৃতীয় বলে ডাউন দ্য উইকেটে এসে হাঁকালেন ছক্কা।

ওই শটে বাংলাদেশের দিল্লি জয় নিশ্চিত হয়। মুশফিক ৪৩ বলে ৮ চার ও ১ ছক্কায় অপরাজিত ৬০ রানে। তাতেই ম্যাচ সেরার পুরস্কার উঠল মুশফিকের হাতে।

কোহলি না থাকায় রোহিত শর্মার ওপর ছিল রাজ্যের চাপ। বাংলাদেশের মূল কাঁটা ছিল রোহিতই। প্রথম পাঁচ বলে দুই চার মেরে রোহিত ভয় পাইয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু শফিউল বদলা নেন ওভারের শেষ বলে।

দারুণ ইনসুইং ডেলিভারিতে ভারতের ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক এলবিডব্লিউ ৯ রানে। রিভিউ নিয়েও বাঁচতে পারেননি। প্রথম ওভারে উইকেট হারিয়ে চাপে ভারত।

শিখর ধাওয়ান, লোকেশ রাহুল কিংবা শ্রেয়াস আইয়ার, ঋষভ পন্তরা রান তুলতে পারছিলেন না মনমতো। এক্ষেত্রে বাংলাদেশের বোলারদের কৃতিত্ব দিতেই হবে। বিশেষ করে লেগ স্পিনার আমিনুল ইসলাম বিপ্লব, অফ স্পিনার আফিফ হোসেনকে মাথায় তুলতেই হবে।

রাহুল ও আইয়ারকে বড় রান করতে দেননি বিপ্লব। নিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টি খেলতে নেমে যে পরিণত বোলিং করেছেন, তা ছিল সত্যিই মনোমুগ্ধকর। তার বোলিং ফিগার ছিল এরকম ৩-০-২২-২। ‘গেম চেঞ্জার অব দ্য ম্যাচে’র পুরস্কার উঠেছে বিপ্লবের হাতে। আর আফিফের বোলিং ছিল বিশেষ কিছু, ৩-০-১১-১।

মাহমুদউল্লাহর অধিনায়কত্ব প্রশংসার দাবিদার। নিয়মিত বিরতিতে বোলিং পরিবর্তন করেছেন। এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো ২০ ওভার শেষ করেন বাংলাদেশের ৮ বোলার।

এর আগে ২০১১ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে ৮ বোলার বোলিং করেছিলেন। স্পিনারদের ভিড়ে পেসাররাও দ্যুতি ছড়িয়েছেন। তিন বছর পর দলে ফেরা আল-আমিন প্রথম তিন ওভারে দিয়েছিলেন মাত্র ১১ রান।

শেষ ওভারে ১৬ রান দিয়ে নিজের ফেরা রঙিন করতে পারেননি। শফিউল শেষ ওভারে ১৪ রান দেওয়া বাদে পুরো ম্যাচেই ভালো বোলিং করেছেন। ৩৬ রানে পেয়েছেন ২ উইকেট। মুস্তাফিজ ২ ওভারে ১৫ রান দিয়ে ছিলেন উইকেটশূন্য।

ভারতের স্টেডিয়ামে খেলা দেখার একটা আমেজ আছে। আপনি যদি খেলায় মনোযোগী নাও হন, তাহলে সমস্যা নেই। গ্যালারির উন্মাদনা দেখে বুঝে যাবেন মাঠে কী চলছে!

স্বাগতিকদের যখন দাপট চলে তখন গ্যালারিতে গগণবিদারী চিৎকার। আর সফরকারী দলের বাউন্ডারি, ওভার বাউন্ডারি আর বোলিংয়ে উইকেট মানে পিনপতন নীরবতা। শুধু দিল্লি নয়, পুরো ভারতবর্ষ আজ ডুবে গেছে ওই নীরবতায়।

দুই দল এদিন ১০০০তম টি-টোয়েন্টিতে মাঠে নেমেছিল। বিধাতার কী অপূর্ব ইচ্ছা। এমন ঐতিহাসিক ম্যাচে জিতে গেল বাংলাদেশ। ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে নয়বারের দেখায় প্রথম জয়।