হরিনাকুন্ডুর কাদিখালী পুর্বপাড়া গ্রামে ঐতিহ্যবাহী সাধুসঙ্গ উৎসব অনুষ্ঠিত

0
51
জাহিদুর রহমান তারিক, ঝিনাইদহ- ঝিনাইদহের হরিনাকুন্ডু উপজেলার কাদিখালী পুর্বপাড়া গ্রামে এতিহ্যবাহী সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা থেকে শুক্রবার বিকাল পর্যন্ত চলে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠান। সুদীর্ঘ ৩০ বছর যাবৎ কাদিখালী পুর্বপাড়া গ্রামের মৃত.শাহাদৎ মন্ডলের ছেলে বাদল ফকিরের বাড়িতে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে।
সে মোতাবেক ১লা এপ্রিল বৃহস্পতিবার বাদল ফকির (৪৯) এর বাড়িতে সাধুসঙ্গ উৎসব অনুষ্ঠান শুরু হয়। ২রা এপ্রিল শুক্রবার বিকালে পূর্ণ সেবা দিয়ে সাধুসঙ্গ উৎসব অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষনা করা হয়। সাধুসঙ্গ উৎসব অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হয় প্রায় চারশত সাধু ও তাদের ভক্তবৃন্দ।
এসব সাধু ও তাদের ভক্তবৃন্দের জন্য নিজ খরচে খাবারের আয়োজন করেন বাদল ফকির। বাদল ফকির বলেন অন্যান্য বছরের মত এবার করেনাকালীন সমস্যার কারনে আরো অনেক সাধুগুরু ও ভক্তবৃন্দ সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে আসতে পারিনি। তাই সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানটি ঠিকমত জাকজমক করতে পারিনি। বিভিন্ন স্থান থেকে আগত সাধু ও ভক্তবৃন্দের অভিনন্দন জানিয়ে আগামিতে সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানটি আরো জাকজমকপূর্ণ করা হবে বলে তিনি আশাব্যাক্ত করেন।
এপ্রসঙ্গে ঝিনাইদহ কালচারাল অফিসার মোঃ জসিম উদ্দিন উক্ত সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত সাধু ও তাদের ভক্তবৃন্দের উদ্দেশ্যে তার বক্তব্যে বলেন, আপনারা দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে এখানে কষ্ট করে এস অনুষ্ঠানটি মহিমাম্বিত করে তুলেছেন এজন্যে আপনাদের অনেক ধন্যবাদ। তাছাড়া করোনা ভাইরাস সমস্যার কারনে সীমিত পরিসরে অনুষ্ঠানটি শেষ করতে হচ্ছে বলে আমি দুঃখিত।
ঝিনাইদহের পাগলাকানায় এলাকা থেকে আলোচিত বাউল শিল্পী রাফেজা বেগম সারা দেশের সাধুগুরু ও ভক্তবৃন্দের দিকে সরকারের নজর দেওয়া উচিত। তারা দেশের শিল্প। সাধুগুরু ও ভক্তবৃন্দ মিলনের কেন্দ্রবিন্দর নাম সাধুসঙ্গ। তাই সাধুসঙ্গ নামক ঐতিহ্য ও শিল্পকে বাঁচিয়ে রাথতে সরকারের এগিয়ে আসা উচিত বলে মনে করেন এই গুনী শিল্পী রাফেজা বেগম।
এদিকে গ্রামের আপামর জনসাধারণের সহযোগিতায় সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানে আলোচনা সভা ও লালন সংগীত পরিবেশিত হয় রাতভর। এদিকে দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে আগত হয় প্রায় চারশত সাধু ও তাদের ভক্তবৃন্দ বিদায় বেলায় অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, সাধুদের সব কিছুর মুলে রয়েছে গুরু ভক্তি। গুরুকে ভজেই সর্বদা তারা পরমত্মার সন্ধান করে ফেরে।
সমাজের অসঙ্গতি, সাম্প্রদায়িকতা, মানুষে মানুষে অযথা হানাহানি দূর করে চিরন্তন মানবধর্ম প্রতিষ্ঠা করতে চেয়েছিলেন সাঁইজি লালন ফকির। সাঁইজি তার পদাবলী ও বাণীতে মানুষকে প্রকৃত শুদ্ধ মানুষ হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। তাই এই সাধুসঙ্গ উৎসব কেবল উৎসব নয় এখান থেকে লালনের এসব শিক্ষা ও মানবপ্রেম ছড়িয়ে দেবেন দেশব্যাপী।
সাধুসঙ্গ আয়োজনে অন্যান্যবারের মত এবারও উৎসুক দর্শনাথীদের ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মতো। ঘুরে ফিরে কেবল সাধুগুরু ও বাউলদেরই চোখে পড়ে। দর্শনার্থীদের সমাগম থাকায় কাদিখালী গ্রামে দোকান স্টলগুলোতে সারাক্ষনই ভীড় দেখ গেছে।
উল্লেখ্য, উক্ত সাধুসঙ্গ অনুষ্ঠানটির সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন সাধুগুরু ও ঝিনাইদহের বিখ্যাত বাউল শিল্পী মতলেব ফকির।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here