শ্রমিক লীগের সম্মেলনে কামরুল আনামকে চায় তৃণমূল

0
47


বিশেষ প্রতিনিধি: দীর্ঘদিন পর সম্মেলনের তারিখ ঘোষণায় প্রাণচাঞ্চল্য ফিরেছে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগে। সবার দৃষ্টি দলীয় সভাপতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দিকে। নেতৃত্ব নির্ধারণে তিনি চুলচেরা বিশ্লেষণ করছেন।

বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থাসহ নানা মাধ্যমে আদ্যোপান্ত খোঁজ নিচ্ছেন সংশ্লিষ্ট নেতাদের। আওয়ামী লীগের একাধিক নীতিনির্ধারকের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে এসব তথ্য। নতুন কমিটিতে স্থান পেতে বিভিন্ন পর্যায়ে চলছে পদপ্রত্যাশীদের দৌড়ঝাঁপ।

তারা আরও জানান, তারুণ্যনির্ভর, ত্যাগী ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তির নেতৃত্ব চাচ্ছে দলের হাইকমান্ড। ফলে শ্রমিক লীগের শীর্ষ পদসহ আগামী কমিটি থেকে বাদ পড়তে যাচ্ছেন বয়সের ভারে ন্যুজ নেতারা। সেই সঙ্গে টেন্ডার ও চাঁদাবাজি এবং ক্যাসিনো পরিচালনার সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে জড়িত নেতাদের ঝেটিয়ে বিদায় করার প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন শ্রমিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সিরাজুল ইসলাম ও সহ-সভাপতি হাবিবুর রহমান আকন্দ। পাশাপাশি সাধারণ সম্পাদক হিসেবে ব্যাপক আলোচনা আছেন তৃণমূলের প্রিয় মানুষ শ্রমিক লীগের সাবেক দপ্তর সম্পাদক জেড এম কামরুল আনাম। তিনি বিটিএমসির নেতা হিসেবে বাংলাদেশে শ্রমিক আন্দোলনে নিবেদিত ৪০বছর।

এই দীর্ঘ সময়ে তিনি টানা ৮ বছর জাতীয় শ্রমিক লীগের দপ্তর হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, সোনাগাজী উপজেলা পরিষদে দুবার সফল চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানালেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রীয় শ্রমিক লীগের এক সদস্য।

তিনি আরো বলেন, সভাপতি নিয়ে আমাদের কোন কথা নেই। সাধারণ সম্পাদক চাই দক্ষ-যোগ্য-মেধাবী ও ত্যাগী হিসেবে পরিক্ষিত নেতা। আর সেই হিসেবে বাংলাদেশে শ্রমিকদের জন্য নিবেদিত থেকে কাজ করা রাজনীতিক কেবলমাত্র জেড এম কামরুল আনাম।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, পরপর দুবারের সফল চেয়ারম্যান হিসেবে তাঁর যেমন খ্যাতি রয়েছে, তেমনি দুর্নীতিমুক্ত-স্বচ্ছ রাজনীতিক হিসেবেও আছে গ্রহণ যোগ্যতা। তিনি কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, ল’কলেজ, ছাত্র সংসদ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও শ্রমিকলীগ এর বিভিন্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন; শিক্ষাগত দিক থেকে এমকম, এমবিএ এবং এলএলবি সহ ইটালি থেকে সোস্যাল সেফটি নেট, জার্মান থেকে পেশাগত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, জাপান থেকে ট্রেড ইউনিয়ন ফিলোসোপি, মালয়েশিয়া থেকে স্টাডি সার্কেল মেথড অব এডুকেশন এবং বাংলাদেশ থেকে হিউম্যান রিসোর্স ম্যানেজমেন্ট ও ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিলেশন বিষয়ে ডিপ্লোমা ডিগ্রি লাভ করেছেন।

শিক্ষার দিক থেকে তিনি অপ্রতিদ্বন্দি; দায়িত্ব পালন করেছেন- আইটিজিএল ডাব্লিউএফ (ব্রাসেলস) এর ইসি মেম্বার হিসেবে ২০ বছর, বিটিএমসিতে একটানা ১৫ বছর(সিবিএ) এবং বাংলাদেশ বস্ত্র ও পোশাক শিল্প শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে ১৯৯০ সাল থেকে অদ্যবধি দায়িত্ব পালন করছেন।

ইন্ডাষ্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক জেড এম কামরুল আনাম- এর সাথে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রসঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার আদর্শকে লালন করে এগিয়ে চলছি।

জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দায়িত্ব প্রদান করেন, যথযথভাবে তা পালনে নিবেদিত থাকবো। পাশাপাশি অন্য দল থেকে এসে সংশ্লিষ্টদের ‘ম্যানেজ’ করে যারা বড় পদ বাগিয়ে নিয়েছেন- এমন বিতর্কিত নেতাদেরও জায়গা হবে না শ্রমিক লীগের নতুন কমিটিতে।

৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের কাউন্সিল। চার বছর আগেই মেয়াদ শেষ হয়েছে শ্রমিক লীগের কমিটির। ২০১২ সালের ১৯ জুলাই শ্রমিক লীগের সবশেষ সম্মেলন হয়। দুই বছর মেয়াদি এই কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে চার বছরের বেশি সময় আগে।

১৯৬৯ সালের ১২ অক্টোবর প্রতিষ্ঠা লাভ করে জাতীয় শ্রমিক লীগ। ২০১২ সালের সর্বশেষ সম্মেলনে আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন জাতীয় শ্রমিক লীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পান নারায়ণগঞ্জের শ্রমিক নেতা শুকুর মাহমুদ ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আছেন জনতা ব্যাংক ট্রেড ইউনিয়নের নেতা সিরাজুল ইসলাম।

এই সময়ে ৪৫টি সাংগঠনিক জেলার কমিটি করা হয়েছে। আগামী ৯ নভেম্বর জাতীয় শ্রমিক লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।  ইন্ডাষ্ট্রি অল বাংলাদেশ কাউন্সি-লের সাধারণ সম্পাদক জেড এম কামরুল আনাম-এর সাথে সাধারণ সম্পাদক পদের প্রসঙ্গে আলাপকালে তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতার আদর্শকে লালন করে এগিয়ে চলছি।

জাতির পিতার কন্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যদি দায়িত্ব প্রদান করেন, যথযথভাবে তা পালনে নিবেদিত থাকবো। আমি দীর্ঘদিন শ্রমিক লীগের সঙ্গে আছি। আমি চাই অভিজ্ঞ ও যোগ্যরা নেতৃত্বে আসুক। নেত্রীর কর্মী হিসেবে আছি।

তিনি যেখানে যেভাবে রাখবেন সেখানে সেভাবেই কাজ করতে চাই। এছাড়া শ্রমিক লীগের বর্তমান কমিটির সিরাজুল ইসলাম এবার সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন।