চাঁপাইনবাবগঞ্জে নারী দিবসের আলোচনা ॥ বাল্যবিবাহ ও মাদককে না বলুন!—এডিসি তাজকির উজ জামান

0
206
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ আমাদের চ্যালেঞ্জ বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ করা। এ জেলায় বাল্যবিবাহের হার দেশের অন্য জেলাগুলোর চেয়ে বেশী। চাঁপাইনবাবগঞ্জ একটি সীমান্তবর্তী জেলা, এখানে মাদক খুব সহজলভ্য। এর ফলে আপনার ছেলে, আপনার মেয়ে নষ্ট হচ্ছে। আমরা এবিষয়ে কঠোর হবো।
দিবস পালন অর্থ আমাদের নতুন একটা ধারণা তৈরী হওয়া। চ্যালেঞ্জ নেয়ার সময় আমাদের সামনে এসেছে, আগামী ৩০ মার্চ আমাদের স্কুলগুলো খুলবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ঘোষনা দিয়েছেন, সেই হিসেবে স্কুল খোলাকে আমরা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমরা চ্যালেঞ্জ নিয়েছি, করোনার আগে যতদিন ছাত্রী ক্লাস সিক্সে ছিলে, এবছর সেই পরিমান ছাত্রী ক্লাস সেভেনে আসলো কিনা?
যদি না আসে তাহলে সামাজিক দায়বদ্ধতা তখন আমরা অনুপস্থিত ছাত্রীর বাড়ী পর্যন্ত যাবো। তাকে যেন আমরা শিক্ষা গ্রহন নিশ্চিত করতে পারি। নারী যখন সুশিক্ষায় শিক্ষিত হবে, তখন সে নিজে থেকেই বুঝতে পারবে তার আক্ষরিক অর্থে অধিকার কী কী। আপনাকে আমাকে দিবস পালন করে অধিকার আদায় করা যাবেনা। আমি একটা কথা খুব দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে আপনাদের সম সময় বলে দিতে চাই-আমরা সকল ক্ষেত্রে সমতায় বিশ্বাসী।
নারী উদ্যোক্তা বলেন, নারী উন্নয়ন বলেন, নারীর সকল ক্ষেত্রে তাদের প্রাপ্য অধিকারকে নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা সচেষ্ট। কিন্তু এসব বিষয়ে আপনাদের সম্মিলিত প্রয়াসের দরকার। আন্তর্জাতিক নারী দিবসের সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক (অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক ও সদ্য পদোন্নতিপ্রাপ্ত উপ-সচিব) এ কে এম তাজকির-উজ-জামান।
তিনি আরও বলেন, ঐক্য হচ্ছে যেকোন ক্ষেত্রে উন্নয়নের প্রথম ও প্রধান হাতিয়ার। নারীদের মধ্যে বিভেদ বেশী পরিলক্ষিত হয়। আমরা ঐক্য ধরে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের অনেক বড় বড় মহারথী আছে, বেগম রোকেয়ার কথা আপনারা জানেন, সুফিয়া কামালের কথা জানেন, শহীদ জননী জাহানারা ইমামের কথা জানেন-এছাড়া অসংখ্য নারী আছেন, যাদের সমাজ বিনির্মানে প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে।
আমরা তাদের কথা ভুলে যাবনা। আমরা সবাই মিলে একটা সুখী-সমৃদ্ধি দেশ গড়বো। মার্চ মাস, আবেগে আপ্লুত হবার মাস। জাতির পিতার বঙ্গবন্ধুর জন্মদিবস এই মাসে। এটা নিঃসন্দেহে আনন্দে আপ্লুত হবার দিন। গতকাল ঐতিহাসিক ৭ মার্চ পালন করেছি।
আপনারা জানেন বঙ্গবন্ধুর ৭ মার্চের ভাষণে একটা বিষয় খুব সুস্পস্টভাবে চিহ্নিত করা যায় সেটা হলো স্বাধীন তার কথা এবং স্বাধীনতার ক্ষেত্রে নারী-পুরুষের কোন ভেদাভেদ নাই। স্বাধীনতা সবার জন্য। স্বাধীন বাংলা দেশে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরে নারীদের জাগরণ এমন একটা পর্যায়ে যাবে, যেখানে আমরা স্বাধীন সমৃদ্ধ সোনার বাংলাদেশ গড়তে পারবো। জাতির পিতার স্বপ্ন বাস্তবায়িত হবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে আমরা ২০৪১ সালে উন্নত বিশ্বে এগিয়ে যাবার ক্ষেত্রে নারীরা হবে পুরুষের সহকর্মী ও সহযোদ্ধা।
সোমবার (৮ মার্চ) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসন ও জেলা মহিলা অধিদপ্তর আয়োজিত আন্তর্জাতিক নারী দিবসের আলো চনা সভায় সভাপতিত্ব ও স্বাগত বক্তব্য রাখেন, জেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের উপ-পরি চালক সাহিদা আখতার। সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অবসরপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুলতানা রাজিয়া, জেলা মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান এ্যাড. ইয়াসমিন সুলতানা রুমা, নবাবগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর মনোয়ারা খাতুন, জেলা পরিষদের সদস্য শান্তনা হক, সদর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান নারসিন আখতার।
রাশিদা নসীব শিশিরের স ালনায় নারী দিবসের আলোচনা সভায় নবাবগঞ্জ সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ড. শংকর কুমার কুন্ডু, জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপ-পরিচালক উম্মে কুলসুম, সদর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ নাজমুল ইসলাম সরকার, ইসলামপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আখতারুজ্জান টিপু, রানীহাটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মহসিন আলীসহ জেলা-উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের নারী প্রতি নিধিগণ, নির্বাচিত মহিলা সদস্য ও বিভিন্ন নারী সংগঠনের নারী নেত্রী ও কর্মীগণ। সভায় বাল্য বিবাহ ও মাদককে পরিহার করতে সকলে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here