মধ্যরাতে বখাটেদের হেনস্থার শিকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী

0
70
আদিল সরকার, ইবি: মধ্য রাতে স্থানীয় বখাটেদের কাছে কয়েক দফায় হেনস্থার শিকার হয়েছেন ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের  চারজন ছাত্রী। বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখপাড়া এলাকায় মেসে থাকাকালীন এ হেনস্থার শিকার হয় তারা।
এনিয়ে আতঙ্কের সাথে নির্ঘুম রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। পরদিন শুক্রবার ছাত্রীরা নিরাপত্তার শঙ্কায় মেস ছেড়ে নিজ বাড়িতে চলে গিয়েছেন বলে জানা গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, করোনায় মধ্যরাতে বখাটেদের হেনস্থার শিকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রীয়ের হল বন্ধ থাকায় অনার্সের চুড়ান্ত পরীক্ষা দিতে এসে মধ্যরাতে বখাটেদের হেনস্থার শিকার বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী সংলগ্ন শেখপাড়া এলাকার এক প্রাইমারী শিক্ষিকার বাসায় উঠেন এই চারজন ছাত্রী। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অনার্স (সম্মান) চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী।
গত ২২ ফেব্রুয়ারী বাসার পাশে হঠাৎ করে মানুষজনের হাটাহাটির শব্দ শুনতে পান তারা। তবে বাসার পাশে জঙ্গল থাকায় সাধারণ লোকজনের জন্য চলাচল অস্বাভাবিক ছিল বলে জানান তারা। এভাবে কয়েকদিন বাসার পাশে রাতের বেলায় কিছু মানুষের উপস্থিতি অনুভব করতে থাকে তারা।
পরে গত বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারী) হঠাৎ রাত একটার দিকে জানালার পাশে কিছু বখাটে ছেলের কথা শুনতে পায়। এসময় বখাটেরা তাদেরকে উদ্দেশ্য করে বিভিন্ন খারাপ ও উত্তক্ত্যমূলক কথা বলছিল বলে অভিযোগ করে ভূক্তভোগীরা। পরে তাৎক্ষনিক ছাত্রীরা ভয়ে চিৎকার শুরু করলে বখাটেরা জানালার পিছন থেকে পালিয়ে যায়। পরে শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বাসা মালিককে অবহিত করে। সেইসাথে বিষয়টি সম্পর্কে তারা বিভাগের শিক্ষক ও বন্ধুদের জানায়। পরে রাতে
বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর মোরশেদ আলম আকাশ ভূক্তভোগী ছাত্রী ও বাসা মালিকের সাথে মুঠোফোনে কথা বলেন।
পরে পরামর্শক্রমে এলাকাটি ঝিনাইদহ জেলার শৈলকূপা থানার অধীন হওয়ায় ভূক্তভোগীরা শৈলকূপা থানা পুলিশের ডিউটি অফিসারের কাছে ফোন দিয়ে বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করেন। এসময় কর্মরত পুলিশরা লিখিত অভিযোগ না পাওয়া পর্যন্ত কিছু করতে পারবে না বলে জানায়।
এদিকে রাত তিনটার দিকে আবারো জানালার পাশে বখাটেদের আওয়াজ পায় ছাত্রীরা। ফলে ফের চিৎকার করে উঠে তারা। এসময় তারা আবারো শৈলকূপা থানায় যোগযোগ করলে কর্মরত পুলিশরা এত রাতে সেখানে উপস্থিত হতে পারবেন না বলে তাদেরকে জানান।
পরে সর্বশেষ বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থানায় কথা বললে রাত চারটার দিকে ঘটনাস্থলে পুলিশ উপস্থিত হয়। এসময় পুলিশ তাদের জিঙ্গাসাবাদ করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে চলে যায়।
ঘটনায় বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম, সিকিউরিটি অফিসার রোজদার আলী রূপমসহ কয়েকজন ছাত্রীদের সাথে দেখা করতে তাদের মেসে যান। এসময় ছাত্রীরা তাদের মালামাল নিয়ে বাসা ছেড়ে চলে আসে।
ঘটনার বিষয়ে ভূক্তভোগীদের একজন জানান, ‘আমরা প্রায়ই এমন হাটাহাটির শব্দ শুনতাম। কিন্তু গত রাতে বখাটেরা আমাদেরকে উদ্দেশ্য করে খুব বাজে ভাষায় কথা বলছিল। সেসময় ওরা আমাদের শারীরিক বর্ণনা দিয়ে কথা বলতে লাগলো। আমরা খুব আতঙ্কে পড়েছিলাম। পরে বিষয়টি স্যারদের ও বন্ধুদের জানিয়েছি।
এবিষয়ে প্রতিবেদককে আরেক ছাত্রী জানান, গতকালের রাতটি নিরাপত্তাবিহীন খুবই দুর্বিসহভাবে কেটেছে আমাদের। আবাসিক হলসমূহ বন্ধ থাকায় আজ এই বিপদে পড়তে হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্তৃপক্ষের উচিত শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার বিষয়ে ভালোভাবে ভাবা।
এদিকে এরআগেও এই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের ¯œাতোকত্তর এক ছাত্রী রাতের বেলায় বখাটেদের উত্তক্ত্যের শিকার হয়েছিলো বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর রাত সাড়ে তিনটার দিকে আমাকে বিষয়টি জানালে তাৎক্ষণিকভাবে সেখানে পুলিশ পাঠানো হয়েছিল। তবে এবিষয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বিশ^বিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘রাতেই সহকারী প্রক্টর ছাত্রীদের সাথে কথা বলেছেন। সকালে প্রক্টরিয়াল বডি ও নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মেসে গিয়েছিলেন। ছাত্রীরা বাড়ি যেতে চাওয়ায় তাঁদেরকে মালামাল হলে রেখে বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এসময় তিনি আরও বলেন, আমরা মেস মালিকের সাথে কথা বলে অভিযুক্তদের নাম জানার চেষ্টা করছি। যেহেতু এটা ক্যাম্পাসের বাইরে তাই কারও নাম জানা গেলে আমরা সে অনুযায়ী অভিযোগ দাখিল করব।’
বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ আবদুস সালাম জানান, ‘আমি বিষয়টি নিয়ে প্রক্টর ও পুলিশের সাথে কথা বলেছি। যেন তারা বিষয়টি নিয়ে শক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করে। এছাড়াও অন্যান্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্যও নির্দেশ দিয়েছি।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here