চাঁপাইনবাবগঞ্জে নির্বাচন কেন্দ্র দখল ॥ প্রশাসন নিরব !

0
100

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর নির্বাচনে কেন্দ্র দখল, বহিরা গতদের গোপন কক্ষে অবস্থান, প্রশাসনের সহায়তায় ভোটারদের ভোট দিয়ে দেয়াসহ নানা অনিয়মের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হয়েছে নির্বাচন বলে অভিযোগ উঠেছে।

তাছাড়া কেন্দ্রে সাংবাদিকদের প্রবেশে বাধা দেয়ারও অভিযোগ উঠেছে প্রিজাইডিং
অফিসারের বিরুদ্ধে। প্রায় কেন্দ্রেই শহরের বাইরে থেকে এসে ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরা কেন্দ্র দখল করে এবং গোপন কক্ষে অবস্থান করে নৌকায় ভোট দিয়ে দেন।

এরকমই একজন ছাত্রলীগের গোমস্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি কাইসার রহমান সাগর (২৫)। মিডিয়াকর্মীদের ক্যামেরাই ধরা পড়েন এই ছাত্রলীগ নেতা। তিনি প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে বসে আলীনগর ভোট কেন্দ্র নিয়ন্ত্রণ করছিলেন।

আলীনগর কেন্দ্রের প্রিজাইডিং অফিসার ২ জনই কোন সদুত্তর দিতে না পেরে এলো মেলো নানা কথা বলেন। ভোট কক্ষ নিয়ন্ত্রন করে এবং নিজেরা সহায়তা করে নৌকার পক্ষে কাজ করার জন্যই মিডিয়াকর্মীদের কেন্দ্রে প্রবেশে বাধা দেয়া হয়।

অন্যদিকে, নয়াগালো উচ্চ বিদ্যালয় কেন্দ্রের সকল বুথেই বাইরে থেকে ছাত্রলীগ ও অন্যান্য যুবকরা ভোট কক্ষে কোন বাধা ছাড়াই বসে থাকে এবং নিয়ন্ত্রণ করে নৌকায় ভোট দিতে বাধ্য করে। মিডিয়াকর্মীরা সেখানে প্রতিটি কক্ষেই এজেন্ট ছাড়া
বহিরাগতদের দেখতে পায়। অবশ্য সাংবাদিকদের চোখে ধরা পড়ে কেন্দ্র থেকে পালিয়ে যায় তারা।

প্রিজাইডিং অফিসার এসব কাজে সহায়তা করে বলেও প্রমানিত হয়। উপায়ান্তর না দেখে বাধ্য হয়ে এর মধ্যে একজন বহিরাগত যুবককে আটকের নির্দেশ দেন প্রিজাইডিং অফিসার সেখানে থাকা পুলিশকে। এছাড়া পৌর এলাকার প্রায় সকল কেন্দ্রের অবস্থা এমনই। অনেক কেন্দ্রে ভোটার ভোট দিতে না পেরে বাড়িতে ফিরে গেছে বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।

এদিকে, কেন্দ্র দখল করে ভোট চুরি করার অভিযোগ তুলে নির্বাচনের স্থগিতের দাবি জানিয়েছেন সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ। মঙ্গলবার সকাল ৮টা হতে ভোট শুরু হবার পর থেকে কেন্দ্র দখল, বুথে নৌকার একাধিক বহিরাগত ক্যাডারের উপস্থিতির খবর পাওয়া যায়। একই অবস্থা চলে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। সরেজমিনে গিয়ে তার প্রমানও পায় সাংবাদিকগণ।

আলিনগর ভোট কেন্দ্র আলিনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের দ্বোতলায় প্রিজাইডিং অফিসারের কক্ষে গোমস্তাপুর উপজেলা ছাত্রলীগের এক নেতাকে পাওয়া নিয়ে সাংবাদিকদের
প্রিজাইডিং অফিসার সাদরুজ্জামান আমির আল মাহফুজ তাকে চিনেন না বলে জানান।

পরে ওই ছাত্রলীগ নেতা পুলিশি সহায়তায় কোন বাধা ছাড়ায় কেন্দ্র ত্যাগ করেন। অপর একটি কেন্দ্র ১নং ওয়ার্ডের নয়াগোলা উচ্চ বিদ্যালয়ের বুথে একাধিক বহিরা গত সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে পালিয়ে যায়। ওই কেন্দ্রের মহিলা বুথ হতে আশিক নামে এক ভুয়া এজেন্টকে আটক করে প্রিজাইডিং অফিসার সালেহ
আকরাম।

তাছাড়াও রাজারামপুর, নবাবগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়, আরামবাগ, নতুন হাটসহ বিভিন্ন ওয়ার্ডের ভোট কেন্দ্রে একই অবস্থা বিরাজ করছে বলে জানা যায়। এত অনিয়মের পরও প্রশাসন নিরব দর্শকের ভুমিকা পালন করছেন। প্রশাসনের এ ভুমিকা স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থীসহ ভোটারদের আশ্চর্য করেছে।

মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন এসব অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে বলেন, ভোটারদের নির্বিঘেœ ভোট দেয়ার পরিবেশ সৃষ্টি করতে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল দপ্তরের নিকট আবেদন জানান। বিএনপি সমর্থিত নারিকেল গাছ প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ প্রহসনের এ ভোট বন্ধ করে দেয়ার দাবি জানান এক সংবাদ সম্মেলনে।

এবিষয়ে নির্বাচন রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা নির্বাচন অফিসার জানান, বুথে বহিরা গতদের অবস্থানের বিষয়ে দু’টি অভিযোগ পেয়েছি। সাথে সাথে পুলিশ সুপার ও র‌্যাবকে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য বলা হয়েছে। তিনি নিজেও ওই কেন্দ্রগুলি পরিদর্শনে যাবেন। তিনি জানান, নির্বাচন সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ করতে নির্বাচন কমিশন চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

বিকেলে নিজ বাসায় সংবাদ সম্মেলন করেন স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী সামিউল হক লিটন। সব মিলিয়ে ভোট উৎসব যেন নৌকার প্রার্থীর বহিরাগত ও ছাত্রলীগ কর্মীদের দখলের উৎসবে পরিনত হয় চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌরসভা নির্বাচন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here