বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে রাণীহাটি গুচ্ছ গ্রাম !

0
37
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ নানা সমস্যায় বসবাসের অযোগ্য হয়ে উঠেছে চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার রানীহাটি গুচ্ছ গ্রাম। প্রয়োজন সংস্কার করে বাসের যোগ্য করে গড়ে তোলার। দরিদ্ররা বাস করলেও মানুষ হিসেবে বসবাসের উপযোগী করে রানীহাটি গুচ্ছ গ্রাম টিকে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের অনুরোধ জানিয়েছেন সেখানে বসবাসকারী ভূক্তভোগীরা।
জানা গেছে, অসহায় দরিদ্র ও ভূমিহীন পরিবারের বসবাসের জন্য প্রায় ৩০ বিঘা জমির ওপর রানীহাটি তে একটি গুচ্ছগ্রাম প্রতিষ্ঠা করা হয় সরকারীভাবে। সেই  গুচ্ছগ্রামে থাকার কথা ছিল আধুনিক সকল সুযোগ সুবিধা। কিন্তু শুধু টিনের ঘর ছাড়া তেমন কিছু সুবিধা নেই রাণীহাটি গুচ্ছগ্রামে।
টিনের আধা পাকা একটি ঘর, অস্থায়ী একটি টয়লেট ও হাজার খানেক মানুষের জন্য মাত্র ৯টি টিউবওয়েল বসিয়ে ২০১৮ সালে উদ্বোধন করা হয় গুচ্ছগ্রামটি। প্রথম দফায় ৯০টি পরিবারকে সেখানে বাড়ি বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর আরও ৪০টি পরিবারকে দেয়া হয় ঘর।
সব মিলিয়ে সেখানে বসবাস করছে ১৩০টি গৃহীন-ভূমিহীন পরিবার। পরিবারগুলা সেখানেওঠার পর থেকেই নানা সমস্যায় ভুগছেন। গিয়াস উদ্দিন নামের এক বাসিন্দা জানান, পরিবার নিয়ে তার সারা জীবন কেটেছে রাধাকান্তপুর এলাকায়। কিন্তু বার বার নদী ভাঙনে জমি জায়গা হারিয়ে এখন সহায়-সম্বলহীন।
রানিহাটি এলাকায় অন্যের এক টুকরো জমিতে কোনো রকমে মাথা গোজার ঠাঁই নিয়েছিলেন। পরে সরকারিভাবে গুচ্ছগ্রামে একটি ঘর দেয়া হয়। তিনি জানান, যে ঘরটি তাকে দেয়া হয়েছে সে জায়গাটি কোনো ক্রমেই বসবাসের উপযোগী নয়। মাথার ওপর টিনের ছাউনি। রোদে যেন ঘর থেকে আগুন বের হতে থাকে। বৃষ্টির দিনে বাড়ির ভেতর হাঁটু সমান পানি জমে কাদায় ভরে যায়।
ক্ষোভে ইচ্ছা হয়, সরকারি ঘর ছেড়ে বাইরে কোথাও গাছতলায় থাকলেও শান্তি পেতাম। অপর দিকে, ভিক্ষু আলী নামে অপর এক বাসিন্দা জানান, নয়ালাভাঙার শিরাটোলা এলাকায় আগে বসবাস করতেন তিনি। গুচ্ছগ্রাম হওয়ার পরে তাকেও একটি ঘর বরাদ্দ দেয়া হয়। এরপর পরিবার নিয়ে বসবাস শুরু করেন।
প্রথমে তিনি কোনো সমস্যা বুঝতে না পারলেও দিন যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অসহায় হয়ে পড়েন। তার দাবি, আগের বাড়িতেই ভালো ছিলাম। এখানে পানি-বিদ্যুৎ সংকট ও মাদক বেচা- কেনা হয়। এ নিয়ে থাকার মতো কোনো পরিবেশ নেই এখানে।
আদরি বেগম নামে এক নারী জানানগুচ্ছগ্রামে যে টিউবওয়েল আছে সেগুলোতে আর্সেনিক আছে। ওই পানি দিয়ে রান্না, গোসল, কাপড় ধোয়া কিছুই করা যায় না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে মহাসড়ক পার হয়ে পানি আনা-নেয়া করতে হয়। পাঁচ বছরের শিশু জুবাইদ জানায়, আমরা অনেক ভয়ে ভয়ে রাস্তা পার হয়ে স্কুলে যাই।
যদি গুচ্ছগ্রামের ঘরটি চালু করে পড়ালেখার ব্যবস্থা করা হতো, তাহলে আরও ভালো পড়ালেখা হত। একই কথা জানালেন অন্যান্য বাসিন্দারাও। তাদের দাবি- গুচ্ছগ্রামে বসবাসের মতো কোনো অবস্থা নেয়। এখানে দ্রুত বিশুদ্ধ খাবার পানিসহ বিদ্যুতের ব্যবস্থা করা হোক।
নয়ালাভাঙা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আশরাফুল ইসলাম জানান, পানি ও বিদ্যুতের বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোন প্রতিকার হয়নি। সরকারী উদ্যোগ ছাড়া স্থানীয়ভাবে এই বিশাল সমস্যার সামাধান করা সম্ভব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here