আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্ (রাঃ) মাজারের জমি জবর দখল করে ভবন নির্মাণ !

0
215

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ ৮’শ বছরের পুরোনো মাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্ (রাঃ) মাজার।  দীর্ঘদিন ধরেই কোন রকমে মাজারটির ঐতিহ্য ধরে রাখলেও বর্তমানে মাজার রক্ষনাবেক্ষনে হীমসিম খাচ্ছে মাজারের খাদেমসহ কর্তৃপক্ষ।

তারপরও গত জানুয়ারী/২২ থেকে স্থানীয় কিছু অসাধু মানুষের ষড়যন্ত্রে জবর দখল হচ্ছে মাজারের জমি। আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্; (রাঃ) মাজারের জমি জবর দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে হাফেজিয়া মাদ্রাসার ভবন।

জমি দখলের পর কেটে ফেলা হয়েছে সেখানে থাকা বেশকিছু গাছ। এর পেছনে রয়েছে একাধিক কমিটির লোকজন। স্বেচ্ছাচারিতা করে মাজারের জমি দখলের মহোৎসব চালানো হচ্ছে বলেও জানা গেছে।

মাজারের জমি রক্ষাসহ মাজারের অন্যান্য সম্পদ রক্ষনাবেক্ষণে এবং স্থানীয় ভূমি-দস্যুদের ষড়যন্ত্র থেকে বাঁচতে জেলা প্রশাসনে (অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে) একটি মামলা দায়ের করেছেন মাজারের খাদেম মো. আব্দুর রশিদ।

স্থানীয় আলহাজ্ব মোঃ তৌহিদুল ইসলাম মাদ্রাসার সভাপতি হওয়ার পর থেকেই তার ইন্ধনেই এ জমি দখল করে ভবন নির্মাণের তৎপরতা চলছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এলাকা ঘুরে ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ৮’শ বছরের পুরোনো মাজার চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্ (রাঃ) মাজার। কোন রকমে মাজারটির ঐতিহ্য ধরে রাখলেও বর্তমানে মাজার রক্ষনাবেক্ষনে হীমসিম খাচ্ছে মাজারের খাদেমসহ কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় কিছু অসাধু মানুষের ষড়যন্ত্রে মাজারের জমি জবর দখল করে নির্মাণ করা হচ্ছে হাফেজিয়া মাদ্রাসার ভবন। ঝিলিম ইউনিয়ন পরিষদের পার্শ্বে আট শতাধিক বছরের পুরোন হযরত বুলন্দ শাহ্  (রাঃ)-এর মাজারটি আমনুরা-তানোর সড়কের ধারে অবস্থিত।

প্রতিদিনই এ মাজারে সংখ্যায় কম হলেও নিয়মিত ভাবে ভক্তরা আসেন। তারা এখানে মানত করেন। ভক্তদের দান করা অর্থে পরিচালিত হয় মাজারটি। প্রতিবছর মহরম মাসের ১০ই মহররম বার্ষিক ওরশ অনুষ্ঠিত হয়। ওরশে বিভিন্ন স্থান থেকে আসেন ভক্তরা।

এই মাজারের নাম অনুসারে পাশের্^ই গড়ে উঠেছে একটি কলেজও। এ মাজারের সামনের জায়গা দখল করে সেখানে প্রতিষ্ঠা করার ষড়যন্ত্র শুরু হয় কয়েকবছর থেকেই। প্রথমে ‘আমনুরা নুরানী মাদ্রাসা’ নামে প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করা হয়।

সেটা একদল স্বার্থান্বেসী মানুষ করছিল। তারা সরে গিয়ে অন্য একটি দল আবারও গড়ে তোলার চেষ্টা করে ‘‘আমনুরা নুরানী মাদ্রাসা ও এতিমখানা’। এভাবে একদল আসে মানুষের কাছে অর্থ আদায় করে আর আত্মসাৎ করে চলে যায়।

শেষে বর্তমানে আর একটি দল মাজারের জমিতে প্রতিষ্ঠার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন ‘আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ হাফিজিয়া মাদ্রাসা’ প্রতিষ্ঠার জন্য। এই প্রতিষ্ঠানের নামে আবার শুরু হয়েছে অর্থ আদায়। এভাবেই বার বার দখল হচ্ছে মাজারের জমি, আর অর্থ আদায় করে নিজেদের স্বার্থ হাসিল করছে।

বার বার মাজারের জমির উপর কু-দৃষ্টি পড়লেও স্থানীয় ওইসব স্বার্থপর লোকদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নিতে পারেন নি মাজার কর্তৃপক্ষ। বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে চরম বেকায়দায় এবং হতাশায় পড়েছেন মাজারের খাদেমসহ কর্তৃপক্ষ।

৮’শ বছরের পুরোনো আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্ধসঢ়; (রাঃ) মাজারের মোট জমি প্রায় ৪৫০ বিঘা। কালের বিবর্তনে সেই বিপুল পরিমান জমি বেদখল হতে হতে বর্তমানে মাজারের ভোগদখলে রয়েছে মাত্র ১ একর ১৩শতক।

এর মধ্যেও প্রায় ১৫ শতক দখল করে সরকারী কোন স্বীকৃতি না থাকলেও এবং মাজার কর্তৃপক্ষের কোন অনুমতি না নিয়েই হাফিজিয়া মাদ্রাসার ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে।

