দেয়ালে কবিতা ও মুক্তিযোদ্ধার স্মৃতি, দৃষ্টি কেড়েছে পথিকের !

0
128

শরীয়তপুর প্রতিনিধি ॥ শরীয়তপুর সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের পুকুর পাড় ঘিরে রয়েছে সরু রাস্তা। রাস্তার পাশে রয়েছেবসার জন্য টুল ও বেঞ্চ। পাশেই রয়েছে শিশুদের বিনোদনের জন্য কিছু খেলনা সামগ্রী। সকাল বিকেল সেখানে মানুষ হাঁটাহাঁটি করে। শিশুরা খেলে ও দোল খায়।

সারা দিনই স্কুল কলেজের শিক্ষার্থীরা সেখানে ঘুরে বেড়ায়। সময় কাটান পথচারীরাও। সেই রাস্তার পাশে নতুন করে স্থাপন করা হয়েছে বাংলার প্রাচীন নিদর্শন ষাট গুম্বুজ মসজিদ, লালবাগ কেল্লা, স্মৃতিসৌধ, মঠ সহ আরো কত কি। এই সবই যেন মনমুগ্ধকর মনোরম।

তার পাশেই রয়েছে কবিতা দেয়াল। সেখানে স্থান পেয়েছে বরেণ্য কবি-সাহিত্যিকদের লেখা কবিতা। মুক্তিযোদ্ধার কলম দেয়ালে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধাদের নিজ হাতে লেখা মুক্তিযুদ্ধের বাস্তবতা, অভিজ্ঞতা ও স্মৃতি। এই সবই যেন পথচারীর দৃষ্টি কেড়েছে। একদন্ড সময় না দিয়ে যেন কেউ ফিরছেনা সেখান থেকে।

সদর উপজেলা কমপ্লেক্সের দক্ষিণ প্রান্তে তিন একর জমির ওপর একটি পুকুর। এর তিন দিকে সরকারি বিভিন্ন দপ্তর। দক্ষিণ পাশে নির্মাণ করা হচ্ছে মিলনায়তন। গত আগস্টে পকুুর পাড়ে সড়কের পাশে ‘কবিতা ও যোদ্ধার কলম’ নামে দেয়াল নির্মাণ করা হয়। কাব্যমায়া দেয়ালে রয়েছে ১৩৬টি কবিতা।

‘যোদ্ধার কলম’ নামে আরেকটি দেয়ালের রয়েছে ৫০ বীর মুক্তিযোদ্ধার হাতে লেখা মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি। সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনদীপ ঘরাইয়ের উদ্যোগে এ দেয়াল নির্মাণ করা হয়েছে। কবিতার দেয়ালে দেশের খ্যাতনামা কবি ও স্থানীয় কবিদের ১৩৬টি কবিতা স্থান পেয়েছে। ইটের দেয়ালে পাথর বসানো হয়েছে।

সেই পাথরের মধ্যে কবিতা লেখা। যোদ্ধার কলম নামের দেয়ালে বীর মুক্তিযোদ্ধা জানে আলম মুন্সি লিখেছেন, ১৯৭১ সালের মে মাসের দিকে মুক্তিযুদ্ধের প্রশিক্ষণ নিতে ভারতে যাওয়ার সময় যশোরে হানাদার বাহিনী আক্র মণ করে। এক সহযোদ্ধা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। কোলের ওপর তাঁর রক্তাক্ত দেহ নিয়ে বসেছিলেন। অন্তিমকালে পানি চেয়ে চিৎকার দিলেও তাঁকে পানি দিতে পারেননি।

এই স্মৃতি তাঁকে তাড়া করে ফেরে। ওই স্মৃতি স্মরণ করে তিনি চোখের পানি ফেলেন। একজন পথচারী বসে কবিতার দেয়ালে কবিতা পড়ছিলেন, তিনি বলেন,  সাহিত্যচর্চায় মানুষ এখন সময় দিতে চান না। এমন একটি সময়ে সড়কের পাশে গাছের ছায়ায় কবিতা দিয়ে দেয়াল সাজানো হয়েছে।

সেখানে মাইকেল মধুসুদন দত্ত, জীবনানন্দ দাস, নির্মলেন্দু গুণ, সুকুমার রায় ও ফকির লালন শাহর কবিতা ও গানের পাশাপাশি স্থানীয় কবিদের কবিতা স্থান পেয়েছে দেয়ালটিতে। একসাথে অনেক বরেণ্য কবির কবিতা পড়তে পেড়ে ভালই লাগছে।

যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সামাদ তালুকদার বলেন, নতুন প্রজন্ম মুক্তিযোদ্ধাদের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা ও বাস্তবতা কিছুই জানে না। এখানে মুক্তিযোদ্ধাদের স্বহস্তে লেখা অভিজ্ঞতা, স্মৃতি ও বাস্তবতা লিখে দেয়ালে সাটিয়েছেন। তৃণমূলের মুক্তিযোদ্ধাদের নিয়ে কেউ লেখেন না। এখানে অনেকে মৃক্তিযোদ্ধারা তাঁদের গল্প লিখেছেন।

জেলা প্রশাসক মো: পারভেজ হাসান বলেন, ‘যোদ্ধার কলম ও কাব্যমায়ায় সাহিত্য- সংস্কৃতি ও ইতিহাসের এক সেতুবন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ পরিবেশ সংরক্ষণ করা হবে। প্রয়োজনে আরো নতুন কিছু সংযোজন করা হবে।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here