চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গর্ব বক্সার কায়েমা !

0
39
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ জেলার গর্ব মা-বাবা হারা বক্সার কায়েমার উন্নত প্রশিক্ষন প্রয়োজন। আরো ভালো করে বক্সিং নিজের আয়ত্বে নিয়ে আসা এবং জেলার জন্য আরও ভালো কিছু অর্জণ করার জন্য এই উন্নত প্রশিক্ষন নেয়া দরকার কায়েমার।
কিন্তু অর্থের অভাবে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষন নিতে পারছেন না জেলা সুনাম বয়ে আনা এই বক্সার কায়েমা খাতুন।  তাঁর এই প্রয়োজন মেটাতে জেলার প্রশাসন ও জেলার বিত্তবানদের কাছে আর্থিক সহায়তার আবেদন জানিয়েছেন।
অন্যথায় হয়তো আর্থিক অনটনের কারণে তাঁর জীবনের কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছানো সম্ভব হবেনা। চাঁপাই নবাবগঞ্জ সদর উপজেলার বালিগ্রামের সুমী বেগমের মেয়ে কায়েমা খাতুন।
অতি কষ্টে দিনাতিপাত করেও কায়েমার এ পর্যন্ত অর্জন জেলার সম্মান বৃদ্ধি করেছে। নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে বেড়ে উঠা বক্তার কায়েমার কষ্ট সার্থক করতে এগিয়ে আসবেন জেলার সমাজসেবী ও বিত্তবান মানুষগুলো এমনটায় আশা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ শাহ শাহনেয়ামতুল্লাহ কলেজের এইচএসসি প্রথম বর্ষে অধ্যায়নরত কায়েমা। কায়েমার বয়স যখন মাত্র ৩ মাস তখন দাদির সঙ্গে অভিমান করে আত্মহত্যা করেন তাঁর বাবা।
বাবার মৃত্যুর কিছুদিন পর মা আবার বিয়ে করেন। সৎ বাবার সংসারে কায়েমার ঠাঁই হয়নি। বড় হয়েছেন নানি নূরজাহান বেগমের কাছে। এই নানিই তাঁর বাবা-মা সবকিছু। কায়েমার খেলা-ধুলায় হাতেখড়ি ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ার সময়।
নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয় (টাউন হাইস্কুল), আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে পড়াশুনা করার সময় বিভিন্ন প্রতিযো গিতায় কায়মা অংশগ্রহণ করতেন। সদ্য শেষ হওয়া বাংলাদেশ গেমস বক্সিংয়ে মেয়েদের ৪৮ কেজি ফ্লাইওয়েট শ্রেণিতে সোনা জিতেছেন কায়েমা।
১৮ বছর বয়সী কায়েমা ছোটবেলা থেকেই জীবনের বাঁকে বাঁকে বাঁধা পেয়েছেন তবু দমে যান নি। নানি গৃহকর্মীর কাজ করেন, মামা নূরনবী নির্মাণ শ্রমিক। মা তো থেকেও নেই। ক্রীড়া শিক্ষক নূর আলম আর কুমকুম বেগমের অনুপ্রেরণায় তাঁর খেলাধুলায় আসা।
কায়েমা চাঁপাইনবাবগঞ্জ বক্সিং একাডেমির একজন খেলোয়াড়। মসজিদপাড়ার সন্তান কোচ রাজু আহমেদ এর সানিন্ধে সে বক্সিং প্র্যাকটিস করেন। রাজুর প্রেরণায় আজ এতদূর আসা।
জেলা বক্সিং একাডেমীর সাধারণ সম্পাদক মো. রাজু আহমেদ জানান, আমাদের জেলার অসহায় বাবা মা হারা কায়েমা খাতুন অতি কস্টে জীবন যাপন করার পরও তাঁর ঐকান্তিক চেস্টায় এতদূর পর্যন্ত এসেছে।
কায়েমা জেলার জন্য একজন গর্ব। সম্প্রতি বাংলাদেশ গেমস এ বাংলাদেশের মধ্যে জেলা পর্যায়ে প্রথম কায়েমাই চাঁপাইনবাবগঞ্জের মূখ উজ্জল করে ব্যক্তিগতভাবে স্বর্ন এনে দেয় জেলাকে।
ইতিমধ্যেই অলিম্পিক গেমসে অংশ গ্রহণের জন্য কায়েমার আবেদন গ্রহণ করেছেন কর্র্তৃ পক্ষ। তিনি বলেন, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও জেলা বক্সিং একাডেমীর সহযোগিতায় নিজেকে একজন ভালো মানের বক্সার হিসেবে গড়ে তুলেছেন কায়েমা।
আরও ভালোভাবে নিজেকে গড়ে তোলার জন্য উন্নত প্রশিক্ষন এবং বক্সিং কিরস প্রয়োজন। এসব প্রয়ো জন মেটাতে মোটা অংকের অর্থের দরকার। যা জেলা বক্সিং একাডেমী বা ব্যক্তি গতভাবে কায়েমার সামর্থের বাহিরে।
তাই জেলার উজ্জল ভবিষ্যত এই প্রতিভাবান কায়েমাসহ জেলা বক্সিং এর অন্যান্য মেয়েদের ভালোভাবে প্রশিক্ষিত করে গড়ে তুলতে এগিয়ে আসা প্রয়োজন সরকারী-বেসরকারী এবং ব্যক্তিগতভাবে। বক্সার কায়মা জানান, বাংলাদেশ গেমসের সাফল্য বদলে দিয়েছে আমার জীবন।
শত প্রতিকুলতার সাথে যুদ্ধ করে পড়ালেখা করার পাশাপশি দেশের হয়ে এসএ গেমসে অংশ নিয়ে সোনা জিততে চাই। সে জন্য প্রয়োজন উন্নত অনুশীলনের, ভালো সুযোগ সুবিধা। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।
এমন একজন প্রতিভাবান বক্সার কায়েমার পাশে দাঁড়িয়ে তাঁর উন্নত প্রশিক্ষনের প্রয়োজনীয় আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করে জেলার সম্মান আর বাড়িয়ে নিতে এগিয়ে আসবেন জেলার প্রশাসন ও ধনবান ব্যক্তিরা এমনটায় আশা করছেন সচেতন মহল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here