হাতীবান্ধায় চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এবার ৮ সদস্যের অভিযোগ, তদন্ত না হওয়ায় ক্ষোভ !

0
36
শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত। [লালমনিরহাট]: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ডাউয়াবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদের বিরুদ্ধে এবার ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলেছেন ওই ইউনিয়ন পরিষদের ৮ জন সদস্য। গত ২২ মার্চ তারা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।
এর আগে গত ৫ মার্চ আশরাফুল আলম ও তহিদুল ইসলাম নামে দুই ইউপি সদস্য ইউনিয়ন পরিষদের মাসিক সভা না করাসহ সুনিদিষ্ট ৮টি অভিযোগ উল্লেখ করে ইউএনও’র কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। কিন্তু দীর্ঘদিনেও ওই অভিযোগগুলোর তদন্ত না হওয়ায় এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরা।
প্রাপ্ত অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, ওই ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ নির্বাচিত হওয়ার পর থেকে ইউনিয়ন পরিষদ সচিবকে সাথে নিয়ে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন। ২০১৮-১৯ ও ২০১৯-২০ অর্থ বছরে টিআর, কাবিখা, এডিপি, এলজিএসপি, নন- ওয়জে প্রকল্পগুলোতে নিজেই প্রকল্প চেয়ারম্যান হয়ে নামমাত্র কাজ করে ভুয়া বিল ভাউচার জমা দিয়ে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করেন।
নানা ওজুহাতে বসতবাড়ির কর আদায় করলে তা উন্নয়নমূলক কাজে ব্যয় না করে ইউপি সচিবসহ ভাগাভাগি করে আত্মসাৎ করেন চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ।
অভিযোগ সূত্রে আরও জানা গেছে, ভিজিডি, ভিজিএফ, রয়স্ক, প্রতিবন্ধী, বিধবা ও শিশু ভাতাসহ বিভিন্ন সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয় না করে নিজের মতো তালিকা তৈরি করে উপজেলা প্রশাসনের নিকট জমা দিয়ে আসছেন। প্রতি মাসে মাসিক সভা করে ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যদের সাথে সমন্বয়ন করে ইউনিয়ন পরিষদের সকল কার্যক্রম পরিচালনা করার নিয়ম থাকলেও তিনি কখনোই মাসিক সভা করেন না।
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, কৃষি বিভাগ থেকে বীজ-সার বিতরণ ও জনস্বাস্থ্য বিভাগ থেকে নলকূপ বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। যার সাথে ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ নিজেই জড়িত। বিভিন্ন সময় এসব বিষয়ে তথ্যের জন্য ইউনিয়ন পরিষদের সদস্যরা সচিবের কাছে গেলে সচিবও তথ্য দিতে টালবাহানা করেন।
অভিযোগকারী ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য আশরাফুল আলম ও তহিদুল ইসলাম বলেন, আমরা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও সচিবের অনিয়ন ও দুর্নীতির প্রতিবাদ করলে নানা সময় আমাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। আমরা অনেকটা বাধ্য হয়ে আমাদের অধিকার পেতে ও দুর্নীতি বন্ধের জন্য একমাস আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট লিখিত অভিযোগ করেছি। কিন্তু আজ পর্যন্ত এ অভিযোগের তদন্তসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।
তারা বলেন, সম্প্রতি ঈদ উপলক্ষে সরকারি ত্রাণ বিতরণে সুবিধাভোগীদের তালিকা চেয়ারম্যান একাই তৈরি করতে চেষ্টা করছেন। সব মিলে চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতি বেড়ে গেছে কয়েকগুন। এর ফলে এবার ৮ জন্য ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য চেয়ারম্যানের অনিয়ম ও দুর্নীতি বন্ধে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ করেছেন।
অভিযুক্ত ডাউয়ারাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান রেজ্জাকুল ইসলাম কায়েদ বলেন, ঈদ উপলক্ষে ত্রাণ বিতরণে সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরি নিয়ে সবার উপস্থিতিতে সভা হয়। ইউনিয়ন পরিষদ সদস্যরাই নিজেদের মধ্যে আলোচনা করে ওই তালিকা ভাগাভাগি করেন।
পরে তারাই আবার তাদের সিদ্ধান্ত মানেন না। কয়েক জন সদস্য বিভিন্ন সময় আমার বিরুদ্ধে নানা যড়ষন্ত্র করেন। আমি সবসময় সবার সাথে কথা বলে সবকিছু করার চেষ্টা করি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ তোলা হয়েছে, তা যড়ষন্ত্রের অংশ মাত্র।
হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সামিউল আমিন বলেন, অভিযোগে বেশকিছু অনিয়ম ও দুর্নীতির কথা উল্লেখ করা হয়েছে। করোনার কারণে তদন্ত করতে একটু দেরি হচ্ছে। অতি দ্রুত উপজেলা প্রশাসন তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here