বাগেরহাটে মোরেলগঞ্জে পানগুছি নদীতে জোয়ার এলেই চরম জনদুর্ভোগ  

0
273
এস.এম.  সাইফুল ইসলাম কবির : বাগেরহাটের মোরেলগঞ্জে জোয়ার এলেই দুর্ভোগের আর সীমা থাকে না। বর্ষা মৌসুমে খরস্রোতা পানগুছি নদী ভয়াবহ রূপ ধারণ করে। নদীর দুপাড়ের ঘাটে ঘাটে মানুষের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। এছাড়াও এসময় মোরেলগঞ্জ পৌর শহরের অধিকাংশ রাস্তার কোথাও হাঁটু কোথাও কোমর সমান পানিতে পথচারীদের অবর্ণনীয় দুর্ভোগ পোহাতে হয়।
প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমের অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে তলিয়ে যায় মোরেলগঞ্জ ফেরি পারাপারের উভয় পাড়ের পন্টুনের সংযোগ সড়কসহ গ্যাংওয়ে। পানিতে ডুবে যাওয়ায় ফেরি পারাপারে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হয় যাত্রীসহ বিভিন্ন মোটরযানের।

সাইনবোর্ড-বগি ভায়া মোরেলগঞ্জ মহাসড়ক পানগুছি নদীর ফেরিটি খুবই জনগুরুত্বপূর্ণ। মোরেল গঞ্জ-শরণখোলা থেকে রাধানীসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলোতে যাতায়াতের জন্য প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ মোরেলগঞ্জের পানগুছি নদীর এ ফেরি থেকে পারাপার হয়।

বিশেষ করে মোরেলগঞ্জ-শরণখোলা থেকে প্রতিদিন প্রায় অর্ধ শত যাত্রীবাহী পরিবহন খুলনা, ঢাকা ও চট্রগামের উদ্দেশ্যে যাতায়াত করে। প্রতিদিন হাজার হাজার মোটর সাইকেল, ভ্যান, ট্রাক, যাত্রীবাহী বাস, বিআরটিসি বাস, রোগী বহনকারী এ্যাম্বুলেন্স সহ হাজারো যাত্রীবাহী পরিবহন এ ফেরি থেকে যাতায়াত করে। ফলে এসব পরিবহন ও যাত্রীদের নিদারুণ দুর্ভোগ পোহাতে হয়।

অন্যদিকে, এ সময়ে স্টীমার ঘাটের ২শ ফুট নিচু রাস্তার কারণে ২/৩ ফুট পানিতে ডুবে গেলে যাত্রী সাধারণকে স্টীমারে উঠানামার সময় চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হতে হয়।

এদিকে, জেয়ারের সময় মোরেলগঞ্জের জনগুরুত্বপূর্ণ সোলমবাড়িয়া খেয়াঘাটে দীর্ঘদিন ধরে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন যাত্রী সাধারণ। ইজারাদার কর্তৃক নির্মিত ২শ’ ফুট কাঠের পুল জোয়ারের পানিতে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে নড়বড়ে অবস্থা। আবার জোয়ারের পানিতে ডুবে থাকে এ পুল। ফেরি চলাচলের সময় নির্ধারিত না থাকার কারণে প্রতিদিন হাজার হাজার যাত্রী সাধারণ ও সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী এ খেয়াঘাট থেকে পারাপার হয়।

তবে জোয়ারের সময় ঝুকিপূর্ণ এ পুল পারাপারের সময় তারা চরম ভোগান্তির শিকার হয়ে থাকেন। যাত্রী সাধারণের দাবী এ স্থানে সরকারিভাবে একটি পাকা ২শ’ ফুট পুল নির্মাণ করে তাদের চলমান ভোগান্তি দূর করা হোক।

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব, নদীর নাব্যতা হ্রাস ইত্যাদি বিভিন্ন কারণে স্বাভাবিক জোয়ারের পানি ২/৩ ফুট বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে গত ৪/৫ দিন ধরে পূর্ণিমার তিথিতে জোয়ারের পানিতে মোরেল-গঞ্জের এসব ঘাট ও রাস্তা ডুবে গেলে নারী-পুরুষ হাঁটুর উপরের পানিতে ঝুঁকি নিয়ে এসব স্থানে চলাচল করে। অনেকে পানিতে ভিজে কিংবা ভ্যানে করে চলাচল করতে বাধ্য হয়।

অপরদিকে দীর্ঘদিন ধরে এ দুরবস্থা চলতে থাকলেও কর্তৃপক্ষ আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকছেন।
সড়ক ও জনপথ বিভাগ বাগেরহাট জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ফরিদ উদ্দিন জানান, স্বাভাবিক জোয়ারে পন্টুন সংলগ্ন সংযোগ রাস্তায় পানি না উঠলেও অমাবশ্যা ও পূর্ণিমার তিথিতে রাস্তাটি প্লাবিত হয়। তবে পরবর্তিতে এ রাস্তা যাতে পানিতে প্লাাবিত না হয় সে ব্যবস্থা শীঘ্রই করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here