লালমনিরহাটে বিএনপি’র সাবেক সভাপতিও আ’লীগের সভাপতি পদ প্রত্যশী

0
146

শাহিনুর ইসলাম প্রান্ত, লালমনিরহাট প্রতিনিধি: লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলা বিএনপি’র সাবেক সভাপতি সহ ৮/১০জন আওয়ামীলীগের গুরুত্বপুর্ন পদ দুইটির প্রত্যাশী রয়েছেন। ৮অক্টোবর অনুষ্ঠিত হবে এ উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন।

জানা গেছে, দীর্ঘ ১০ বছর পরে আগামী ৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের আয়োজন করছে ক্ষমতাশীন এ রাজনৈতিক দলটি। সম্মেলনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে কর্মব্যস্থতাও বেড়েছে কয়েকগুণ।

উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের মধ্যে মাত্র ৬টির সম্মেলন ইতোমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। বাকী কমলাবাড়ি এবং দুর্গাপুর ইউনিয়নের পুরাতন কমিটিই এ সম্মেলনের কাউন্সিলর হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। তবে সম্মেলন হলেও ওই ৬টি ইউনিয়নে পুর্নাঙ্গ কমিটি ঘোষনা হয়নি বলেও একটি সুত্র নিশ্চিত করেছে। সেক্ষেত্রে ওই সকল ইউনিয়নেও ঘোষিত নতুন পদ ব্যাতিত অন্য পদের পুরাতন কমিটির নেতারাই কাউন্সিলর হবেন।

আওয়ামীলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য সাবেক মন্ত্রী শাহাজাহান খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত থাকবেন এ সম্মেলনে। সম্মেলনে নির্বাচন না কি সিলেকশনে নেতা নির্বাচিত হবেন। তা নিয়ে রয়েছে নানান জল্পনা কল্পনা। এরপরও থেমে নেই পদ প্রত্যশীরা। তারা বিভিন্ন সিনিয়র নেতাদের পিছনে ঘুরছেন সমর্থনের আশায়।

দলীয় নেতাকর্মী ও সম্ভব্য কাউন্সিলররা জানান, উপজেলা আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে বেশ কয়েকজন সভাপতি ও সম্পাদক পদ পেতে দৌড়ঝাপ করছেন। অনুপ্রবেশকারীসহ প্রবীণ এবং যুবক, ছাত্রনেতাও রয়েছেন।

এর মধ্যে সভাপতি পদে রয়েছেন ২০০৯ সালের উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনের সভাপতি ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী, প্রায়ত সভাপতি শওকত আলীর ভাতিজা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েস, উপজেলা আওয়ামীলীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি অধ্যক্ষ রবিউল ইসলাম মানিক, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক সম্পাদক আজিজুল ইসলাম প্রধান,জেলা পরিষদের সদস্য সেলিম হায়দার।

সম্পাদক পদে গুনজন উঠেছে, বর্তমান সম্পাদক সাপ্টিবাড়ি ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম, জেলা আওয়ামীলীগের সদস্য সমাজকল্যান মন্ত্রীর সহকারী ব্যাক্তিগত কর্মকর্তা(এপিএস) মিজানুর রহমান মিজান,রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের ছাত্র বৃত্তি বিষয়ক সম্পাদক কমলাবাড়ি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতি ও সাবেক ছাত্রনেতা ভাদাই ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত রায় বিদুর।

তবে উপজেলা আওয়ামীলীগের দুইটি গ্রুপেই পৃথক পৃথক একই পদের জন্য বিকল্প হিসেবে একাধিক প্রার্থী প্রস্তুত করে প্যানেল দিচ্ছেন। দুই গ্রুপের মধ্যে একটিতে নেতৃত্ব দিচ্ছেন কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি সমাজকল্যান মন্ত্রী নুরুজ্জামান আহমেদ এমপি এবং অপর গ্রুপে নেতৃত্বে রয়েছেন জেলা আওয়ামীলীগের সহ সভাপতি এফবিসিসিআইয়ের সাবেক পরিচালক সিরাজুল হক।

