এবারও বিক্রি হয়নি টাংগাইল-লাউহাটি গ্রামের হামিদার মানিক !

0
126

এবারও বিক্রি হয়নি ৪৫ মণ ওজনের ‘মানিক’। ঈদের দিন সকাল পর্যন্ত ঢাকার গাবতলী হাটে অপেক্ষার পর ‘মানিক’কে নিয়ে ঘরে ফিরেছেন দেলদুয়ার উপজেলার লাউহাটি গ্রামের হামিদা আক্তার। এরপরও হতাশ নন হামিদা।

স্বপ্ন বাস্তবায়নে এবার বিশাল আকৃতির ষাঁড় মানিককে নিয়ে ছোট পরিসরে অস্ট্রেলিয়ান ফ্রিজিয়ান জাতের দুগ্ধ খামার করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।

টাঙ্গাইল সা’দত বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে ইতিহাসে অনার্স পাশ করা হামিদা আক্তার আক্ষেপ করে বলেন, বড়লোকদের সঙ্গে খামারিদের সম্পর্ক। ঈদের আগে খামারিদের গরু বিক্রি হয়ে গেছে। আমাদের মত স্বপ্ন দেখা গরীব মানুষের জন্য ধনীরা নন।

তিনি আরও জানান, দেলদুয়ার উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা গাজীপুরের এক ব্যবসায়ীর ফোন নম্বর দেন। ওই নম্বরে যোগাযোগ করলে তিনি না দেখেই ষাঁড়টির দাম বলেন তিন লাখ টাকা। গত বছর করোনায় রাজধানীর গাবতলী হাটে মানিকের দাম উঠেছিল পাঁচ লাখ টাকা। তার আগের বছর মানিককে নেওয়া হয় পুরান ঢাকার ঢলপুর বাজারে। সেখানে মানিকের ক্রেতা পাওয়া যায়নি।

মানিককে বিক্রির জন্য বাড়িতেই অপেক্ষা করতে চেয়েছিলাম, কিন্তু প্রতিবেশী আর আত্মীয়দের পরামর্শে বাধ্য হয়ে ৭ জুলাই বৃহস্পতিবার রাতে মানিক আর সাড়ে সাত মণ ওজনের আরও একটি ষাঁড়টি নিয়ে যাই গাবতলী হাটে। ষাঁড় দুটি দেখভালের জন্য আমার এক মামাসহ তিনজন কামলা রয়েছেন। দিনে জনপ্রতি ৭০০ টাকা করে দেওয়া হয় তাদের।

হামিদা বলেন, হাটের জায়গা ভাড়া নেওয়া এক ব্যবসায়ীর সব গরু বিক্রি হয়ে যাওয়ায় তিনি আমাকে গরু দুটি রাখার ব্যবস্থা করে দেন। এরপরও গাবতলী হাটের লোকজন এসে জায়গার টাকা দাবি করেন। ওই ব্যবসায়ী নিজের গরু বলে প্রতিবাদ করার পরও দুই গরু বাবদ দুই হাজার টাকা নিয়েছেন ইজারাদাররা।

হামিদা বলেন, হাটে উঠানোর চারদিনেও বড় গরু কেনার ক্রেতা পাইনি। কেউ মানিকের দামও করেননি। তবে সাত থেকে সাড়ে সাত মণ ওজনের যে ষাঁড়টি ছিল সেটি এক লাখ ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ঈদের দিন সকালে মানিককে নিয়ে বাড়ি চলে আসি।

লাউহাটি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান শাহীন মোহাম্মদ খান বলেন, হামিদার ষাঁড়টি এবারও বিক্রি হয়নি বলে শুনেছি। এতে হতাশ হয়েছি। দোয়া করি তার বড় খামারি হওয়ার স্বপ্নটা যেন পূরণ হয়।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here