চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে শ্রমিক হত্যার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ

0
74
সিলেট প্রতিনিধি : বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার উদ্যোগে মঙ্গলবার (২০ এপ্রিল) সকাল ১১ টায় সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে নির্মাণাধীন বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বকেয়া বেতন-ভাতাসহ বিভিন্ন দাবিতে আন্দোলনরত নিরীহ শ্রমিকদের উপর পুলিশের বর্বরোচিত গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ৫ জন শ্রমিককে হত্যাসহ বহুসংখ্যক শ্রমিক আহত হওয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত  সভাপতি শ্রমিকনেতা মোঃ সুরুজ আলী সভাপতিত্বে ও সংগঠনের জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক রমজান আলী পটুর সঞ্চাল নায় অনুষ্ঠিত বিক্ষোভ সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ ট্রেড ইউনিয়ন সংঘ সিলেট জেলা শাখার যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক ও পরিবহন শ্রমিকনেতা খোকন আহমদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন এর সভাপতি মোঃ ছাদেক মিয়া, সিলেট জেলা প্রেস শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি একে আজাদ সরকার, সিলেট জেলা স’মিল শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আইয়ুবুর রহমান, পরিবহন শ্রমিকনেতা খোকন আহমদ, সিলেট জেলা হোটেল শ্রমিক ইউনিয়ন দক্ষিণ সুরমা উপজেলা কমিটির সহ-সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মোমিন রাজু জাতীয় ছাত্রদল সিলেট জেলা শাখার অন্যতম নেতা শুভ আজাদ শান্ত প্রমুখ।
সমাবেশে বক্তারা বলেন, এস আলম গ্রুপের মালিকাধীন বাঁশখালীর কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্রের স্থানীয় শ্রমিকরা বকেয়া বেতন-ভাতা প্রদান, মাসের ৫ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ, কর্মঘন্টা কমানো, রমজান মাসে ইফতারের জন্য সময় দেওয়া, বাথরুমের প্রয়োজনীয় পানির ব্যবস্থা করাসহ বিভিন্ন দাবি-দাওয়া নিয়ে শান্তি পূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে আসছিলেন। এমন কি শ্রমিকরা শুক্রবারেও শান্তিপূর্ণ কর্মবিরতি পালন করেছেন।
শনিবার সকালে শ্রমিকদের দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা করার কথা বলা হলেও মালিকপক্ষ পুলিশ ডেকে জোরপূর্বক শ্রমিকদের কাজে যোগদানের জন্য চাপ দিতে থাকে। শ্রমিকরা কাজে যোগ দানের আগে দাবি আদায়ে অনড় থাকলে পুলিশ বিনাউস্কানিতে নিরীহ শ্রমিকদের উপর বেপরোয়া গুলিবর্ষণ করে। গণমাধ্যমে ৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার সংবাদ আসলেও বিদ্যুৎকেন্দ্রের শ্রমিক দের অভিযোগ পুলিশ ও মালিকপক্ষ অনেক শ্রমিকের লাশগুম করে ফেলেছে।
নেতৃবৃন্দ এই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, করোনা অতিমারির সময়ে যখন শ্রমিকদের বেতন-ভাতার সমস্যা সমাধানে সরকার ও পুলিশ প্রশাসনের এগিয়ে আসার কথা সেই সময় পুলিশ অতীতের ন্যায় মালিকপক্ষের স্বার্থরক্ষায় গুলি করে শ্রমিক হত্যা করেছে। যেমনটা ২০১৬ সালেও পুলিশ এই বিদ্যুৎকেন্দ্রের জমি অধিগ্রহণে মালিকপক্ষের পাশে দাড়িয়ে ৪ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করেছিল।
এছাড়া ২০১৭ সালে এই বিদ্যুৎকেন্দ্রে একজনকে হত্যা করা হয়েছিল। অথচ একটি হত্যাকান্ডেরও বিচার হয়নি। অথচ হাজার হাজার শ্রমিককে বেনামী আসামী করে মামলা করেছে মালিক ও পুলিশ প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here