কক্সবাজারে হোটেলে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণ !

0
56

পর্যটন নগরীর কক্সবাজারে হোটেলে অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী ধর্ষণের ঘটনা সামনে এসেছে। তবে, ঘটনার দুই সপ্তাহ হয়ে গেলেও অভিযুক্তরা গ্রেফতার হননি। উল্টো মামলা তুলে নিতে হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ধর্ষণের শিকার কিশোরী ও তার পরিবারের।

গত ১৩ ডিসেম্বর তুলে নিয়ে শহরের কলাতলীর হোটেল-মোটেল জোনের একটি হোটেলে আটকে রেখে তাকে দুদিন ধর্ষণ করে বখাটে এক যুবক। এ ঘটনায় ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় পাঁচজনকে আসামি করে মামলা করা হয়। তবে মামলার প্রায় ১০ দিন হলেও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ।

আসামিরা প্রকাশ্যে ঘুরলেও পুলিশ বলছে, অভিযুক্তরা পলাতক। কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম জানান, গত ১৮ ডিসেম্বর ভুক্তভোগী কিশোরীর বাবা বাদী হয়ে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা চারজনকে আসামি করে মামলাটি করেন।

আসামিরা হলেন-কক্সবাজার শহরের উত্তর নুনিয়াছড়া এলাকার নজরুল ইসলামের ছেলে মো. আশিক (২৭) ও তার মা রাজিয়া বেগম (৫৫), বাবা নজরুল ইসলাম (৬০), ভাই মো. কামরুল (৩৪) এবং শহরের ঝাউতলা গাড়ির মাঠ এলাকার মো. হায়দার ওরফে হায়দার মেম্বারের ছেলে রিয়াজ উদ্দিন (৪০)। ভুক্তভোগী ওই কিশোরী (১৪) কক্সবাজার শহরের বাসিন্দা।

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ওই কিশোরী এক প্রতি-বেশীর বাড়িতে যাওয়ার সময় অভিযুক্ত আশিকসহ তিন-চার যুবক জোর করে তাকে গাড়িতে তুলে নিয়ে যান। পরে তাকে শহরের হোটেল-মোটেল জোনের সাংস্কৃতিক কেন্দ্রের সামনে মমস গেস্ট হাউজে নিয়ে তাকে আটকে রেখে একাধিকবার ধর্ষণ করা হয়।

এ বিষয়ে কিশোরীর বাবা বলেন, ১৩ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য বের হয় আমার মেয়ে। রাতেও না আসায় তাকে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি। ঘটনার দুদিন পর ১৫ ডিসেম্বর রাতে স্থানীয়রা আমার মেয়েকে আশিকের বাড়ির সামনে দেখতে পেয়ে খবর দেন। পরে তাকে সেখান থেকে উদ্ধার করে বাড়ি নিয়ে আসি।

তিনি বলেন, ‘তারা (আশিকের বাবা-মা) উল্টো আমাকে হুমকি দিয়ে বলেন, ঘটনার ব্যাপারে মামলা করলে বা আইনের আশ্রয় নিলে আমার মেয়েকে পুনরায় অপহরণ করে হত্যার পর লাশ গুম করে ফেলবে।

এরপর কোনো উপায় না দেখে মেয়েকে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করি। ১৮ ডিসেম্বর কক্সবাজার সদর থানায় মামলা করি।’

এ বিষয়ে আইনজীবী রিদুয়ান আলী বলেন, “ভিকটিম কিশোরী ‘পর্যটক’ না হওয়ায় আইশৃঙ্খলা বাহিনীর আন্তরিক সহযোগিতা পাচ্ছি না।

অথচ গত ২২ ডিসেম্বর ধর্ষণের শিকার এক নারী নিজেকে ‘পর্যটক’ হিসেবে উপ-স্থাপন করায় গণমাধ্যম, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তৎপর হয়ে অভি-যুক্তদের গ্রেফতার করেছে। নিপীড়িত শিক্ষার্থী স্থানীয় বলে হয়তো সে সহযোগিতা পাচ্ছে না।”

আশিকের মা ও মামলার ২ নম্বর আসামি রাজিয়া বেগমের মোবাইলে ফোন দিলে রিসিভ করেন তার পুত্রবধূ শাহেনা আক্তার।

তিনি বলেন, ‘আশিকের বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ সত্য নয়।’ তিনি আরও বলেন, তার দেবর আশিক ও ওই স্কুলছাত্রীর মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। মেয়েটিকে বউ করে আনতে তারা (শাহেনা) রাজি। কিন্তু মেয়ের পরিবার রাজি নয়।

মামলার ১০ দিন পরও কোনো আসামি গ্রেফতার না হওয়ার বিষয়ে তদন্ত কর্মকর্তা ও কক্সবাজার সদর থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) আব্দুল হালিম বলেন, মামলার তদন্তকাজ অব্যাহত রয়েছে। আসামিরা পলাতক থাকায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি। তবে আসামি গ্রেফতারে পুলিশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here