মোবাইল গেমস আসক্ত হয়ে পড়ছে শিক্ষার্থীরা !

0
85
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ॥ মহামারি করোনা সংক্রমণের কারণে প্রায় দেড় বছর ধরে বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। লেখাপড়ার কোনো চাপ না থাকার সুবাদে চাঁপাইনবাবগঞ্জের স্কুল-কলেজের অধিকাংশ শিক্ষার্থী দিন-রাত সমান তালে বেশির ভাগ সময় মোবাইলে গেমস খেলে সময় পার করছেন।
তারা রাস্তার মোড়ে, গাছের নিচে খোলা কোনো জায়গায় দলবেঁধে বসে ফোর্টনাইট, তিন পাত্তি, লুডু, জান্ডীমুন্ডা, ফ্রি ফায়ার,পাবজি গেমসগুলো খেলছে। এদের মধ্যে অধিকাংশই মোবাইলে অর্থের বিনিময়ে জুয়ায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, বাজার, পাড়া-মহল্লায় বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বাজারসহ বেশ কিছু বাগানে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা দলবেঁধে এসব ভয়ানক গেমস খেলায় আসক্ত হয়ে পড়েছেন। এদের মধ্যে বেশির ভাগই ফ্রি ফায়ার ও পাবজি নামক গেমসের নেশায় বেশি জড়িয়ে পড়ছেন।
আলাপকালে কয়েকজন অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘এখন শিক্ষার্থীদের পাঠ্যবই নিয়ে ব্যস্ত থাকার কথা। বর্তমানে করোনার কারণে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিক্ষা ক্ষেত্রে ডিজিটাল ও তথ্য প্রযুক্তির ছোঁয়া লেগেছে। অথচ তথ্যপ্রযুক্তির এই যুগে শিক্ষার্থীরা জড়িয়ে পড়ছে গেমসের নেশায়।
উঠতি বয়সের তরুণ প্রজন্ম প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেমে আসক্ত হচ্ছে। এসব বিদেশি গেম থেকে ছেলেমেয়েকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে বলেও তারা মনে করেন।
সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক বিবেচনা করে অভিভাবকরাও ধারদেনা করে ফোন কেনার টাকা জোগান দিচ্ছেন। অথচ অধিকাংশ শিক্ষার্থীরা পরিবারের মোটা অঙ্কের অর্থ খরচ করে গেমসের জন্য ‘ডায়মন্ড ও ইউসিথ কিনছে।
শিশুরা যেখানে টাকা জমিয়ে ক্রিকেট বল, ফুটবল কেনার কথা, সেখানে তারা টাকা জমিয়ে রাখছে ইউসি অথবা ডায়মন্ড কেনার জন্য।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী জানান, ‘ফ্রি ফায়ার গেমস প্রথমে তাদের কাছে ভালো লাগত না। কিছুদিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছে। এখন গেমস না খেলে তাদের অস্বস্তিকর মনে হয়।
নাম প্রকাশ না শর্তে একজন শিক্ষক বলেন, ‘অনলাইন ক্লাসের অজুহাতে অভিভাবকদের কাছ থেকে অ্যান্ড্রয়েড ফোন শিক্ষার্থীদের হাতে যাওয়া এবং অভিভাবকদের নিয়ন্ত্রণ না থাকায় এমন পরিস্থিতি হয়েছে।
‘আমাদের কলেজের শিক্ষকরা অনলাইনে ক্লাস নিলে যাতে করে শিক্ষার্থীরা এমন কাজ না করে, সেই বার্তাটা সকল ক্লাসের মধ্যে বলে দেয়ার নির্দেশ দেব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here