হাতীবান্ধায় গৃহবধূকে নির্যাতন করলেন যুবলীগ নেতা

0
100

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে গৃহবধু রেহানা আক্তারকে(৩৩) অমানবিক নির্যাতন ও তাদের থাকার একমাত্র বসতভিটেতে আগুন ধরিয়ে পুড়ে ছাই করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে যুবলীগ নেতা আহসান হাবিব মিলনের(৩৬) বিরুদ্ধে। নির্যাতন করে গৃহবধূকে বিভিন্ন জায়গায় কুপিয়ে যখম করা হয়।

এদিকে এ সময় ওই গৃহবধূকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তার ছেলে মোজাহিদ হোসেন(১৪) ও মেয়ে জুবাইদাকেও মারধর করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে স্থানীয় হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। গৃহবধূ বর্তমান হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপেক্সে চিকিৎসাধীন আছেন।

এ ঘটনায় রাতে হাতীবান্ধায় থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন গৃহবধূর স্বামী জিয়ারুল হক। অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার বড়খাতা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবীব মিলন(৩৬), মনিরুজ্জামান(৫১), রবিউল ইসলাম(২৮), খতিবর রহমান(৩০), মামুন সহ(৩৫), সফিয়ার রহমান পিন্টু(৫৫), আরও অনেকে।

জানা গেছে, জমি নিয়ে জিয়ারুলের সাথে তার ভাই পিন্টু ও মিলনের দীর্ঘ দিন ধরে বিরোধ চলছে। এই বিরোধের জেরে গত শনিবার জিয়ারুল হকের বাড়িতে যুবলীগ নেতা মিলন ও তার ভাই পিন্টুসহ আরও কয়েকজন হামলা চালায়। এ সময় জিয়ারুল হকের স্ত্রী রেহেনা বাঁধা দিলে তাকে গাছের সাথে বেঁধে মারধর করে বসত ভিটেতে আগুন ধরিয়ে দেয় যুবলীগ নেতা মিলন।

মাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে ছেলে ও মেয়েকেও মারধার করেন তারা। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়।

সরেজমিনে হাতীবান্ধা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায় হাসপাতালের বেডে এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছে রেহেনা আক্তার। এ সময় রেহেনা করতে বলে, দেবর মিলন বাড়িতে এসে ঘরে আগুন লাগিয়ে দেয়। এ সময় আমি বাধা দিতে গেলে মিলনের হাতে থাকা চাকু দিয়ে আমার হাতে ও মাথায় আঘাত করে ।

এমনকি আমার ভাসুর, দেবর ননদ ও ননদের ছেলে মিলে আমাকে বেধড়ক পেটাতে থাকে। পরে গাছের সাথে দড়ি দিয়ে বেধে নির্যাতন করে। আমাকে রক্ষা করতে আমার ছেলে মেয়ে ছুটে আসলে তাদেরকেও মারধর করে।

গৃহবধূ রেহেনা আক্তারের স্বামী জিয়ারুল হক বলেন, আমি বাড়িতে না থাকায় সেই সুযোগ বুঝে আমার বড় ভাই ছোট ভাই বোন মিলে আমার বউকে মারধর করে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।

এ বিষয়ে জানতে বড়খাতা ইউনিয়ন যুবলীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক আহসান হাবিব মিলন বলেন, তাকে কোন মারধর করা হয়নি। এটা পারিবারিক বিষয়।

এ বিষয়ে হাতীবান্ধা থানার অফিসার ইনচাজর্ এরশাদুল আলম বলেন, একটি অভিযোগ পেয়েছি । ঘটনার তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here