নেতাকর্মীরা জানান, সমাজকল্যান মন্ত্রী আস্তাভাজন হিসেবে সভাপতি পদে এগিয়ে রয়েছেন ভেলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলী। তবে তিনি বিগত ২০০৯ সালে উপজেলা বিএনপি’র সম্মেলনে সভাপতি নির্বাচিত হয়ে দীর্ঘ দিন দায়িত্ব পালন করেন। ২০১৬ সালে স্থানীয় ইউপি নির্বাচনের আগে দল পরিবর্তন করে আওয়ামীলীগে যোগদান করেন। দলের অনুপ্রবেশকারী হিসেবে দলীয় কার্যক্রমে বিশ্বস্থতা অর্জনে সফল হতে পারেনি তিনি।

সাবেক সম্পাদক সারপুকুর ইউপি’র সাবেক চেয়ারম্যান আজিজুল ইসলাম প্রধানও সভাপতি পদ প্রত্যাশী। প্রবীণ আওয়ামী নেতা হিসেবে তার বেশ নাম ডাক রয়েছে। শারীরিক ভাবে কিছুটা অসুস্থ থাকলেও পদ প্রত্যাশী হিসেবে তার নাম শোনা যাচ্ছে পছন্দের তালিকায়।

এ তালিকায় রয়েছেন উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ফারুক ইমরুল কায়েসও। তিনি প্রায়ত আওয়ামীলীগ নেতা শহীদ সামছুল ইসলাম সুরুজের ছেলে। একই সাথে পিতৃীহারা সন্তান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার তত্ত্বধানে ছাত্র জীবন সমাপ্ত করেন। সেদিক থেকে ফারুকও এগিয়ে রয়েছেন।

সাধারন সম্পাদক পদে সমাজকল্যান মন্ত্রীর আস্থাভাজন বর্তমান সম্পাদক সহকারী অধ্যাপক রফিকুল আলম অনেকটাই এগিয়ে রয়েছেন। তার বিকল্প হিসেবে সমাজকল্যান মন্ত্রীর এপিএস মিজানুর রহমান মিজানের নামও নেতাকর্মীদের মুখে মুখে।

অপর দিকে সিরাজুল হকের গ্রুপে এগিয়ে রয়েছেন রাবি ছাত্রলীগ নেতা কমলাবাড়ি ইউপি চেয়ারম্যান মাহমুদ ওমর চিশতির নাম। সেক্ষেত্রে এ গ্রুপে বিকল্প হিসেবে থাকতে পারেন ভাদাই ইউপি চেয়ারম্যান কৃষ্ণকান্ত রায় বিদুর।

আগামী ৮ অক্টোবর উপজেলা আওয়ামীলীগের সম্মেলন উপলক্ষে আদিতমারী জিএস সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে মঞ্চ প্রস্তুতের কাজ প্রায় সমাপ্তের দিকে। মহাসড়ক জুড়ে হচ্ছে তোরণ। গুরুত্বপুর্ন স্থান ছেঁয়ে গেছে ফিলবোর্ড, ব্যানার আর ফেস্টুনে।

দলটির দুই গ্রুপের অন্তদ্বন্দ্বের কারনে সংঘাত সংঘর্ষের আশংকাও করছেন স্থানীয়রা। ইউপি সম্মেলনে কিছু অপ্রীতিকর ঘটনার সুত্র ধরে উপজেলা সম্মেলনে আবারও সংঘাতে জড়াতে পারে দুই গ্রুপ -এমনটা আশংকা করছেন স্থানীয়রা।

তবে লালমনিরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার রবিউল ইসলাম বলেন, বিগত ইউনিয়ন সম্মেলনগুলোতে দুই গ্রুপের যে অন্তদ্বন্দ্ব আমরা দেখেছি। সেই অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে উপজেলা সম্মেলনকে ঘিরে আইন শৃঙ্খলা স্বাভাবিক রাখতে আমরা সকল ধরনের প্রস্তুতি নিচ্ছি। যেকোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে সদা প্রস্তুত রয়েছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here