গাছের আম পাড়ায় ইবি শিক্ষার্থীকে থাপড়ালো সহকারী প্রক্টর !

0
65
ইবি প্রতিনিধি: ক্যাম্পাসের গাছ থেকে আম পাড়ায় ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে থাপ ড়ানোর অভিযোগ উঠেছে সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে। পরে ওই শিক্ষার্থীকে আবাসিক হলের ভিতর আটকিয়ে রাখা হয়েছিলো বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে।
শুক্রবার (২৩ এপ্রিল) বেলা ১১ টায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের পাশে এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী হাসান আলী। ঘটনায় শারীরিক ও মানসিক ভাবে লাঞ্চিতের অভিযোগ তুলে সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলামের বিরুদ্ধে বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তিনি।
হাসান আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের হিসাব- বিজ্ঞান ও তথ্য পদ্ধতি বিভাগের স্নাকোত্তর ২০১৯-২০ শিক্ষা বর্ষের শিক্ষার্থী। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থী জানায়, শুক্রবার সকালে স্ত্রী সহ ক্যাম্পাসে ঘুরতে আসেন হাসান আলী। তার স্ত্রী একই বিভাগের ও একই শিক্ষাবর্ষের ছাত্রী। ঘোরার এক পর্যায়ে বিশ্ব- বিদ্যালয়ের খালেদা জিয়া হলের পাশে এক আম গাছ থেকে আম পাড়তে উঠেন হাসান। এসময় ওই পথে যাওয়ার সময় হাসানকে গাছে দেখতে পান সহকারী প্রক্টর আরিফ।
পরে তাকে গাছ থেকে নামতে বলেন। গাছ থেকে নেমে ওই শিক্ষার্থী তার পরিচয় দিলেও আরিফুল তাকে তুই-তুকারী করে জেরা করতে শুরু করেন। জেরার একপর্যায়ে সহকারী প্রক্টর আরিফ বলেন, তরে কেন জেরা করছি বুঝতে পারছিস না? নিশ্চয় আমার একটা পাওয়ার আছে, একটা দায়িত্বে আছি। আর তুই শিক্ষার্থী হইছিস তাতে কি হইছে। ক্যাম্পাসের গাছ থেকে আম পারবি কেন? অরাজকতা করতে আসিস ক্যাম্পাসে। আম সহ সামনে দাড়া, ছবি তুলি।
এসময় ওই শিক্ষার্থী তার ভুল শিকার করে চলে যাইতে চাইলে আরিফুল তাকে থাপ্পর মারে বলে জানান হাসান। পরে হলের আনসার সদস্যকে ডেকে এনে তাদেরকে বঙ্গমাতা শেখফজিলাতুন্নেছা মুজিব হলের ভিতরে নিয়ে যান সহকারী প্রক্টর। এসময় শিক্ষার্থীদের হলের গেস্ট রুমে আটকে রাখেন তিনি। এদিকে একটা মিটিং আছে বলে শেষ করে না আসা পর্যন্ত আনসারকে শিক্ষার্থীদের না ছাড়ার নির্দেশ দেন আরিফ। সেইসাথে পরে এসে বিষয়টি দেখবেন বলে জানান তিনি।
ঘটনায় শিক্ষার্থীরা আতঙ্কিত হয়ে হলে অবস্থান করেন। পরে প্রায় এক ঘন্টা পর আরিফুল ইসলাম সহআরেক সহকারী প্রক্টর শফিকুল ইসলাম ঘটনাস্থলে আসেন। এসে শফিকুল ইসলাম ভুক্ত- ভোগীর কাছ থেকে বিস্তারিত শুনেন। সাথে থাপ্পর মারার বিষয়ে দু:খ প্রকাশ করে প্রক্টরিয়াল বডির পক্ষ থেকে ক্ষমা চান তিনি।
পরে তাদের ছেড়ে দেন বলে জানায় ভূক্তভোগী হাসান আলী। এদিকে ঘটনায় ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী ওই দিন বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রক্টর বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। অভিযোগপত্রে সহকারী প্রক্টর জনাব আরিফ কর্তৃক শারীরিক ও মানসিকভাবে লাঞ্ছনার বিষয়টি তুলে ধরেন। সেই সাথে ঘটনায় সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানায় সে।
এবিষয়ে ভুক্তভোগী হাসান আলী জানান, “নিজের ক্যাম্পাসের গাছ থেকে আম পাড়ায় আজ শিক্ষকের হাতে লাঞ্ছনার শিকার হতে হলো। ঘটনায় আমার যদি কোন ভুল হয়ে থাকতো তাহলে তিনি আমাকে বুঝিয়ে বলতে পারতেন। তা না করে বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী পরিচয় দেয়ার পরেও তিনি সারাক্ষণ তুই-তুকারী করে ব্যবহার করেছেন। সেই সাথে নিজের পাওয়ার এর কথা শুনিয়ে আমাকে থাপ্পরও মেরেছেন।
এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছি। সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানাই।” এদিকে এর পূর্বেও বিশ্ববিদ্যাল-য়ের অন্য সহকারী প্রক্টরদের দ্বারা শিক্ষার্থীরা হেনস্থা হওয়ার অভিযোগ আছে। এ বিষয়ে অভি-যোক্ত সহকারী প্রক্টর আরিফুল ইসলাম বলেন, “আমি এ বিষয়ে কথা বলতে চাচ্ছি না। তবে তার উদ্ভট আচরণে আমি খুবই ক্ষুদ্ধ। আমি আমার অধিকার থেকে এইটুকু করেছি।
এছাড়া আমি এমন কোন শিক্ষক বা দায়িত্বরত মানুষ না যে, আমার চোখের সামনে অপরাধ দেখলে কিছু বলবো না। আমার সর্বোচ্চটা দিয়ে চেষ্টা করি প্রটেক্ট করার।” এবিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ভুক্তভোগী ওই শিক্ষার্থী বিকেলে আমাকে একটা লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আগামীকাল সংশ্লিষ্ট সকলকে নিয়ে বসে বিষয়টি সমাধান করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here