চাঁপাইনবাবগঞ্জে বৌভাতে যাওয়ার সময় পদ্মায় বজ্রপাতে ১৬জন নিহত ॥ আহত ১০

0
199
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার শিবগঞ্জ উপজেলার সুর্যনারায়নপুর গ্রাম থেকে পাঁকা ইউনিয়নে বৌভাতে যাওয়ার সময় বজ্রপাতে ১৬জন নিহত হয়েছে। আহত হয়েছেন অনেকেই। নিহত ও আহতরা একটি ইঞ্জিন চালিত নৌকায় যাচ্ছিলেন। নৌকায় ৫০ জন যাত্রী বৌভাতে যাওয়ার সময় পথিমধ্যে দক্ষিনপাকা ঘাটে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ১৬ জন মারা যায়।
এঘটনায় আহতদের শিবগঞ্জ উপজেলা কমপ্লেক্স ও চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে যাওয়া হয়। বুধবার বেলা ১২টার দিকে এঘটনা ঘটে। নিহতদের পরিচয় জানতে সুর্যনারায়নপুরে গিয়েছেন পুলিশ সুপার এ এইচ এম আবদুর রাকিব বিপিএম-পিপি এমসহ শিবগঞ্জ থানা পুলিশের দল বলে জানিয়েছেন শিবগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ফরিদ হোসেন।
স্থানীয়রা ১৭জন বললেও পুলিশ বলছেন ১৫ জন নিহতের কথা। অন্যদিকে, জেলা প্রশাসন বলছেন ১১ জন মৃত্যুর কথা। শিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাকিব-আল-রাব্বী জানান, ১৭ জন মারা গেছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহতদের পরিবারের জন্য প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২৫ হাজার টাকা করে সহায়তা দেয়া হবে।
নিহতরা হলেন-সদর উপজেলার চরবাগডাঙ্গা ঘাটাপাড়ার সাত্তার আলীর ছেলে সহবুল (৩০), চর সূর্যনারায়নপুর গ্রামের টিপুর স্ত্রী বেলী বেগম (৩২), মহরাজনগর ডানপাড়ার জামালের ছেলে লেচন (৫০), রফিকুল ইসলামের ছেলে বাবলু (২৬), একই গ্রামের মৃত সৈয়ব আলীর ছেলে তবজুল (৭০), তবজুলের স্ত্রী জমিলা (৫৮), ছেলে সাদল (৩৫), তেররশিয়া দক্ষিণপাড়ার মৃত মহবুলের ছেলে রফিকুল (৬০), সূর্যনারায়নপুরের ধুনু মিয়ার ছেলে সজিব (২২), একই গ্রামের সাহালালের স্ত্রী মৌসুমী (২৫), বাবুডাইংয়ের মকবুলের ছেলে টিপু (৪৫), কালুর ছেলে আলম (৪০), মোস্তফার ছেলে পাতু (৪০), সুন্দরপুরের সেরাজুলের ছেলে আতিকুল ইসলাম ডাকু (২৪), ফাটাপাড়ার সাদিকুলের স্ত্রী টকি বেগম (৩০)। সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আহতরা হল-সদর উপজেলার মহারাজনগরের ডালপাড়া মোফাজ্জলের ছেলে ওবায়দুল, একই এলাকার বাসিরের মেয়ে ময়না (৩০), মহারাজনগরের গ্রামের মনিরুলের মেয়ে তহুরা (১৭), নারায়নপুর গ্রামের ইসমাইলের ছেলে শাহ আলাল বাবু (৩০) ও তার ২ ছেলে মমিন (৮) ও তামিম (৩), সূর্য নারায়নপুর গ্রামের মিজানুরের মেয়ে শিরিন (২০), জয়ন্দীপুর গ্রামের গোলাপ মিয়ার ছেলে আল আমিন (২৬) ও শিবগঞ্জ উপজেলার পাঁকা দক্ষিণ পাড়ার সালাউদ্দিনের ছেলে মিনহাজুল (৯)। আহত অপর ১ জনের পরিচয় পাওয়া যায়নি।
ফায়ার সার্ভিস চাঁপাইনবাবগঞ্জ স্টেশনের উপ-পরিচালক সাবের আলী জানান, নিহত ও আহতদের পদ্মা নদী পেরিয়ে নৌকায় করে সদর উপজেলার আলিমনগরের ঘাটে নিয়ে আসলে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা হাসপাতালে ভর্তি করে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার-আরএমও ডা. কামরুন নাহার নাসু বলেন, বিকেল ৩টা পর্যন্ত হাসপাতালে ১২ জন নিহত অবস্থায় ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়াও আহত অবস্থায় আরও ৯ জনকে ভর্তি করা হয়।
এদের মধ্যে এক শিশুকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করা হয়েছে। পাঁকা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মালেক জানান, কয়েকদিন আগে বিয়ে হয় পাঁকা ইউনিয়নের মৃত সুলতান আলীর ছেলে হোসেন আলীর মেয়ের।
বুধবার দুপুরে বরপক্ষের লোকজন একটি নৌকায় করে বৌভাতে আসছিলো সোহেন আলীর বাড়ি। দুপুর ১২টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে পদ্মা নদীর দক্ষিন পাঁকা ঘাটের একটি ছাউনিতে আশ্রয় নেয় বৌভাতে আসা লোকজন এবং স্থানীয় পাঁকা গ্রামের সহবুলের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৫)।
এসময় বজ্রপাত হলে রফিকুলসহ বর পক্ষের ১৬জনসহ মোট ১৭ জন মারা যায় ঘটনাস্থলেই। ৩/৪জন গুরুতর আহত হলে তাদের হাসপাতালে নেয়া হয়েছে। তবে কয়েকজন শিশু ছিলো সেখানে। শিশুগুলো সুস্থ আছে। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত বরপক্ষের লোকজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাঁকা ইউনিয়নের মো. জুয়েল জানান, সদর উপজেলার নারায়নপুর ইউনিয়নের জনতার হাট গ্রামের পাঁচু আলীর ছেলে মো. মামুনের সাথে বিয়ে হয় সোমবার রাতে। মেয়ে ও জামায় কে আনতে বুধবার দুুপুর ১২টার দিকে বৌভাতে যাচ্ছিলেন একটি নৌকায় বরপক্ষের লোকজন।
এসময় বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই ১৬জন মারা যায়। এর মধ্যে বরপক্ষের ১৫জন এবং স্থানীয় একজন। জেলা প্রশাসক মো. মঞ্জুরুল হাফিজ জানান, বজ্রপাতে এখন পর্যন্ত মোট ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে।
প্রাথমিকভাবে সকলেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলায় স্থানীয়রা ১৬/১৭ জন মৃত্যুর খবর দিলেও পরবর্তীতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ১১ জনের মৃত্যুর বিষয়টিই নিশ্চিত করেছে। আহত হয়েছে অনেকেই। তবে, হাসপাতালে ১১ জন চিকিৎসাধীন আছেন। আহতদের মধ্যে একজনকে রাজশাহী মেডিকেলে পাঠানো হয়েছে।
এঘটনায় নিহত ও আহতদের সহায়তার দায়িত্ব জেলা প্রশাসন নিয়েছে। আহতদের চিকিৎসার সকল ব্যবস্থা ও সহায়তার দায়িত্ব নেয়া হয়েছে। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here