ঢেমশি চাষের অপার সম্ভাবনা রয়েছে বাংলাদেশে !

0
121

বাংলাদেশের কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী সরিষার মতো দেখতে ঢেমশি এ অঞ্চলেরই আদি ফসলগুলোর একটি যা এক সময় এ ভূখণ্ডে বেশ জনপ্রিয়ও ছিলো। অর্গানিক প্রডাক্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স এসোসিয়েশনের সভাপতি মুহাম্মদ আব্দুস ছালাম বলছেন, তিনি দীর্ঘদিন ধরে পঞ্চগড়ে ঢেমশির চাষাবাদ করছেন।

“এটি চাষ খুবই সহজ ও খরচও খুব কম। জমি চাষ করে বীজ বুনলেই ফসল পাওয়া যায়। খুব বেশি অর্থ ব্যয়ের প্রয়োজন হয় না।

কৃষিবিদ ড. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর আলম কৃষি তথ্য সার্ভিসের ওয়েবসাইটে ঢেমশি নিয়ে তার লেখায় এটিকে বহুমাত্রিক ফসল হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ঢেমশি মূলত একটি শীতকালীন ফসল যার ইংরেজি নাম বাকহুইট। গমের নামের সাথে মিল থাকলেও এটি গম জাতীয় নয়। বরং সরিষার মিল আছে অর্থাৎ খৈলজাতীয়। “এটি তিন কোনা দানা। ভাত হিসেবেও খাওয়া যায় আবার আটা করে রুটি হিসেবেও খাওয়া যায়।

তিনি জানান বিশ্বের সবচেয়ে দামী মধু ঢেমশির ফুল থেকেই উৎপাদন হয়। একই ধরণের তথ্য আছে কৃষি তথ্য সার্ভিসের ওয়েবসাইটেও। ড. জাহাঙ্গীর আলম লিখেছেন যে ষাটের দশক শুরু হয়েছে নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন জেলায় ঢেমশি চাষ হলেও পরবর্তীতে তা ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়।

এটি বাংলাদেশে বহুল পরিমান চাষ হলে জনপুষ্টির ক্ষেত্রে বিরাট অগ্রগতি হবে। এটি ঠিক ভাতের মতোই তবে পুষ্টিগুণ ভাতের চেয়ে অনেক বেশি। শর্করা কম থাকায় আর ফাইবার বেশি থাকায় এটি রক্তে সুগারের পরিমাণ নিয়ন্ত্রণ করে।

এছাড়া প্রাকৃতিকভাবেই এতে বেশি পরিমাণ আমিষ, ক্যালসিয়াম, জিংকসহ নানা উপাদান আছে বলে শিশু স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।মূলত ভাত, মাছ, রুটি, দুধ, ডিম, সবজি ও ফলের প্রায় সব পুষ্টি উপাদান থাকার পাশাপাশি ঢেমশিতে আছে ভিটামিন, খনিজ, অ্যামাইনো এসিড ও ইলেকট্রলাইটস

এছাড়া আরও কয়েকটি ক্ষেত্রে এটি ইতিবাচক ভূমিকা রাখে। এগুলো হলো:

•বেশি আমিষের কারণে গর্ভবতী মা ও শিশুর মায়ের জন্য উপকারী

•হাঁড়ক্ষয় রোধ করে

•বিভিন্ন প্রকার ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়তা করে

•শিশুর হিমোগ্লোবিনের মাত্রা বাড়াতে সহায়তা করে

•এর আঁশ কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময়ে ভূমিকা রাখতে পারেঢেমশি স্বল্প জীবনকালের একটি বিশেষ ফসল। বছরের যে সময়ে জমি পতিত থাকে বা ধান আবাদ করা সম্ভব হয় না সেসব জমিতে সাথী ফসল হিসেবেও ঢেমশি আবাদ করা যায়।

 

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here