মানসিক রোগী বলে কি চিকিৎসা পেতে পারে না ?

0
210
শিকদার শামীম আল মামুন , ০৫ জুলাই: নিজের পরিচয় বলতে না পারা মানসিক ভার-সাম্যহীন ক্ষুদার্ত ঠিকানাবিহীন এক নারী  রাস্তায় ঘুরে বেড়ান। রোববার বিকেলে পায়ে ক্ষত হয়ে পোকা ধরা রোগ (গ্যাংরিং) নিয়ে রাস্তার ধারে পড়ে থাকা ওই নারীকে মানিকগঞ্জ পৌর-সভার নয়াকান্দি এলাকা থেকে উদ্ধার করে মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম চিকিৎসার জন্য মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
কিন্তু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ  চিকিৎসা  না দিয়ে  তালবাহানা করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করে। পরে পুলিশের ওই কর্মকর্তা তার নিজ খরচে সেই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান।
সেখানেও তাকে চিকিৎসা না দিয়ে মিটফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে গভীর রাতে ঢামেক হাসপাতাল থেকে মিটফোর্ড হাসপাতালে নেওয়া হলেও কর্তৃপক্ষ চিকিৎসা সেবা দিতে গড়ি-মসি করে। পরে রাত ৩টার দিকে পুনরায় মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়ে দেয়।
পুলিশের কৌশলী সহযোগিতায় সোমবার সকাল ৮টায় মানিকগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ দায় এড়াতে ওই নারীকে ভর্তি করে। মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, পুরাতন ভবনের সার্জারী ওয়ার্ডের বারান্দার ফ্লোরে একটি বিছানায় বসে আছে মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী।
চিকিৎসা সেবা দেওয়ার তেমন কোন আলামত চোখে পড়েনি। তখন সাংবাদিকদের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন নার্স হুইল চেয়ার নিয়ে ওই নারীর দিকে এগিয়ে যান। মানিকগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি তদন্ত) নজরুল ইসলাম বলেন, রোববার বিকেলে  ভারসাম্য হীন ওই নারীকে পায়ে ক্ষত নিয়ে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাই। মানিকগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) নারীটিকে ভর্তি করতে অনিহা প্রকাশ করে।
পরে হাসপাতালের তত্বাবধায়ককে বার বার ফোন করেও তাকে পাইনি। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করলে আমি নিজ খরচে লোক মারফত তাকে এ্যাম্বুলেন্স যোগে ঢাকা পাঠাই।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে সেখানেও তারা ওই নারীকে ভর্তি না করে মিট-ফোর্ড হাসপাতালে রেফার্ড করে। ডিএমপি পুলিশের সহযোগিতা নিয়েও ওই নারীকে কোন হাসপাতালে ভর্তি করাতে পারিনি। সকল পেশার উর্ধ্বে মানবতা।
সেই মানবতা আজ বিপন্ন। পায়ে ক্ষত নিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন এক নারী চিকিৎসার অভাবে রাস্তায় পড়ে থাকতে দেখেও কেউ এগিয়ে আসেনি।  মানিকগঞ্জ জেনারেল হাস-পাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডাঃ এ কে এম রাসেল বলেন, ওই নারীর একইসাথে মানসিক রোগের ও সার্জারী চিকৎসা প্রয়োজন। মানসিক ভারসাম্যহীন ওই নারী যদি একা একা কোথাও চলে যায় বা অন্য কোন রোগীর সাথে ঝামেলা করে সেই ভয়ে তাকে ঢাকা পাঠানো হয়েছিল।
সারাক্ষণ তো আর একজন রোগীকে পাহারা দিয়ে রাখা সম্ভব না। আর আমাদের হাসপাতালে সাইকি-য়াট্রিট বিভাগ না থাকায়  ঢাকা মেকিল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। তার পরিচয় অজ্ঞাত থাকায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ তাকে ভর্তি করেনি। বর্তমানে সে এখানে সার্জারী ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
আর তত্বাবধায়ক ডাঃ মোঃ আরশেদউল্লাহ বলেন, আমাদের হাসপাতালে ওই নারীকে চিকি-ৎসা সেবা দিতে কোন প্রকার অনিহা প্রকাশ করা হয়নি। আমাদের হাসপাতালে সাই-কিয়াট্রিট বিভাগ না থাকায়  ওই নারীকে ঢাকা মেকিল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছিল। এখন সে আমাদের এখানেই চিকিৎসাধীন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here