এই জমিতে কোন সীমানা প্রাচীর দেয়াও সম্ভব হয়নি। অরক্ষিতভাবেই পড়ে আছে দীর্ঘদিনের এই মাজারটি। দীর্ঘদিন পুরোনো হলেও কারো কূ-দৃষ্টি পড়েনি মাজারের উপর।

২০১১ সাল থেকেই এলাকার কিছু স্বার্থান্বেসী মানুষের নজর পড়ে এবং মাজারের জমির উপর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নামে শুরু হয় অপতৎপরতা। এক কমিটি আসে, কিছুদিন অর্থ আদায় এবং লুটপাট করে চলে যায়, আসে আরেক দল।

এভাবে আসে নিজেদের স্বার্থ থাকাকালিন থাকে, পরে সরে যায়। বর্তমানেও তেমনই চলছে। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার নামে কিছু ছোট ছোট শিশুদের দিয়ে তোলা হচ্ছে আর্থিক সাহায্য। এসব অর্থ কোথায় কিভাবে আসে-যায় এর খবর কেউ রাখেনা। শুধু নজর মাজারের জমির উপর।

স্থানীয়ভাবে জানা গেছে, শুরুর দিকে স্থানীয় বাবু হাজীর নেতৃত্বে এ মাজারের জমি দখলের ষড়যন্ত্র হয়। বর্তমানে আলহাজ্ব মোঃ তৌহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে স্থানীয় কয়েকজনকে নিয়ে চলছে মাজারের জমি দখল করে হযরত বুলন্দ শাহ্; হাফেজিয়া মাদ্রাসা ভবন নির্মানের নামে। মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠার সময় তারা মাজার পরিচালক খাদেম মোঃ আব্দুর রশিদের কাছে মৌখিকবাবে জমি চেয়েছিল, কিন্তু খাদেম তাতে সম্মতি দেননী।

খাদেমের সম্মতি না পেয়ে তারা জোরপূর্বক জমি দখল ভবন নির্মাণ কাজ শুরু করেছে। এ নিয়ে চরম নিরাপত্তাহিনতায় ভুগছেন মাজারের খাদেম আব্দুর রশিদ।
এখানেই শেষ নয়, মাজারের আসা ভক্তদের বিভিন্নভাবে মিথ্যা-বানোয়াট কথা বলে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, সেখানকার প্রতিষ্ঠানের উন্নতিকল্পে চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ থেকে চাউল বরাদ্দ নেয় ২০১৯ সালে। বাবু’র নেতৃত্বে থাকা কমিটি চাউল বিক্রি করে প্রতিষ্ঠানের কোন কাজ না করে নিজেরাই পকেটস্থ করে নেয়।

এভাবেই চলছে মাজারের জমির জমির উপর প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নামে প্রতারণা। প্রায় ৫০ বছর ধরে মাজারের দেখভালের দায়িত্বে থাকা আব্দুর রশিদসহ আরো কয়েক জন জানান, এখান থেকে মাজার তুলে দিতে নানা চক্রান্ত করছে স্থানীয় কিছু স্বার্থা-ন্বেসী মানুষ।

এরই অংশ হিসেবে বিভিন্ন নামে বিভিন্ন সময় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার নামে ধর্মপ্রান মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা নিয়ে নিজেরা লুটপাট করেছেন। বর্তমানেও এমনই কার্যক্রম চলছে। তারা মাজারে আসা ভক্তদের বিভিন্নভাবে নিরুৎসাহীত করছেন।

মাজারে ভক্তদের আসা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন তৌহিদুল ইসলাম। তিনি আরও বলেন, মাজারের জমি দখল বিষয়ে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে লিখিতভাবে জানালে পুলিশ ঘটনাস্থালে গিয়ে এবছরের জানুয়ারী মাসে ভবন নির্মানের কাজ বন্ধ করে আসে।

ফেব্রুয়ারী মাসের শেষ দিক পর্যন্ত নির্মান কাজ বন্ধ থাকলেও আবার শুরু হয়েছে ভবন নির্মাণ কাজ। বর্তমানে রমজান মাসে ধর্মপ্রাণ মুসলমানের দূর্বলতার সুযোগ নিয়ে অর্থ আদায় করা হচ্ছে।

৮’শ বছরের পুরোনো মাজার ‘আমনুরা হযরত বুলন্দ শাহ্ (রাঃ) মাজার’টি এসব স্বার্থ পর মানুষদের হাত থেকে বাঁচাতে স্থানীয় প্রশাসন ও সমাজের নেতৃস্থানীয়দের আন্ত-রিক সহযোগিতা কামনা করেছেন মাজারের খাদেম আব্দুর রশিদসহ সংশ্লিষ্টরা।

এব্যাপারে বর্তমানে প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মানকারীদলের সভাপতি তৌহিদুল ইসলাম এর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, আমাদের কাছে কোন কাগজপত্র নেই।

মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে মাজারের জমিতেই ধর্মীয় একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। মাজারের জমি দখলের প্রশ্নে তিনি কোন সদুত্তর না দিয়ে বিভিন্ন অসংলগ্ন কথা বলেন।

এ ব্যাপারে ঝিলিম ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. লুৎফর রহমান বলেন, মাজারের জমি জবর দখল করে অন্য প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা কোনভাবেই সমর্থন যোগ্য নয়।

তিনি আরও বলেন, সরজমিন গিয়ে কাজ বন্ধের জন্য বলেছি। তারপরও তারা ভবন নির্মাণ কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। দীর্ঘদিনের এই মাজারের সম্পদ রক্ষায় প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ প্রয়োজন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here